Featured সুস্থ থাকুন

পুদিনা পাতার যত গুণ

শেয়ার করুন

পুদিনা পাতা যেন অনেক রোগের মহৌষধ। বছরের যে কোনো সময়ে রোপণ করা যায় গাছটি। তবে একটু বিশেষ খেয়াল রেখে ডাল ভেজা বা আদ্র মাটিতে পুঁতে রাখলেই এই গাছ জন্মে। এছাড়া আবাদি অনাবাদি ও বনজ সব ধরনের হয়ে থাকে এটি। ভিজা পরিবেশে এবং আর্দ্র মাটিতে সবচেয়ে ভালো জন্মে। কাণ্ডসহ গাছটি ১০ থেকে ১২০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। ছোট গুল্ম জাতীয় গাছ। বহু বর্ষজীবী পাতা ডিম্বাকৃতি, সুগন্ধী যুক্ত। সবুজ। পুদিনা পাতা প্রাচীনকাল থেকেই বেশ জনপ্রিয় ওষুধ হিসেবে পরিচিত।

বহু রোগের আরোগ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পুদিনা পাতা এক ধরনের সুগন্ধি গাছ। এই গাছের পাতা তরি-তরকারির সঙ্গে সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশেই পুদিনার গাছ জন্মে। পুদিনা পাতায় ৪০-৯০ ভাগ মেনথল তেল পাওয়া যায়। যা বিভিন্ন পারফিউম, টুথপেস্ট, শ্যাম্পু ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। পুদিনা পাতায় আছে ভিটামিন এ ও ভিটামিন ডি। তাই এই পাতা আমাদের ত্বকের জন্য দারুণ উপকারি। সানট্যানের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পুদিনা পাতা বেটে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

ঔষধি গুণাগুণ : পুদিনা রুচিজনক অগ্নিবর্ধক, মুখের জড়তানাশক, কফ ও বাত নষ্ট করে, বলকর, বমন ও অরুচিনাশক, জীবাণুনাশক, জীর্ণতার সহায়ক, বায়ুবিকারে ঊপশামক, প্রস্রাব কারক, বমন নিবারক, অরুচি, হিক্কা, জ্বর ও জরান্তিক দুর্বলতা, ব্রঙ্কাইটিস, বাত ইত্যাদিতে ব্যবহার্য্য। এটিকে দিয়ে সুস্বাদু খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুত করা হয়। পাতার সঙ্গে অম্ল মিশিয়ে চাটনি উপাদেয় খাদ্য। এটি অরুচি নষ্ট করে ক্ষুধা বাড়ায়। মুখে দুর্গন্ধ হলে পাতার রস পানিতে মিশিয়ে কুলি করলে কাজ হয়।

অরুচিতে : রোগে ভোগার পর, পেটে বায়ু জমে ও কোষ্ঠ বদ্ধতায় অরুচি আসে। একই রকম খাদ্য দীর্ঘদিন খেলে অরুচি আসে। এসব ক্ষেত্রে পুদিনার শরবত (পুদিনার রস ২ চা চামচ, সামান্য লবণ, কাগজী লেবুর রস ৮/১০ ফোঁটা, হাল্কা গরম পানি পোয়া খানিক একত্রে মিশিয়ে) সকাল বিকাল দিনে দুই বার ৫/৭ দিন খেলে অরুচি চলে যায়। পুদিনা পাতা বেটে পানিতে গুলে শরবত করা যায়। সে ক্ষেত্রে কাঁচা পাতা ৮/১০ গ্রাম নিতে হবে।

পেট ফাঁপায় : সহজ কথায় পেটে বায়ু জমে যাওয়া। এ অবস্থা সৃষ্টি হলে নানা রোগ হতে পারে। বদ হজমের ফলে পেটে বায়ুজমে এবং পেট ফাঁপে। এ ক্ষেত্রে পুদিনার শরবত উপরিউক্ত পদ্ধতিতে সারাদিন ২ থেকে ৩ বার করে কয়দিন খেলে পেটে বায়ু জমা বন্ধ হবে। খাদ্যে রুচিও ফিরে আসবে।

বমিতে : পিত্তে শ্লেষ্মার জ্বর, অম্লপিত্ত, আমাশয়, অজীর্ণ, উদরশূল প্রভৃতিতে বমি হতে পারে। আবার রোদে ঘোরাফিরা করে ঠাণ্ডা পানি খেলে, খালি পেটে থেকে পরিশ্রম করলে বমি হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে পুদিনার শরবতের সঙ্গে এক চা চামচ তেঁতুল মাড় ও চিনি মিশিয়ে ২/৩ বার করে কয়দিন খেতে হবে।

মূত্রাল্পতায় : অনেক রোগে প্রস্রাব কম হয়। কিন্তু যে ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা গরমের ফলে সাময়িকভাবে অল্প অল্প প্রস্রাব হতে থাকে কোনো কোনো সময় দাহ হতে থাকে, সে ক্ষেত্রে পুদিনা পাতা ৮/১০ গ্রাম বেটে তাতে সামান্য লবণ ও কাগজি লেবুর রস ঠাণ্ডা পানি মিশিয়ে শরবত করে দিনে ২/৩ বার খেতে হবে। অন্য কোনো রোগে মূত্রাল্পতা হলে সে ক্ষেত্রে এটা ব্যবহার করা যাবে কিনা সেটা নির্ভর করবে রোগের ধরনের ওপর এবং চিকিৎসকের বিচার ধারার ওপর।

শিশুদের অতিসারে : পাতলা দাস্ত, সেই সঙ্গে পেট মোচড় দিয়ে ব্যথা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অল্প আম সংযুক্ত দাস্ত, সেসঙ্গে পেট ফাঁপা, হিক্কা বমি বমি ভাব, প্রস্রাবও সরলি হচ্ছে না, শিশু কিছুই খেতে চাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে পুদিনা পাতার রস ৮/১০ ফোঁটা অল্প একটু চিনি ও লবণ সহযোগে এক ঘণ্টা অন্তর কয়েকবার খাওয়াতে হবে। কখন কিভাবে কতবার খাওয়াতে হবে সেটা নির্ভর করবে রোগীর সুস্থতার ক্রমের দিকে লক্ষ্য রেখে। বয়স আনুপাতে মাত্রাটা ঠিক করে নিতে হবে।

অ্যাজমা : পুদিনায় রোজমেরিক এসিড নামের এক ধরনের উপাদান থাকে। এটি প্রাকপ্রদাহী পদার্থ তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে অ্যাজমা হয় না। এছাড়াও এ ঔষধি প্রোস্টসাইক্লিন তৈরিতে বাধা দেয়। তাতে শাসনালী পরিষ্কার থাকে।

এন্টিক্যান্সার : পুদিনায় আছে মনোটারপিন নামক উপাদান। যা স্তন, লিভার এবং প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। নিয়মিত খেলে ফুসফুস, কোলন এবং ত্বকের ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ঘাম নিয়ন্ত্রণে : যাদের শরীরে বেশি ঘাম হয় তারা পুদিনা পাতা ও গোলাপের পাপড়ি একসঙ্গে মিশিয়ে পানিতে ফুটিয়ে নিন। ঠাণ্ডা হলে সেই পানির সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ছেঁকে নিয়ে বোতলে করে ফ্রিজে রেখে দিন। গোসলের পর সারা শরীরে লাগান।

  • প্রবাস কথা ডেস্ক

আরও পড়ুন- দিনে ৮ গ্লাস পানি পান করা কতটা জরুরী?

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.