Featured পর্তুগাল

পর্তুগালে বাংলাদেশী কারী শিল্পের বিপ্লব !

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের কেন্দ্রস্থল ও ঐতিহ্যবাহী মার্তিম মনিজের বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা, রুয়া দো বেনফরমসোয় প্রবেশ করলে মনে হবে, এ যেন এক টুকরো ‘বাংলাদেশ’। এখানে বাংলাদেশীদের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল এবং চাইনিজ প্রবাসীরাও বসবাস করেছেন।

পর্তুগীজ সরকারের ঘোষিত সহজ ইমিগ্রেশন আইনে বৈধতা লাভের আশায় ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্তুগালে আসছে অসংখ্য অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশী। এর ফলে নতুন করে আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে পর্তুগালের মার্তিম মনিজ এলাকার ‘রুয়া দো বেনফরমসো’ নামক রাস্তাটি। বর্তমানে এখানে বাংলাদেশী রেষ্টুরেন্ট ব্যবসার জমজমাট অবস্থা বিরাজ করছে।

যদিও ১৯৯৫ সাল থেকে এ শিল্পে বাংলাদেশীদের পদচারণা শুরু কিন্তু এর বিকাশ লাভ করে ২০১৪ সালের শুরুর দিকে। একের পর এক গড়ে উঠে বাংলাদেশী মালিকানায় প্রায় ২০ টির মত রেষ্টুরেন্ট। এই এলাকায় প্রবেশ করলে যে কেউ বুঝে নেবে এখানে বাংলাদেশীদের বেশ ভাল আধিপত্য রয়েছে। রেষ্টুরেন্টের নামগুলোর সাথেও জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নানান ইতিহাস ঐতিহ্য এবং নিদর্শনের নাম।

যেমন স্পাইসি রেস্টুরেন্ট গ্রিল, স্পাইসি তান্ডুরী, সিতার, বেঙ্গল রেষ্টুরেন্ট, রাধুনী রেষ্টুরেন্ট, ঘরোয়া বাংলা রেষ্টুরেন্ট, বেঙ্গল ক্যাফে, বিসমিল্লাহ রেষ্টুরেন্ট-১, বিসমিল্লা রেষ্টুরেন্ট-২, ঢাকা রেষ্টুরেন্ট এন্ড সুইটস, বাংলা রেষ্টুরেন্ট, ফুড গার্ডেন, রুপসী বাংলা, এ এফ সি ক্যাফে এন্ড ফাস্ট ফুড, তাজমহল রেষ্টুরেন্ট, নিউ তাজ মহল রেষ্টুরেন্ট এবং মাতৃ ভান্ডার সহ আরো অনেক বাহারি নামের রেস্টুরেন্ট।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় স্পাইসি রেস্টুরেন্ট এন্ড গ্রিল ও স্পাইসি তান্ডুরী এর কর্নধর যৌথভাবে সুমন আহমেদ এবং মোঃ দেলোয়ার হোসেনের সাথে। জানালেন এই শিল্পের নানান সম্ভাবনার কথা। বাংলাদেশী কমিউনিটির মানুষসহ সাউথ এশিয়ান মানুষ সাধারণত খেতে আসে এখানে। পাশাপাশি বর্তমানে বিপুল সংখ্যক পর্যটক সহ স্থানীয় পর্তুগিজ মানুষজনও আসছে।

বর্তমানে বাংলাদেশীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এসব রেস্টুরেন্টে যুক্ত হয়েছেন উবার ইট, গ্লোব ও টেইক ওয়ে এর মত জনপ্রিয় অনলাইন ডেলিভারি সার্ভিস। যা এই ব্যবসার প্রসারে আরো জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন।

এমন অবস্থা দেখে পর্তুগাল ট্যুরিজম বোড, লিসবন মিউনিসিপালিটি ও স্থানীয় প্রশাসন পর্তুগালে ঘুরতে আসা টুরিস্টদের জন্য মার্তিম মনিজের ‘রুয়া দো বেনফরমসোকে’ বিশেষায়িত ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্ট জোন হিসেবে ঘোষনা করেছে। বাঙ্গালীর সাদামাটা খাবার এবং ভারতীয় নানান মাসালাদার খাবারসহ রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজে খাবারের ব্যবস্থা। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী পর্তুগীজ ও এ্যারাবিক খাবারও পাওয়া যায় এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।

বাংলাদেশ, ভারত তথা এই উপমহাদেশের মানুষ পর্তুগালের লিসবনে বেড়াতে আসলে ঘরের খাবারের স্বাদ পেতে একবার হলেও ডু-মেরে যেতে হয় রুয়া দো বেনফরমসোয়। সন্ধ্যা নামলেই বিপুল পরিমাণ অভিবাসী, স্থানীয় মানুষজন এবং বেড়াতে আসা পর্যটকের দেখা মিলবে এসব রেস্টুরেন্টে।

শুধু লিসবনে নয় এমনটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে সমগ্র পর্তুগালের বড় বড় সব শহরে। বিশেষ করে যেসব শহরে পর্যটকের আনাগোনা বেশি রয়েছে। পর্তুগিজরা আমাদের উপমহাদেশের খাবারের সাথে পরিচয় সেই পাঁচশ বছর আগ থেকে। তাই যেখানেই এমন রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ করেছে এর উদ্যোক্তারা।

ছবি ও প্রতিবেদন – মোঃ রাসেল আহম্মেদ, লিসবন, পর্তুগাল 

আরও পড়ুন – দক্ষিণ কোরিয়ায় চট্রগ্রাম এসোসিয়েশন সম্প্রীতির মডেল; রাষ্ট্রদূত

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.