Featured বাংলাদেশ থেকে রঙ্গের দুনিয়া

২৩তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী; শিল্পপ্রেমীদের শিল্পরাজ্য

শেয়ার করুন

জাতীয় চিত্রশালা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বৃহৎ মিলনায়তনের নাম। চিত্রশিল্পী, ভাস্কর এবং চিত্রপ্রেমীদের জন্য এই জাতীয় চিত্রশালা একটি অসাধারণ স্থান। যারা যেকোনো ধরণের চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য কিংবা স্থাপনাশিল্প পছন্দ করেন তাদের জন্য এই জাতীয় চিত্রশালা আয়োজন করেছে ১ মাসব্যাপী এক বর্ণাঢ্য আয়োজন। যদিও এই আয়োজনের অনেকটা শেষ প্রান্তেই দাঁড়িয়ে আছি আমরা।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর পৃষ্ঠপোষকতায় “২৩তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী ২০১৯” এর আয়োজন করেছে জাতীয় চিত্রশালা। এই চলতি মাসের প্রথম দিনেই শুরু হয়েছে এই আয়োজন।

সব মিলিয়ে মোট ৩১০ জন শিল্পীর বৈচিত্র্যময় শিল্পের সম্ভার রয়েছে এই মিলনায়তন জুড়ে। মিলনায়তনের  কোথাও রয়েছে ভাস্কর্য, আবার কোথাও দেওয়াল জুড়ে শোভা পাচ্ছে  চিত্রকর্ম। একই সাথে আছে স্থাপনাশিল্প কিংবা পারফরম্যান্স আর্টও।

এবারের চারুকলা প্রদর্শনীতে বিশিষ্ট শিল্পীদের কাজের পাশাপাশি একটি বড় অংশে নিজেদের কাজের মাধ্যমে ঠাঁই করে নিয়েছে সমসাময়িক শিল্পীরাও। চিত্রকলা, ছাপচিত্র, ভাস্কর্য, কারুশিল্প, স্থাপনা এবং ভিডিও আর্ট মাধ্যমের বহুমাত্রিক সব কাজ নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী। শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দেশের সবচেয়ে বড় এই প্রদর্শনীর এটি ২৩ তম আসর।

এবারের এই আয়োজন বেশ ব্যতিক্রম এবং ‘সামাজিক বার্তা’ প্রদর্শনে কমতি রাখেনি। মিলনায়তে প্রবেশের পূর্বেই দেখা যায় বাঁশের তৈরি একটি অভিনব চিত্রকর্ম। বেশ কয়েকটি বাঁশ মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে সিঁড়ি, আর এই সিঁড়ির উপরে রয়েছে একটি আসন। আপাত দৃষ্টিতে দেখে মনে হবে এই সিঁড়ির ধাপগুলোকে পেরোলেই সেই আসনে বসা যায়।

বাঁশের সেই ধাপ

কিন্তু খানিকটা মনোযোগ সহকারে দেখলেই টের পাওয়া যায়, সেই বাঁশের তৈরি ধাপগুলোর নিচে ঝুলছে সয়াবিন, সরিষা, জলপাইসহ বিভিন্ন ধরণের তেল সম্বলিত কয়েকটি পাত্র। অর্থাৎ, বর্তমানে কাউকে ‘তেল’ না দিলে বা মিথ্যে প্রশংসা না করলে সেই উঁচুতে থাকা আসনে জায়গা পাওয়া যায়না।

তেলের পাত্র

এ তো গেল বাইরের চিত্র। মিলনায়তনের তৃতীয় তলায় ঢুকলেই চোখে পড়বে সুবিশাল একটি বৃক্ষের স্থাপনাশিল্প।

শিল্পীর তৈরি বৃক্ষ

এই বৃক্ষে ঝুলতে থাকা কাচের কৌটোগুলোতে সাজানো আছে গাড়ি, বাড়ি এমনকী মানুষের অবয়বও! সুন্দর করে বোঝানো হচ্ছে সাধারণ মানুষের ‘সাধারণ’ চাহিদা।

কাচের কৌটোয় থাকা জীবন

অন্য গ্যালারিগুলোতেও কম নেই চিত্রকর্ম।  কোথাও বাস্তবধর্মী, কোথাও বাস্তব এবং কল্পনার মিশেলে তৈরি হয়েছে সুন্দর কিছু চিত্রকর্ম।

দাবার বোর্ড

এই পুরো প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায় এবছরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ফুটে উঠেছে এবারের আয়োজনে। শিল্পীর তুলের আঁচড়ে বাদ যায়নি চকবাজারের ট্র্যাজেডি কিংবা নারীদের প্রতি সহিংসতাও।

উচ্চারিত হয়েছে বেশ কিছু প্রতিবাদও
প্রতিবাদের চিত্র

দেশ-বিদেশ সব জায়গারই আলোচনার কেন্দ্রে থাকা নানা বিষয়ও ফুটে উঠেছে এই প্রদর্শনীতে। কখনোবা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবেও ধরা দিয়েছে এই নির্বাক চিত্র বা শিল্পকর্মগুলো।

প্রদর্শনীতে ছিল নারীদের পরিবর্তণের ধারাও

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগ ‘নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী’, ‘জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী’, ‘দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী’, ‘জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী’সহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রদর্শনী আয়োজন করে থাকে।

রঙ্গিন চিত্রকর্মও পেয়েছে স্থান

দুই বছর অন্তর আয়োজনের ধারাবাহিকতায় শিল্পকলা একাডেমি এবারও আয়োজন করেছে এই জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী।

প্রদর্শনী দেখতে গেলে অবশ্যই এই স্থাপনার পোকাগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিবেন

এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ২১ জুলাই ২০১৯ পর্যন্ত। প্রদর্শনীর সময় প্রতিদিন সকাল ১১ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। এই প্রদর্শনী সকলের জন্য উন্মুক্ত, তাই দেরী না করে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন অতিদ্রুত!

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.