Featured ইউরোপ

পর্তুগালে অভিবাসনের পর যা হয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য প্রতিবেদনঃ

আমরা যারা বৈধ কিংবা অবৈধ পথে ইউরোপের যে কোনো একটা দেশে প্রবেশ করার পর স্থায়ী হতে বা রেসিডেন্ট পারমিট পেতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হই, তখনই সবাই একমাত্র পর্তুগালকে শেষ আশ্রয় হিসেবে বেছে নেই এবং নিজের ক্যারিয়ার শুরু করে থাকি।

একটা সময় খুব কম মানুষই সরাসরি পর্তুগাল এসে বৈধ হওয়ার সুযোগ খুঁজতেন। অধিকাংশ মানুষই ইউরোপের অন্যান্য দেশ ঘুরে ব্যর্থ হয়েই পর্তুগালকে শেষ ভরসার স্থান হিসেবে গ্রহণ করতেন এবং বৈধতা পেয়ে থাকতেন। যদিও গত কয়েক বছর ধরে অনেকেই সরাসরি পর্তুগাল আসছেন পারিবারিক সহযোগিতা বা অন্য কোন পন্থা অবলম্বন করে।

এখানে মানুষকে খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয় না বৈধ রেসিডেন্ট হতে, যেমনটা করতে হয় ইউরোপের অন্যান্য দেশে। তারপরও মানুষের অভিযোগের কোন শেষ নেই, কিছু মানুষের মন্তব্য শুনলে মনে হয় পর্তুগাল সরকার আমাদেরকে বৈধ হওয়ার আবেদন করতে সুযোগ দিয়ে বড় অন্যায় করে ফেলেছে!

আমার দেখা গত আট-নয় বছরে পর্তুগালে অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ থেকে আরো অনেক সহজতর হচ্ছে। নির্দ্বিধায় বলা যায় বর্তমান সোশ্যালিস্ট সরকার পুরোপুরি অভিবাসী বান্ধব একটা সরকার। ইউরোপের অন্যান্য দেশে মানুষ বৈধভাবে এসে অবৈধ হয়ে যায়, সেখানে একমাত্র পর্তুগালে অবৈধভাবে এসেও বৈধ হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।

আগে পর্তুগালে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য রেসিডেন্ট পারমিট এর ছয় বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত ছিলো, যা কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে গত দুই-তিন বছর আগে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকেই লন্ডনে কিংবা অন্য কোন দেশে পাড়ি দিয়ে সেলিব্রেটি বনে গেছে! কিন্তু ন্যুনতম পর্তুগাল প্রবাসী হিসেবে পরিচয় দিতে অনেকেই লজ্জা বোধ করেন।

পর্তুগালে চাকরির ক্ষেত্রে বেতন সুযোগ সুবিধা ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে কম হলেও ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা অন্য দেশ থেকে অনেকাংশেই বেশি।

বৈধ কিংবা অবৈধ ভাবে পর্তুগাল আসার পর প্রত্যেকটি মানুষই রেসিডেন্ট পারমিট পাওয়ার জন্য সমভাবে আবেদন করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। সময় সাপেক্ষে প্রত্যেকটি মানুষ রেসিডেন্ট পেয়ে যান। এই অপেক্ষমান সময়ে অনেকেই পর্তুগাল সরকারের সমালোচনায় ব্যস্ত হয়ে যান। ভাবখানা এমন দেখায় মনে হয় পর্তুগাল সরকার উনাদের টাকায় চলে আর উনাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে রেসিডেন্ট দিতে বাধ্য।

সবচেয়ে বেশি অকৃতজ্ঞতার ভাব দেখায় তারাই, যারা ইউরোপের অন্য দেশ থেকে বাড়তি সুযোগ নিয়ে পর্তুগালে রেসিডেন্ট কার্ড পান এবং নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন। পাসপোর্টটা হাতে পাওয়া দেরি কিন্তু লন্ডন কিংবা অন্য দেশের টিকেট কাটতে দেরি হয়না। আর বলতে থাকে পর্তুগাল থাকার কোন জায়গা হলো নাকি?

যে দেশের রেসিডেন্ট পেয়ে আজ পাসপোর্ট হাতে নিয়ে অন্য দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন অন্তত পক্ষে সে দেশটাকে ভালো না বাসতে পারেন কিন্তু তাচ্ছিল্য করার অধিকার আপনার নেই।

সম্প্রতি পর্তুগাল সরকার নতুনদের জন্য আরো দুটি সুবিধা চালু  করতে যাচ্ছে।

  • প্রথম রেসিডেন্ট কার্ডের মেয়াদ দুই বছর করতে যাচ্ছেন, যা আগে এক বছর ছিলো। সেইসাথে দ্বিতীয় কার্ডের মেয়াদ তিন বছর করবে যা আগে দুই বছর ছিলো।
  • বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যে সময় সীমা নির্ধারণ ছিলো সেটারও সময় বৃদ্ধি করা হচ্ছে ।

ভবিষ্যতে হয়ত আরো অনেক সুযোগ সুবিধা অপেক্ষা করছে এই পর্তুগালে প্রবাসীদের জন্য। পরিশেষে সকল পর্তুগাল প্রবাসীদের বলতে চাই, পাসপোর্ট হাতে পেয়ে পর্তুগাল ত্যাগ করার সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে যদি কষ্ট হয় তবে অন্ততপক্ষে অশোভন আচরণ করা থেকে বিরত থাকুন।

  • জাহিদ কায়সার, প্রতিনিধি পর্তুগাল। 
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.