Featured বাংলাদেশ থেকে সুস্থ থাকুন

দেশে সনাক্ত হয়নি করোনা ভাইরাস; লাগামছাড়া মাস্কের দাম!

শেয়ার করুন

সম্প্রতি চীনের উহান থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ৩১২ জন বাংলাদেশিকে। তাদের মধ্যে ৭ জনকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ও একজনকে সিএমএইচে ভর্তি করা হলেও প্রাণঘাতী এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হননি কেউই।

গত বৃহস্পতিবার (৬ই ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেক স্বপন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,

দেশে বর্তমানে একজনও করোনা ভাইরাসের রোগী নেই। ভাইরাসটি প্রতিরোধে প্রস্তত বাংলাদেশ।

এদিকে বাংলাদেশে ভাইরাসের প্রকোপ না থাকলেও মাস্কের বাজারে ঠিকই বেড়েছে এর দাম। গত ৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) মহাখালীতে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরে করোনা ভাইরাস ঠেকাতে পদক্ষেপের সর্বশেষ তথ্য দেন সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

তিনি বলেন,

অনেকে দ্বিধায় রয়েছেন মাস্ক ব্যবহার করবেন, কি করবেন না। যারা চীন থেকে এসেছে তাদেরকে আমরা আইসোলেশনে রেখেছি। সুতরাং সবার মাস্ক ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এখনো মাস্ক পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে মাস্কের বাজারের চড়া দাম যেন লাগামহীন ভাবে বেড়েই চলেছে।

রাজধানীর মতিঝিলের একটি ফার্মেসীর ‘ফার্মাসিস্ট’ সাহেদ আলম ‘প্রবাস কথা’কে বলেন,

আগে এক বক্স সার্জিক্যাল মাস্কের দাম পড়তো ৮০ টাকা। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত এর দাম ছিল ৩৮০ টাকা। অথচ শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এর দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৫০ টাকায়।

বর্তমানে বাজারে মাস্ক কত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,

আগে এই মাস্ক ৫ টাকায় বিক্রি হত। এখন এর দাম বেড়ে ১০ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা হয়েছে।

বাজারে মাস্কের চাহিদা সম্পর্কে তিনি বলেন,

মাস্কের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তবে এক বার ব্যবহার (ওয়ান টাইম ইউজ) করা যায় বলেই এই মাস্কের দাম হয়তো এভাবে বাড়ছে।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সার্জিক্যাল মাস্কের পাশাপাশি এন-৯৫ মাস্কও ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সার্জিক্যাল মাস্কের চাহিদা বেশি বলেই এর দাম বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে চীনে থাকা কোন বাংলাদেশি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার চীনা দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।

রাষ্ট্রদূত লি জিমিং জানিয়েছেন, এই ভাইরাস প্রতিরোধে চীন সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। এছাড়া এখনো বাংলাদেশে থাকা কোনো চীনা নাগরিক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। এ সময় করোনাভাইরাসের কারণে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন ।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী সারা বিশ্বে ৩১ হাজারেরও অধিক মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.