Featured বাংলাদেশ থেকে

ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে ইজিবাইককে চাপা দিল বাস, নিহত ৭

শেয়ার করুন

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ইজি বাইকের চালকসহ সাতজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জেলা শহর থেকে কাজী ব্রাদাসের যাত্রীবাহী বাসটি তেঁতুলিয়া যাচ্ছিল। মাগুরমারি এলাকায় একটি ছাগলকে পাশ কাটাতে গিয়ে বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা ইজিবাইকটিকে ধাক্কা দিলে ইজিবাইকটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনার এক পর্যায়ে ইজিবাইকটি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকের মধ্যে থাকা দুই দম্পতিসহ চালক মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় অন্য দুইজনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তারাও মারা যান।

মহাসড়কে ইজিবাইকের সাত যাত্রী নিহতের ঘটনায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সাধারণ জনগন।

মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ জনগন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশেও বাঁধা দেয়। এ দুর্ঘটনার জন্য হাইওয়ে পুলিশের অবহেলাকে দায়ী করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উপর চড়াও হন স্থানীয়রা। এ সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুঁড়ে বিক্ষুব্ধ জনতা। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় বিক্ষুব্ধদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াও হয়।

এদিকে ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপার ইউসুফ আলী ও জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিহত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তার ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক।

প্রত্যক্ষদর্শী নুর আলম বলেন,

যাত্রীবাহী বাসটি একটি ছাগলকে পাশ কাটাতে গিয়ে ইজিবাইকটিকে ধাক্কা দেয়। ইজিবাইটি দুমড়ে মুচড়ে বাসের নিয়ে চলে যায়। ওই অবস্থাতেই ইজিবাইকটিকে প্রায় একশ মিটার টেনে নিয়ে গেছে বাসটি। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন,

সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। বাস চালককে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে তা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন,

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া নিহত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থসহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান মাঝিপাড়া এলাকার নবদম্পতি লাবু ইসলাম (২৯) ও মুক্তি বেগম (১৯)। ৪১ দিন আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল। দুপুর দেড়টার দিকে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া জাতীয় মহাসড়কের মাগুরমারি চৌরাস্তা এলাকায় তাদের বহনকারী ইজিবাইকটিকে চাপা দেয় কাজী ব্রাদার্স নামে তেঁতুলিয়াগামী যাত্রীবাহী একটি বাস। সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়। এ সময় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে থাকা আরেক দম্পতিসহ আরও তিনজন মারা যান।

নিহত অন্যরা হলেন-

সদর উপজেলার সুরিভিটা এলাকার আকবর আলী (৭০) ও তার স্ত্রী নুরিমা বেগম (৫৫), একই উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের চেকরমারি এলাকার ইজিবাইক চালক রফিক (২৮), সাতমেরা ইউনিয়নের রায়পাড়া এলাকার ফরহাদ হোসেন মাকুদ (৪৫) এবং সাহেবজোত এলাকার আকবর আলীর স্ত্রী নার্গিস আক্তার (৪২)।

বছরখানেক আগে একই সড়কে ট্রাকের চাপায় ১২ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মাঝে।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.