Featured জাপান রঙ্গের দুনিয়া

কুমির যখন বন্ধু

আপনি আপনার বন্ধুকে নিয়ে হাঁটছেন রাস্তা দিয়ে, কিন্তু সব মানুষ উৎসুক দৃষ্টি ছুঁড়ে দিচ্ছে আপনার দিকে। আবার কিছু মানুষের কাছে আপনার মত আপনার বন্ধুটিও বেশ পরিচিত হয়ে গেছে। কিন্তু কেন জানি আপনার এই চারপায়ে হেঁটে চলা বন্ধুর কাছে কেউ আসতে চায়না।

আসতে চাইবেই বা কেন, যে বন্ধুর কথা বলছি সে যে একটি ‘কুমির’। জ্বী, বাস্তব জীবনে এমনই সরীসৃপ বন্ধু জোগাড় করেছেন নোবুমিৎসু মুরাবায়সি৷

জাপানের হিরোশিমার জনবহুল কুরে শহরের একটি ফ্ল্যাটে থাকে নোবুমিৎসু ও তার কুমির বন্ধু৷ বছর তিরিশ আগে এই কুমিরটিকে কিনে এনেছিলেন তিনি৷ সেদিনের কুমিরছানা এখন ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি লম্বা বিরাট এক দৈত্য বনে গেছে৷ তবুও ৬৫ বছরের নোবুমিৎসু এখনো পালছেন তার এই বন্ধুটিকে।

এই কুমিরকে পোষ মানানোর ব্যাপারে নোবুমিৎসু অবশ্য এখন নিজেই অবাক হোন।

তিনি বলেন,

প্রথমে ভাবতেই পারিনি এটা আমার সঙ্গে এমন করে থেকে যাবে৷ ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে আমার কাছে রয়েছে৷ একদম পোষ মেনে গিয়েছে৷

কুমির মনিবের ঘরেই একটা বড় বাথটব রয়েছে৷ সেই বাথটবে কুমিরটাকে ছেড়ে রাখা হয়৷ এই বাথটবই কুমিরের প্রিয় স্থান৷ খাওয়ার সময় হলে বড় বড় মুরগি-গোরুর মাংসের টুকরো খেতে দিতে হয় কুমিরটাকে৷

কুমিরের যত্ন নিতেও কমতি রাখেন না নোবু। এই কাজও নিজেই করেন মালিক ৷ দাঁত মাজা, মুখ ধোয়া হলেই ঘুমের পালা৷ তাঁর কোলেই ঘুমিয়ে পড়ে কুমিরটা৷

তবে কুমির বন্ধু আর তাঁর মনিব এর বিষয়টি খুব গুরুত্ব নিয়ে দেখছেন কুরে শহরের পৌর বিভাগ। তারা বুঝেছে এই বৃদ্ধ ও কুমির একে অপরের বন্ধু৷ তাই তাদের নিজের মতো করেই থাকতে দিতে হবে৷ এর জন্য প্রকাশ্যে কুমিরকে নিয়ে চলাচলের অনুমতি পেয়েছেন জাপানি বৃদ্ধ৷

এই অনুমোদন পাওয়ার পরই প্রায় সবখানেই তাদের অবাধ গতিবিধি৷ সেইসাথে প্রশাসনও চাইছে এই বন্ধুত্বের কথা সবার কাছে তুলে ধরতে৷ কেননা  কুরে শহরের অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ভিন্নধর্মী বন্ধুত্ব।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.