Featured এশিয়া দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার গুমিতে উজ্জ্বল বাংলাদেশের গল্প

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ একবিংশ শতাব্দীর নব বিস্ময়। একুশ শতকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাপক। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে একটি উন্নয়নশীল দেশ হয়েও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সারা বিশ্বের নিকট অনন্য মডেল। 

ক্ষুদ্র ঋণের সুষম ব্যবহার এবং দারিদ্র দূরীকরণে চমকে দেয়া তার ভূমিকা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন, ব্যবসা বসতি নীতি, বিদেশি বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদানসহ নানা বিষয়ে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ভেতর থেকে অনেক বদলেছে। বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রসঙ্গকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন ভ্রমণ সাফল্য গাথাঁয় দক্ষিণ কোরিয়ার গুমিতে গ্ল্যামার বাংলাদেশের উজ্জ্বল গল্প ফুটে উঠল।

সাম্প্রতিককালে আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়াও এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশে বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি এদেশে বাংলাদেশের রপ্তানিও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কোরিয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ সম্পর্কে আরও অধিকতর ধারণা দেয়ার লক্ষ্যে, বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক বিভিন্ন সভা, সেমিনার, মেলা আয়োজনের ধারাবাহিক কার্যক্রমের আওতায় গত ২৫ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে গুমি শহরের গুমি চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে “ডেভেলপমেন্ট জার্নি অফ বাংলাদেশ ” শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য যে, গুমি দক্ষিণ কোরিয়ার সর্ববৃহৎ অভ্যন্তরীন শিল্পাঞ্চল যেখানে ইলেকট্রনিক্স, টেক্সটাইলস, সাইবার, রাবার, প্লাস্টিক ও মোবাইলসহ অন্যান্য শিল্প কারখানা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ৭০০ এর অধিক কোম্পানী গুমি চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সদস্য।

তিন ঘন্টা ব্যাপী অনুষ্ঠিত উক্ত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন গুমি চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির’র চেয়ারম্যান মি. জু জাং মুন এবং প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত  ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম।

সেমিনারে কোরিয়ার বিভিন্ন কোম্পানীর মালিক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ মোট ৩০ জন ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে কোরিয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্থা (KOTRA) ও গুমি সিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারের শুরুতে রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম বিগত ১০ বছরের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রদত্ত সুযোগ সুবিধার প্রসংগ উল্লেখ করে কোরিয়ার ব্যবসায়ীদের এ সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান।

গুমি চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির’র এর চেয়ারম্যান মি. জু জাং মুন তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে তাঁর ধারনা তুলে ধরে, বাংলাদেশের ব্যবসায় সুযোগ গ্রহণের জন্য কোরিয়া ব্যবসায়ীদের আগ্রহের কথা জানান।

পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী, বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রদত্ত সুযোগ সুবিধা সহ সাম্প্রতিক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরেন। সেমিনারে বাংলাদেশের উন্নয়ন বিষয়ক একটি ডকুমেন্টারীও প্রদর্শন করা হয়। ‌

সেমিনারে পরবর্তী অংশে প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত কোরিয়া ব্যবসায়ীবৃন্দ ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের এবং ব্যবসা বান্ধব অবকাঠামোর বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

“ডেভেলপমেন্ট জার্নি অফ বাংলাদেশ ” শীর্ষক সেমিনার গুমি শহরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহের সৃষ্টি করে যা উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা যায়।

ওমর ফারুক হিমেল, সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.