Featured মধ্যপ্রাচ্য সৌদি আরব

“আপনার কষ্টের উপার্জন না জেনে এভাবে দিবেন না”

শেয়ার করুন

আমি আর আমার এক বন্ধু সেদিন পাসপোর্ট নবায়নের জন্য সকাল ৯ টার দিকে জেদ্দার কনস্যুলেটে যাই। সৌদিতে আসার পর এই প্রথম কনস্যুলেটে গেলাম। গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে একজন এসে বলল, ভাই পাসপোর্ট রিনিউ করবেন? আমরা শুধু তার কথার উত্তরে হ্যাঁ বলে তাকে এড়িয়ে চলে গেলাম কনস্যুলেটের ভেতরে।

বুঝতে পারলাম দালাল হবে হয়তো। ভেতরে ঢুকে হটলাইনে বসে থাকা একজনকে জিজ্ঞেস করলাম মোবারক ভাই আছেন? তিনি বললেন না উনি তো দুপুর ২টার পর আসেন। তারপর আমি বললাম, আমার পাসপোর্ট রিনিউ করবো, উনি একটা ফরম দিয়ে বললেন- এটা পূরণ করুন, পাসপোর্ট এবং আকামার ফটোকপি করুন। ফটোকপি করাতে কনস্যুলেটের পাশের এক দোকান গেলাম। নাম তানিয়া লাইব্রেরী।

ফরম হাতে দেখেই দোকান থেকে একজন বয়স্ক লোক বলল- পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য দরকারি ফটোকপি এবং ফরম পূরণ করা বাবদ ১০ রিয়াল খরচ হবে। আমি বললাম ভাই, ফরম আমিই পূরণ করবো আপনি শুধু ফটোকপি করে দিন। আমার সাথে থাকা আমার বন্ধু রুবেল মোক্তবা ষ্টেশনারীতে কাজ করে। তার এগুলোর সম্পর্কে ভালো ধারনা আছে বিধায় সে বলল ভাইয়া, আপনি কয় পৃষ্ঠা ফটোকপি করবেন? দোকানদার বলল তিন পৃষ্ঠা। সে জিজ্ঞেস করলো- বেশি নিচ্ছেন কেন? উনি বলল- আমাদের রেটই এটা, তাই এই দামই দিতে হবে।

সে দোকানে আরেকটা কাউন্টারে আরেকজন লোক কি যেন করছিল, সে হুট  করে বলে উঠলো ৩ টাকাই লাগবে করালে, করান না করালে নাই, আপনাকে এত কৈফত দেয়ার সময় নাই, ৩০ টাকার কাস্টমার কোন কথা কয় না, আর আপনি ৩ টাকার কাস্টমার হয়ে এত কথা বলেন কেন? জায়গা ছাড়েন কাস্টমারের চাপ এখন।

তখন বন্ধুর সাথে তার বাগবিতণ্ডা লেগে যায়, পরে আমি থামিয়ে এতটুকু বললাম- ভাই আপনি আমার আর মুরুব্বির কথার মাঝে কথা বলে চরম অন্যায় করেছেন, কোন ভদ্র বা স্বাবাভিক মানুষ এটা করে না। আমার বন্ধুও তারে ইচ্ছেমত বলে দিছে কারন সে সীমা অতিক্রম করেছে। এমনকি যে বয়স্ক চাচার সাথে কথা বললাম সেও ওই লোকটার উপরে রাগান্বিত।

এবার আমি বন্ধুকে থামিয়ে চুপচাপ কাগজ গুলো ফটোকপি করে টাকা দিয়ে যাওয়ার সময় দোকানের বয়স্ক লোকটি বলল- ভাই আপনি চাইলে আমি কলম দিবো এখানে বসে ফরমটা পূরণ করে নিন। সুন্দর ভাবে আমন্ত্রণ করেছে আমি উনাকে ধন্যবাদ দিয়েছি। এবং বলেছি সমস্যা নেই আমি ভিতরে গিয়ে পূরণ করবো।

এবার ওই লোকটা বয়স্ক লোকটিকে বলল- এত সার্ভিস দেয়ার দরকার নেই, বেশি কথা বলেন আপনি। পরে আমার বন্ধু আর আমি তাকে এভাবেই বলেছি- মাথাটা ঠান্ডা আছে তাই সকাল সকাল আপনি বেচে গেছেন, না হলে পুলিশ আনতাম আজকে এখানে। সৌদি আরবে এসে প্রথম কনস্যুলেটে গিয়েছি তাই ঝামেলা করতে চাইনি।

এদের কাছে টাকাটাই মুখ্য। আর কনস্যুলেটে যারা সেবা নিতে আসে সহজ সরল প্রবাসীরা তারা জানেও না যে তারা হটলাইনে যোগযোগ করলেই ফরম পেতে পারে। এছাড়া আশেপাশে অনেক লোকজন থাকে যারা লিখতে পারে তাদের সাহায্য নিতে পারেন। এছাড়া ফরম পূরণের  নিয়ম কনস্যুলেটের ভেতরে বড় করে দেয়া আছে। আপনার কষ্টের উপার্জন না জেনে এভাবে দিবেন না।

আমার পিছনেই এক ভদ্র লোক সে ১০ রিয়াল দিয়ে ফরম পূরণ করিয়েছে। সেই দোকানে রিকোয়েস্ট করেছিল ৫ রিয়াল রাখার জন্য। কিন্তু রাখেনি তার কাছে কলমও ছিল, লিখতেও পারে। তবুও একটু খেয়াল না করে আমরা তাড়াতাড়ির জন্য এদের প্রশ্রয় দিচ্ছি। নিজে সচতেন হোন, অন্যকে সচেতন করুন।

  • নরুদ্দিন ফরহাদ, জেদ্দা, সৌদি আরব।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.