Featured বাংলাদেশ থেকে

অগ্নিকান্ড এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকির মুখে ঢাকা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় বসবাররত ১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ অগ্নিকান্ডের পাশাপাশি ভূমিকম্পেরও ঝুঁকিতে আছে। ভবন তৈরির সময় ‘বিল্ডিং কোড’ মেনে না চলা এবং সেই সাথে যে কোনো আকারের দূর্ঘটনা প্রতিহত করার জন্য যথাযথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকার কারণে, এই শহরে বসবাসের ঝুঁকি অন্যান্য শহরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।
আবার বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন যে, ঢাকা শহরে কোনো দূর্ঘটনায় যতটা না ক্ষতি হয়, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয় দূর্ঘটনার পরবর্তীতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের অভাবে।
বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর ঢাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দূর্ঘটনাগুলোর প্রায় সবই অগ্নিকান্ড নির্ভর।
সম্প্রতি বনানীর অগ্নিকান্ড
চকবাজার, বনানী, গুলশান- এসব এলাকায় অগ্নিকান্ডই উদাহরণ যে, কতটা ঝুঁকির মধ্যে এ শহরের বাসিন্দারা বসবাস করে।
প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী, নগরায়ন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর নজরুল ইসলাম, স্থপতি এবং নগরায়ন পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব এবং বুয়েটের ‘সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগের প্রফেসর মেহেদি আহমেদ আনসারি– তারা সবাই এক বিষয়ে একমত যে,
“সাম্প্রতিককালে ঢাকা শহরের অগ্নিকান্ডের ঘটনারগুলো অপরিকল্পিত নগরায়নেরই ফসল। সেই সাথে এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ভবন তৈরির সময় ‘বিল্ডিং কোড’ মেনে না চলা, অসচেতনতা, গ্যাস সিলিন্ডারের অধিক ব্যবহার এবং কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারির অভাব।”
প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ভূমিকম্পের ব্যাপারে কোনো ধরণের পূর্বাভাস দেওয়া কারোর পক্ষেই সম্ভব না। তবে সিসমিক রিস্ক জোনে থাকা বাংলাদেশের শহর ঢাকা, ভূমিকম্পের মারাত্মক ঝুঁকিতে অবস্থান করছে। গার্মেন্টসগুলোর মত শহরের অধিকাংশ বহুতল ভবনেও নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ঢাকা
ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা
বনানীর এফ আর টাওয়ারের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় রাজউকের অনুমোদন না নিয়ে ভবনকে ১৮ তলা থেকে ২২ তলায় উন্নত করাকেই দায়ী করছে তদন্ত কর্মকর্তারা।
প্রফেসর মেহেদী আহমেদের মতে,
”রাজউকের অনুমোদন মেনে না চলা মোটেও অবাক করার মত বিষয় না। তাছাড়া অধিকাংশ বহুতল ভবনেই কোনো অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই।”
শুধুমাত্র অগ্নিকান্ডই নয়, ভূমিকম্পও এই শহরের জন্য অন্যতম বড় হুমকী।
প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেছেন,
‘এ শহরের অধিকাংশ ভবনই রাজউকের সঠিক নির্দেশনা না মেনেই তৈরি। ভয়ের ব্যাপার হলো এক থেকে দেড় লক্ষ মানুষই হয়তো মারা যাবে যদি বড় আকারের ভূমিকম্প ঢাকায় আঘাত হানে।”
ঢাকা
ঢাকার দৈনন্দিন চিত্র
তিনি আরও বলেন,
“ভূমিকম্প মোকাবেলায় এখনও কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে না। ৮০ শতাংশ ভবনই কোনো নির্দেশনা মেনে তৈরি হয়নি। যা এই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকগুণ বাড়িয়ে তুলবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা আর কর্তৃপক্ষের নজরদারিই পারে এই বড় দুর্যোগের ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমিয়ে আনতে। 
  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.