Featured বাংলাদেশ থেকে রঙ্গের দুনিয়া

‘গণ্ডি’; আবার চলচ্চিত্রে ফিরছে পারিবারিক গল্প?

শেয়ার করুন

বেশ কিছুদিন যাবত চলচ্চিত্র পাড়ায় নেই কোনো হাঁক-ডাক। আয়নাবাজি, ঢাকা অ্যাটাক, দেবী ছাড়া তেমন সাফল্য (!) পায়নি কোনো ছবিই। ২০১৯ সালে ‘ইতি তোমারই ঢাকা’ ও ‘ন-ডরাই’ চলচ্চিত্র প্রেমীদের মাঝে কিছু উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারলেও তা ছিল খুবই সাময়িক। চলচ্চিত্রের এমন করুণ অবস্থায় ‘গণ্ডি’ চলচ্চিত্রটি নিয়ে হাজির হয়েছেন পরিচালক ফাখরুল আরেফিন।

কৌতুক রসাত্মে ঢাকা এই প্রণয়-চলচ্চিত্রের গল্প শুরু হয় একজন ৬৫ বছরের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান হিসাবরক্ষক আলী আজগরকে নিয়ে। পরবর্তীতে সিনেমার পর্দায় একে একে অংশ নেয় আজগর আলীর নাতনি ‘আজরা’, ডক্টর শামীমাসহ আরও অনেকে।

চলচ্চিত্র গল্পটিতে দুজন অপরিচিত প্রবীণ মানুষের মাঝে কিভাবে ‘বন্ধুত্ব’ তৈরি হয় সেই দৃশ্যায়ণ তুলে ধরা হয়। এরপর সেই বন্ধুত্বকে ঘিরেই সিনেমার গল্প এগিয়ে যায়। আজগর আলী ও শামীমা উভয়ের সন্তানই লন্ডনে থাকে। বহির্বিশ্বের এত উন্নত একটি দেশে বাস করেও ‘মুক্তচিন্তা’র অভাব যে সবাইকে তাড়িয়ে বেড়াতে পারে সে ঘটনাও খুব চমৎকার ভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে।

নির্মাতা ফাখরুল আরেফিনের ‘গণ্ডি’ চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে ১৩ টি হলে। বিপত্নীক পুরুষ অপরদিকে একজন স্বামীহীন নারীর মাঝে একটি সরল স্বাভাবিক ‘বন্ধুত্ব’ই অনেক সময় সমাজ মেনে নিতে পারেনা। ঠিক সেই জায়গাতেই চলচ্চিত্রের মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে।

চলচ্চিত্র দেখতে পারেন হলে গিয়ে

সিনেমাটির শুরুতে দর্শকদের হয়তো মনে হতে পারে ‘৬’ টি চরিত্র নিয়ে কিভাবে একটি চলচ্চিত্র সামনের দিকে আগাবে? তবে এখানে মূল চরিত্রে দুটিতে অভিনয় করেছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী ও সুবর্ণা মোস্তফা। অপরদিকে আলী আজগর তথা সব্যসাচীর ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাজনুন মিজান ও ছেলের বউ এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন অপর্ণা ঘোষ। অপরদিকে সুবর্ণা মোস্তফা তথা শামীমার কন্যার চরিত্রে অভিনয় করেন পায়েল মুখার্জী। এখানে বড় একটি চরিত্র, আজগরের নাতনির চরিত্রে অভিনয় করেন মুগ্ধতা মোর্শেদ। তাদের প্রত্যেকের অভিনয় যথেষ্ট সাবলীল ছিল এই পুরো গল্পকে সামনে এগিয়ে নিতে।

পুরো চলচ্চিত্রে ৪ টি মাত্র গান ছিল। তবে প্রতিটি গানই দৃশ্যের সাথে মানানসই। দৃশ্যপটের সাথে বেমানান এমন গান সিনেমাতে দেখা যায়নি।

অভিনয়ের দিক থেকে সুবর্না মোস্তফা ও সব্যসাচী চক্রবর্তী বরাবরের মতই সকল পরিক্ষা উতরে গেছেন। তবে মাজনুন মিজান ও পায়েল মুখার্জীর চরিত্রের অংশ অনেক কম ছিল, সেদিকে পরিচালক নজর দিতে পারতেন। শিশুশিল্পী হিসেবে মুগ্ধতার অভিনয় দর্শকদের কাছে ভাল লাগার অনেক জায়গা রয়েছে।

কিছু দৃশ্য যেমন আজগর আলীর মুখে ‘দিদা’ শব্দটি দর্শকদের কাছে একটু বেমানান ঠেকতে পারে। সিনেমায় ‘এস্ট্রোলজি’র ভূমিকা যথেষ্ট জোরালোভাবে দেখানো হলেও কোথাও একটু খাপ ছিল যা দর্শকের নজরে আসবে। তবে পুরো চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত কিছু ড্রোন শট বেশ নজর কেড়েছিল দর্শকদের।

সিনেমার গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুন্দরতালে গল্প এগিয়ে গেলেও গল্প বলার ধরণ একটু ধীরগতির মনে হতে পারে। নাহয় সেই সময়ের মাঝে আরও কিছু ঘটনা ঢোকানোর ক্ষেত্রে দর্শকদের মত থাকতে পারে।।

‘গণ্ডি’ চলচ্চিত্রের ইতিবাচক দিক হলও এখানে প্রবীণ বয়সের একাকিত্ব ও জটিল কিছু রোগের বিষয়েও তুলে ধরা হয়েছে। ‘ডিমেনশিয়া’ বা ভুলে যাওয়া রোগ সম্পর্কে সচেতন করতেও এই চলচ্চিত্র অনেকটাই সফল।

পুরো চলচ্চিত্রের শেষের দিকের কিছু দৃশ্যায়নে খুবই পরিণত আচরণ করেছেন পরিচালক। যেমনঃ ‘সামাজিক বন্ধন’ এর বিষয়ে আজগর আলীর ছেলের ভাবনাও এখানে সুপষ্ট ছিল। অপর্ণা ঘোষের আংশিক ‘খল’ চরিত্র দর্শকের মনে প্রভাব ফেলতে বিরত থাকেনি।

একসময় এই বন্ধুত্বের ভুল বুঝাবুঝি ছড়িয়ে পড়ে দুই পরিবারের মাঝে। সন্তানদের সাথে বাড়ে পিতা-মাতার দূরত্ব, কিন্তু এরপর?

এই চলচ্চিত্রের পুরো স্বাদ নিতে দর্শকদের হলে যেতেই হবে। নাহয় ‘ফ্রেন্ডশিপ হ্যাস নো ব্যারিয়ারস’ (বন্ধুত্বের কোনো গণ্ডি নেই) বুঝতে সারাজীবনই লেগে যেতে পারে।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.