Featured ইউরোপ পর্তুগাল

পর্তুগালে ইসলাম ও অভিবাসী মুসলিম

ইউরোপের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের দেশ পর্তুগাল । যদিও ৭১১ সাল থেকে ১৪২৯ সাল পর্যন্ত মুসলিম শাসনামল অতীত হয়ে যাওয়ার কারনে পর্তুগালে মুসলিমদের সংখ্যা শূন্যের কোটায় চলে এসেছিল। 

উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে আগত মুসলিমরা এখানে পুনরায় বসবাস শুরু করেন। এর মধ্যে অধিকাংশ মুসলিমই মোজাম্বিক ও গিনি থেকে আগত । এর পরের অবস্থানে আছে দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসী মুসলিমরা।

২০১৭ সালের হিসাব মতে পর্তুগালে মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ৩২ লাখ ৯ হাজার ৫০৬ জন। আর মুসলিমের সংখ্যা ৪০ হাজার। যেখানে রোমান ক্যাথোলিকদের সংখ্যা ৮১% আর সেখানে মুসলিমদের সংখ্যা মাত্র ০.৪%।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এতো অল্প সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠী কিভাবে পর্তুগালের অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে জোরালো ভুমিকা রাখছে। অনেকেই বলে থাকে বর্তমানে পুরো ইউরোপের মধ্যে একমাত্র পর্তুগালই মুসলিমদের জন্য নিরাপদ দেশ।

লিসবন এবং এর আশপাশের অঞ্চল মিলে পুরো পর্তুগালে ২১টির মত মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে । মোজাম্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অব পালমেলা , যেখানে সম্পূর্ণ ইসলামী রীতি নীতিতে শিক্ষা দান করা হয়ে থাকে।এবং বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত।

এই বিদ্যালয়ে ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি লন্ডনের কেমব্রিজ স্কুলের কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষা দান করা হয়।

হ্যাঁ এখানে মুসলিমদের পুর্ন স্বাধীনতা আছে সব ক্ষেত্রে । এখানে একজন মুসলিম দাঁডি রেখে পাঞ্জাবি পায়জামা পরে ঘুরে বেড়ালেও কেউ কিছু বলে না বা বাঁকা চোখে তাকায় না।

মুষ্টিমেয় কিছু লোকের মধ্যে ইসলাম বিদ্বেষ থাকলেও মুসলিমদের প্রতি সরকারের মনোভাব সহানুভূতিশীল হওয়ায় এরা কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে নিজেদের দুরে রাখেন। এখানে মোজাম্বিক মুসলিমদের যেমন অর্থনৈতিক , রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে জোরালো ভুমিকা আছে তেমনি করে বাংলাদেশি মুসলিমরাও এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে।

এখানে মোজাম্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সেন্ট্রাল মসজিদ ইন লিসবন ইউরোপের সর্ব বৃহৎ মসজিদ আমার দেখা মতে। এই মসজিদ কেন্দ্রীক মুসলিমদের জন্য অনেক কর্মসূচি পালন করা হয়। তার মধ্যে এই মসজিদে পবিত্র রমজান মাসে হাজার হাজার মুসল্লিদের জন্য ইফতার ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এই মসজিদের ইমাম সাহেবের হাত দরে অনেক অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে একজন নারী ও একজন পুরুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন । আমাদের বাঙালি কমিউনিটিও ধর্মীয় ব্যাপারে অনেক এগিয়ে আছে। লিসবনের প্রাণকেন্দ্র মার্তিমুনিজ এরিয়াতে বাংলাদেশিদের তত্ত্বাবধানে দুটি মসজিদ পরিচালিত হয়ে থাকে। এবং এই দুটি মসজিদেই পুরো রমজান মাস ব্যাপী সকল মসুল্লিদের জন্য ইফতার ও রাতের খাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন।

এছাড়াও মুসলমানদের সবগুলো ধর্মীয় অনুষ্ঠান এই সব মসজিদ কেন্দ্রিক সুষ্ঠভাবে সম্পাদন করা হয়ে থাকে। সব চেয়ে বেশি আনন্দের বিষয় হচ্ছে এই লিসবনের প্রাণকেন্দ্রে খোলা মাঠে হাজার হাজার ধর্ম প্রান মুসলিম পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। যেটা অন্য কোন অমুসলিম দেশে খুবই দুঃসাধ্য।

আর এই আয়োজন করে থাকেন বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পর্তুগাল। হয়ত এমন একদিন আসবে যে দিন মুসলিমরা খোলা মাঠে তাদের পশু কোরবানি করার সুযোগ পেয়ে যাবেন । মুসলমানদের সর্বশেষ আবাসস্থল হচ্ছে কবরস্থান।

তাছাড়া পর্তুগালের লিসবনেই মুসলিমদের জন্য স্থায়ীভাবে বিশাল কবরস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে সরকারিভাবে। সবশেষে বলা যায় পর্তুগালের সাধারন মানুষের কাছে মুসলিম সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আশা করা যায়।

জাহিদ কায়সার , প্রতিনিধি , প্রবাস কথা, পর্তুগাল 

আরও পড়ুন- কাতারে রমজানে মূল্যছাড়; ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.