Featured এশিয়া সিঙ্গাপুর

কোরান্টাইন সেন্টার থেকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল

শেয়ার করুন

সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ উপকূলরেখা জুড়ে যে দ্বীপগুলো রয়েছে, তারমধ্যে মেলাকা নদীর জলস্রোত এবং দক্ষিণ চীন সাগরের মধ্যবর্তী প্রবাহিত দ্বীপগুলো মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার নাবিকদের বিশ্রামস্থল হিসাবে খুবই পরিচিতি ছিলো। এইগুলোর মধ্যে কোরান্টাইন দ্বীপ (যা এখন সেন্ট জনস দ্বীপ নামে পরিচিত) ছিলো অন্যতম।

স্যার স্ট্যামফোর্ড রাফেলস ১৮০০ শতাব্দীর শেষের দিকে সিঙ্গাপুরের এই দ্বীপে একটি ব্রিটিশ বাণিজ্য বন্দর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তখন সিঙ্গাপুর মালেশিয়ার একটি ভূখণ্ড ছিলো। তিনি মালেশিয়ার স্থানীয় সরকারের সাথে আলোচনা করে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে সিঙ্গাপুরে কোন জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়া হবে না, যারা স্থানীয় সরকারের বিরোধিতা করবে।

যদিও প্রথমদিকে সিঙ্গাপুর বাণিজ্যিক দ্বীপ হিসাবে বেশি পরিচিতি ছিলো কিন্ত স্যার রাফেলস জানতেন যে এ দ্বীপটি “মালয়েশিয়ার প্রাচীন সমুদ্র রাজধানী” হিসাবে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মানুষের কাছে এক সময় পরিচিতি লাভ করবে।

১৮০০ শতাব্দীর শেষের দিকে আগত প্রবাসীদের রোগ প্রতিকার করার জন্য এই দ্বীপের পূর্ব প্রান্তে কোরান্টাইন সেন্টার নামক একটা হাপাতাল স্থাপন করা হয়, যা পরে লাজারাস দ্বীপ নামকরণ করা হয়েছিল। নতুন অভিবাসী ও দুর্লভ রোগে আক্রান্ত এবং রাজনৈতিক বন্দীদের আবাসস্থল ছিল এটা।

তখন চীন থেকে কলেরা ও অন্যান্য রোগে আক্রন্ত ১৩০০ যাত্রী এসেছিলো এখানে চিকিৎসা করতে। এরপর এই দ্বীপটিতে কলেরা, প্লেগ, চিকেনপক্স, হাম এবং অন্যান্য রোগের চিকিৎসা দেওয়া হতো।

বর্তমানে সিঙ্গাপুরে বিশ্বের সব চেয়ে ভালো ও উন্নত মানের চিকিৎসা দেওয়া হয় আর তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রোগী আসে চিকিৎসা করতে। তেমনি আমাদের দেশ থেকেও অনেকে আসেন মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল বা এনইউএইচ বা এসজিএইচ এ চিকিৎসা করতে। তাদের অনেকেই হয়তো এই ইতিহাস জানেন না।

সরকারের স্বদিচ্ছা ও জনগণের সহযোগিতা থাকলে ৫০ বছরে একটি দেশ কিভাবে বিশ্বের রোল মডেল হতে পারে, সিঙ্গাপুর সেটির উদাহরণ।

  • নাজমুল খান, সিঙ্গাপুর।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.