Featured আমেরিকা কানাডা

কানাডার ফুলের ঘড়ি

ছোটবেলায় বিটিভিতে বাংলা সিনেমা ‘দূরদেশ’ দেখে মনে হয়েছিলো কানাডা এতো সুন্দর দেশ ! শরমিলা ঠাকুর আর শশী কাপুরের সেই ‘যেও না সাথী’ গানের শুটিং হয়েছিলো নায়াগ্রা’র পাশ ঘেঁষে এবং ফ্লরাল ক্লক এর সামনে।

ছবিতে দেখেই কেন যেন মনের কোনে ইচ্ছা জেগেছিল, যদি কখনও সুযোগ হয় তাহলে কানাডা যাবো এবং এই জায়গাগুলো সামনে থেকে দেখবো, সৃষ্টিকর্তা মানুষের ইচ্ছে অপূর্ণ রাখেন না। আমার সেই ক্ষুদ্র ইচ্ছেও পূরণ হয়ে গেলো।

চমৎকার এই ঘড়িটি দেখে মন ভরে গেলো। ১৯৯৫ সাল থেকে আমি কানাডায় আছি, আর কত বার যে গিয়েছি এই ঘড়ি দেখতে তার কোনো হিসেব নেই।

নায়াগ্রা নদীর পাশ দিয়ে কিছু দূর এগিয়ে গেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, যা হাইড্র অন্টারিও নামে পরিচিত তা দেখা যায়, সেটি পেরিয়ে আরও কিছুদূর এগোলেই দেখা যায় এই ফ্লরাল ক্লক যা বাংলায় ফুলের ঘড়ি।

১৯৫০ সালে ৪০ ফুট ব্যাসের বিশাল এই ঘড়িটি নির্মিত হয়েছিলো। যা প্রথম ডিজাইন করেছিলেন হাইড্র অন্টারিওর একজন ইঞ্জিনিয়ার ডঃ রিচারড ল্যাংকেস্টার হ্যারেন এবং নির্মাণ করেছিলেন হাইড্র অন্টারিওর কর্মচারীরা। এখন পর্যন্ত এটি পৃথিবীর সর্ব বৃহত্তম ঘড়ি। এই ঘড়ির ডায়াল নানান রং এর ফুল গাছ দিয়ে বানানো।

বছরে দুবার এই ফুল গাছ বদলে ফেলা হয়। শীত ঋতু ছাড়া এই ঘড়িটি নানান ফুলে রঙিন থাকে। শীতে তুষার জমে সাদা থাকে , ফুল গাছ থাকতে পারে না। তবে ঘড়িটি সেই জন্ম থেকেই চলমান। হাইড্র পাওয়ার দিয়েই এটি চলে। কখনও থামেনি। প্রতি ঘন্টায় ঢং ঢং করে ঘন্টা বাজে। বিশাল এই ঘড়িটির বাহু গুলো লোহার পাইপ দিয়ে বানানো।

এখন পর্যন্ত এই অন্টারিও হাইড্রর শ্রমিকরাই এই ঘড়িটি রক্ষণাবেক্ষণ করে চলেছেন। এটি সব ঋতুতেই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

  • জেন্নিফার চয়নিকা, মন্ট্রিয়েল, কানাডা 

আরও পড়ুন- যাত্রীদের ফেলে আসা লাগেজ ফেরত দিচ্ছে হিমালয় এয়ারলাইন্স

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.