Featured অস্ট্রেলিয়া ওশেনিয়া ভ্রমণ

প্রবাসীর চোখে সিডনির ফিস মার্কেট

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মেট্রোপলিটন এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের মাছের চাহিদার একমাত্র যোগানদাতা সিডনি ফিস মার্কেট গড়ে উঠে ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে। সিডনির মূল বাণিজ্যিক কেন্দ্র থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার পশ্চিমে একটি ছবির মতো ছোট্ট বে ঘিরে সিডনি ফিস হারবার এবং এর গা ঘেঁষেই সিডনি মাছের বাজারের অবস্থান।

২০০০ সালের নভেম্বরে আমার মা’কে নিয়ে সপরিবারে সিডনি বেড়াতে আসার পর এই ফিস মার্কেটে প্রথম আসি মজাদার ফিস এন্ড চিপস খেতে। এরপর  ২০০৭ সালে মাইগ্র্যান্ট হিসাবে স্থায়ীভাবে আসার পর, আরো বেশ কয়েকবার এখানে আসা হয়। শেষবার আমি পরিবারসহ সী ফুডস খেতে আসি  ২০১৫ সালের অক্টোবরে।

গেল বছর ডিসেম্বরের ৮ তারিখ শনিবারের ঘটনা। এদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকা সত্ত্বেও আমাদের তেমন বিশেষ কোনো ভ্রমণ পরিকল্পনা না থাকায়, জোহরের নামাজ পরেই হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেই সিডিনি ফিস মার্কেটে  যাওয়ার।

মেঘহীন নীল উজ্জ্বল আকাশে তাঁতানো ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার মধ্যেই আমরা যখন ফিশ মার্কেটের উদ্দেশ্য রওনা দেই, তখন ঘড়িতে বাজে দুপুর সোয়া ২টা। সকালে বেশ দেরিতে নাস্তা করাতে দুপুরের লাঞ্চের জন্য আমাদের তেমন কোনো তাড়া ছিলোনা।

সিডনি ফিস মার্কেটে লেখক

আমাদের বাসা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সিডনি ফিস মার্কেটে আমার পৌঁছাই দুপুর প্রায় সোয়া ৩ টার দিকে। কারপার্কে প্রবেশ করতেই দেখি, লোকজন তখন ফিস মার্কেট থেকে খাওয়া দাওয়া শেষে সবেমাত্র বাড়ি ফেরা শুরু করেছে। শেষবার ২০১৫ সালের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষায় এবার আমরা একটু দেরিতেই আসি। কারণ সেবার লাঞ্চ টাইমে খাবার কিনে বসার জন্য টেবিল না পেয়ে আমরা অনেক্ষন দাঁড়িয়ে ছিলাম খাবার হাতে নিয়ে।

১৯৪৫ সালে এই ফিস মার্কেট সরকারি মালিকানায় চালু হলেও ১৯৯৪ সালে এটি ব্যক্তি মালিকানায় রূপান্তরিত হয়। প্রায় ৫-৬ একর আয়তনের এই কমপ্লেক্সে আছে পাইকারি নিলামের একটা বেশ বড় আড়ত ঘর। এখানেই সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সোম থেকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হয় রেজিস্টারড পাইকারদের নিলাম বাজার।

এই মার্কেটের সাথেই লাগোয়া ফিস হারবারের আসা সব ট্রলারগুলো সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সাগর থেকে ধরা মাছ এনে এই আড়তে জমা করতে থাকে। ভোর সাড়ে ৪টা থেকে আসা সব পাইকারি ক্রেতারা তাদের চাহিদা ও পছন্দ মতো মাছগুলো ভালোভাবে একনজর দেখে নেয় নিলাম শুরুর আগেই।

১৯৮৯ সাল থেকে প্রবর্তিত ডাচ ক্লক একশান নামের আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে মূল পাইকারি নিলাম শুরু হয় ভোর সাড়ে ৫টা থেকে। খুবই দ্রুত এবং কার্যকর এই নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিদিন ৫০-৫৫ টন সীফুড বিক্রি হয়ে তা খুচরা মালিকদের মাধ্যমে পৌঁছে যায় সিডনির আনাচে কানাচে সব মাছের দোকানসহ বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরায় গোটা শহরের সব মৎস ভোজন বিলাসীদের কাছে সকাল ৯টার আগেই। আর আমাদের ব্যাঙ্কস্টাউন এর লবস্টার টাইল সীফুডস নামের মাছের দোকানটিও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

ফিশ মার্কেটটি সিডনির একমাত্র পাইকারী মাছের বাজার হলেও প্রায় ৬,৫৮২ বর্গ মিটার আয়তনের এই কমপ্লেক্সের মূল মার্কেট ভবনের ভেতরেই আছে মোট পাঁচটি সীফুড রেস্তুরাঁ। এই সীফুড রেস্তুরাঁ ছাড়াও মূল মার্কেট ভবনের বাইরে আছে আরো ছোটবড় গোটা ছয়েক সীফুড রেস্তরা।

এই রেস্তোরাগুলো প্রতিদিনই সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত, বিশেষ করে সাপ্তাহিক বা সরকারি ছুটির দিনে জমজমাট থাকে রকমারি সীফুডের স্বাদে রসনা তৃপ্তির জন্য ছুটে আসা হাজার লোকের ভিড়ে।

এছাড়াও এই কমপ্লেক্সে আরো আছে গোটা চারেক খুচরা মাছ বিক্রয়ের দোকান, সুশি বার, বেইকরি, গিফট শপ, ফ্রুট ও ভেজিটেবল মার্কেট, ফুলের দোকান, মাংসের দোকান ইত্যাদিসহ একটা সীফুড কুকিং স্কুলও। এর সাথে আছে এই ফিস মার্কেটে আগত দর্শনার্থীদের জন্য কমপ্লেক্সের ভেতরে ও বাইরে মনোরম আর আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা।

  • মহিউদ্দিন কিবরিয়া, সিডনী, অস্ট্রেলিয়া 

আরও পড়ুন- লিসবনে ‘হ্যালো পর্তুগাল উৎসব’ অনুষ্ঠিত

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.