Featured খেলা

আগামীকাল পর্দা উঠছে কোপা আমেরিকার

আগামীকাল পর্দা উঠছে ২০১৯ সালের ‘কোপা আমেরিকা’র। যদিও এবারের আসরে ইনজুরির জন্য খেলতে পারছেন না নেইমার। কিন্তু তাতে কি আর জৌলুস কমে এই বিশেষ ফুটবল আসরের? ঠিকই দেখতে পাবেন লিওনেল মেসি, হামেস রদ্রিগেজ, অ্যালেক্সিস সানচেজ সহ, লুইস সুয়ারেজ, কুটিনহোদেরও।

এবারের ‘কোপা আমেরিকা’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্রাজিলে। আগামীকাল ব্রাজিল-বলিভিয়া ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে প্রাচীন টুর্নামেন্টের এবারের খেলা শুরু হচ্ছে। ২০১৯ সালের ৪৬তম কোপা আমেরিকায় দক্ষিণ আমেরিকার ১০ দল অংশ নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই ১০ টি দলের সাথে আরও মাঠে নামবে আমন্ত্রিত দুই দেশ ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতার ও ২০২০ অলিম্পিকের আয়োজক জাপানও।

তবে এই বছরের কোপা আমেরিকা লিওনেল মেসির জন্য একটু বেশিই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা কোপা আমেরিকার গত টানা দুই আসরে ফাইনালে উঠে টাইব্রেকারে স্বপ্ন ভেঙেছে মেসির আর্জেন্টিনার। এমনকী দুবারই আর্জেন্টিনা শিরোপা হারিয়েছে চিলির কাছে। তাই এবার মেসির শুধু শিরোপা উদ্ধারের লড়াইতেই নামতে হচ্ছেনা, সেই সাথে নিজেকে দাঁড় করাতে হচ্ছে দেশের হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি লড়াইয়ের মঞ্চেও।

২৪শে জুন লিওনেল মেসির জন্মদিন। সেক্ষেত্রে কোপা আমেরিকা আসর চলাকালেই নিজের ৩২তম জন্মদিনের কেক কাটবেন এই আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর। চতুর্বষীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট কোপা আমেরিকার ২০২৩’র আসরে মেসি আর খেলবেন না ধরেই নেয়া যায়। কেননা তখন মেসির বয়স হবে ৩৬। অপরদিকে ৩৫ বছর বয়সে ২০২২ বিশ্বকাপে খেলবেন মেসি,  এটি ভাবাও কঠিন।

তাই ধরে নেওয়া যায়, জাতীয় দল থেকে অবসরে যাওয়ার আগে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মেসির কোনো শিরোপা জেতার শেষ সুযোগ এই কোপা আমেরিকা। এ ব্যাপারে আর্জেন্টিনা দলে মেসির সতীর্থরাও এ নিয়ে জানিয়েছেন তাদের পরিষ্কার ভাবনা।

এই কোপা আমেরিকা আসরকে সামনে রেখে আর্জেন্টিনার তারকা স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরো বলেন,

‘মেসির জন্য একটি ট্রফি জিততে চাই। এবার এই ট্রফি পেতে জীবন বাজি লাগিয়ে দেবো আমরা।’

আর্জেন্টিনাকে গত ছয় বছরে পৃথক তিনটি বড় আসরের ফাইনালে নিয়ে গিয়েছেন লিওনেল মেসি একাই। তবে হয়তো নিয়তির দোষেই প্রতিবারই খালি হাতে ফাইনাল থেকে ফিরতে হয় মেসিদের।

ব্রাজিলে ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের (১১৮মিনিট) গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায় জার্মানি। এর এক বছরের মাথায় ‘২০১৫ কোপা আমেরিকা’ আসরে চিলির কাছে টাইব্রেকারে শিরোপা খোয়ায় আর্জেন্টাইনরা। একইভাবে পরের বছর কোপা আমেরিকার শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সেন্টেনারিওর ফাইনালেও সেই চিলির কাছে আবারও টাইব্রেকারে হেরে যায় মেসির আর্জেন্টিনা।

এ বছর বল পায়ে যথারীতি নিজের সেরা ফর্মেই রয়েছেন মেসি। ২০১৮-১৯ মৌসুমে বার্সেলোনার জার্সি গায়ে এই ক্ষুদে জাদুকর পেয়েছেন ৫০ ম্যাচে সর্বাধিক ৫১ গোল।

অপরদিকে কোপা আমেরিকার আগমুহূর্তে অনুশীলনকালে ইনজুরি নিয়ে আসর থেকে ছিটকে পড়েছেন ব্রাজিলের সেরা তারকা নেইমার। তবে ফর্ম নিয়েই কোপা আমেরিকায় খেলতে নামছেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস, রিচার্লিসনরা।

সেই সাথে ফর্মে রয়েছেন কলম্বিয়ার শীর্ষ স্ট্রাইকার হামেস রদ্রিগেজ, উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজরা, চিলির অ্যালেক্সিস সানচেজ-আরতুরো ভিদালরাও। কোপা আমেরিকার সর্বাধিক শিরোপা (১৫বার) জিতেছে উরুগুয়ে। আর আর্জেন্টিনা জিতেছে ১৪বার। তবে আর্জেন্টাইনরা সবশেষ এ শিরোপার স্বাদ নেয় দীর্ঘ ২৬ বছর আগে, ১৯৯৩ সালে। ব্রাজিলিয়ানরা এ শিরোপার স্বাদ নিয়েছে তৃতীয় সর্বাধিক ৮বার। ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত পাঁচ আসরে ব্রাজিল এ শিরোপা জিতেছে চার বার।

এবার শিরোপা কোন দেশে উঠবে তা জানা যাবে আগামী মাসের ৮ তারিখের ফাইনালের মাধ্যমেই।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.