Featured গ্রিস

গ্রীসে বৈশাখী উৎসব; এক বাংলাদেশি এক গ্রীক কর্মসূচি

প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গ্রীসের রাজধানী এথেন্সে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে ১৪২৬ বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনার সাথে উদযাপিত হয়েছে।

১৪ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দূতাবাস প্রাঙ্গণে বাংলা বর্ষবরণের লক্ষ্যে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বাংলাদেশি খাবার উৎসবের সাথে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গন বৈশাখী আল্পনা, বৈশাখী থিমের অলংকরন, নববর্ষের সাজ সজ্জাসহ বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত কড়া হয়। এবছর গ্রীসে বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল “এক বাংলাদেশি এক গ্রীক” কর্মসূচি।

এই কর্মসূচির মাধমে দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের অণুরোধ করা হয় প্রত্যেকে যেন একজন করে গ্রীক বন্ধুকে সাথে নিয়ে আসে। গ্রীসে বাংলা সাংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেবার উদ্দেশ্যে দূতাবাসের এই আয়োজনে সাড়া দিয়ে প্রবাসীরা গ্রীকদের সাথে নিয়ে আসেন এবং গ্রীক নাগরিকদের এক মিলন মেলাই পরিণত হয়ই দূতাবাস প্রাঙ্গণ।

গ্রীসে নিযুক্ত বাংলাদেশর রাষ্ট্রদূত মোঃ জসীম উদ্দিন ও তার সহধর্মিণী মিসেস শায়লা পারভিন দূতাবাসের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ বেলা ১২ টায় দূতাবাস প্রঙ্গনে গ্রীক নাগরিক এবং বাংলাদেশিদের সাথে নিয়ে বর্ষবরণ মেলার উদ্বোধন করেন।

এরপর বাংলাদেশি নাগরিকেরা মিলিতভাবে “ এসো হে বৈশাখ” গানটি পরিবেশন করেন। তাদের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বৈশাখকে স্মরণ করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, তাঁর সহধর্মিণী, দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং দূতাবাস পরিবারের সদস্যরা।

এ সময় বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রীসের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ গ্রীসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী এবং জেলা ও বিভাগ ভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠনের নেতরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর “বৈশাখী স্বাক্ষর লিপি” উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। এই স্বাক্ষর লিপিতে বর্ষবরণ সম্পর্কে মনের ভাব প্রকাশ করে গ্রীক এবং বাংলাদেশি নাগরিকরা। বৈশাখ উপলক্ষে দূতাবাসে নির্মাণ করা হয় “ গ্রীস বাংলা বৈশাখী বায়স্কোপ” এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী “পালকি”।

বাংলাদেশি পরিবার, নারী-পুরুষ, ছাত্র- ছাত্রী, সর্বস্তরের বাংলাদেশি এবং দূতাবাসের সদস্যগণ মেলাতে অংশগ্রহণ করেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১২ টি স্টলে বাংলাদেশি খাবার, তৈজসপত্র , শাড়ী, অলংকার সামগ্রী এবং আল্পনা সহকারে বাংলাদেশকে ফুটিয়ে তুলেন।

বাংলা নববর্ষের এই শুভদিনে দূতাবাসের রসনা কূটনীতি নামক কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী তিনটি রেস্টুরেন্টকে বিশেষ সম্মাননা পরস্কার প্রদান করা হয়। এবিসি রেস্টুরেন্ট, ঘরের স্বাদ এবং রয়েল স্পাইস রেস্টুরেন্ট দূতাবাসের রসনা কূটনীতি কার্যক্রমে অংশ নিয়ে গ্রীসে বাংলাদেশি খাবার জনপ্রিয়করনে বিশেষ ভুমিকা পালন করে যাছে।

স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের বিশেষ “ Pioneers in Culinary Diplomacy” বা রসনা কূটনীতির অগ্রপথিক” শীর্ষক পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশর রাষ্ট্রদূত।

এরপর বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দূতাবাসের সদস্যরা, স্থানীয় দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীবৃন্দ এবং শিশু-কিশোররা বৈশাখী ও লোক সংগীত, কবিতা, নৃত্য ইত্যাদি পরিবেশন করেন। শত শত নারী-পুরুষের আগমনে মুখরিত হয় দূতাবাস এবং সৃষ্টি হয় এক বর্ণিল মনরম পরিবেশের।

বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি, গ্রামীণ বাংলার বৈশাখী আবহে স্টলসহ দূতাবাস প্রাঙ্গণ হয়ে উঠে এক টুকরো বাংলাদেশ। এরপর আয়োজন করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। বিপুল উৎসাহে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাদ্যযন্ত্রসহ এ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।

সব শেষে দূতাবাসে একটি রেফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রদূত ও তাঁর সহধর্মিণী বিজয়ীদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরষ্কার প্রদান করেন। বর্ষবরণ উৎসব এবং উন্নয়ন মেলা গ্রীস প্রবাসীদের মধ্যে বিপুল উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে।

ছবি ও প্রতিবেদন – মুহাম্মদ আল আমিন, এথেন্স, গ্রীস  

আরও পড়ুন- বর্ণিল আয়োজনে পর্তুগালে বর্ষবরণ উৎসব

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.