Featured বাংলাদেশ থেকে

ঈদের ছুটিতে ৯৫টি সড়ক দুর্ঘটনা; নিহতের সংখ্যা ১৪২

শেয়ার করুন

ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর সড়কপথে দুর্ঘটনা বেড়েই চলে। এবারেও দুর্ভাগ্যবশত তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এ বছর ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৩২৪ জন

গত ৩০ মে বৃহস্পতিবার থেকে জুন রবিবার পর্যন্ত ১১ দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক আঞ্চলিক সড়কে সংঘটিত দুর্ঘটনায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল  ৯৫টি

আজ ১০ই জুন সোমবার নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির ঈদ যাতায়াত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এবার সড়ক ও নৌপথে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ছিল। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জনগণ প্রত্যাশিত সেবা পায়নি। বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ, অনলাইন নিউজপোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

এ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দূরপাল্লার সড়ক-মহাসড়কে বড় ধরনের যানজট ছিল না। নৌ ও রেলপথ ছিল দুর্ঘটনামুক্ত। মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপনা ভালো থাকায় পদ্মার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল নিরবিচ্ছিন্ন ছিল। এর ফলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগও ছিল স্বাভাবিক।

তাছাড়া প্রতিবেদনে যাত্রীভোগান্তির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ঈদ-সার্ভিসে পর্যাপ্তসংখ্যক লঞ্চ থাকায় ঢাকার সদরঘাট টার্মিনাল থেকে উপকূলীয় জেলাগুলোর সঙ্গে নৌ যোগাযোগ স্বাভাবিক ও যাত্রীভোগান্তি কম ছিল। তবে এক শ্রেণির নৌ শ্রমিক ও কর্মচারিরা ডেকের যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছেন এ বিষয়টিও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

এই অতিরিক্ত ভাড়া প্রসঙ্গে বলা হয়, অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে প্রযুক্তিগত সমস্যা ও ঈদ-যাত্রার প্রথম দিন থেকে দূরপাল্লার অনেক ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণে অগণিত যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। ঈদের আগে ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-পাটুরিয়া ও ঢাকা-ময়মনসিংহসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন সড়কে মাত্রাতিরিক্ত বাসভাড়া আদায় বন্ধ করা যায়নি। ঈদ-ফেরত যাত্রীদের কাছ থেকেও একইভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হলেও তা বন্ধ করতে পারেনি প্রশাসন। এমনকি লঞ্চ ও ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহনও বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

এছাড়া ঈদের ছুটিতে রাজধানীর মধ্যে চলাচলরত বাস ও অটোরিকশাগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করেছে। উবার ও পাঠাও’র মতো রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রী বহনকারি কোম্পানিগুলোও ঈদ-ছুটিতে তাদের ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়েছিল বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.