Featured কাতার ভ্রমণ মধ্যপ্রাচ্য

কাতার বিমানবন্দরে আমার কাজের অভিজ্ঞতা: পর্ব-২

প্রথম পর্বের পর…

নাইট ডিউটি শেষে চোখে অনেক ঘুম নিয়ে অ্যাটেন্ডেন্স পেপারে স্বাক্ষর করার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এমন সময় আমেরিকার বোস্টন থেকে একজন মহিলা আসলেন, তার ফ্লাইট হলো কাসাব্লাঙ্কা (মরক্কোর ফ্লাইট)।

তিনি আমার কাছে এসে আরবিতে জিজ্ঞেস করলেন- কফির দোকান কোথায়?

আমি হাত দিয়ে ইশারা করে দেখালাম।

তারপর তিনি আমাকে ইংরেজিতে বলা শুরু করলেন।(যদিও আমি ৮০% বুঝি, আর বলতে পারি ৪৫%)

বললেন-  আমার জন্য কফি নিয়ে আসো।

আমি বললাম- আমার যাওয়ার অনুমতি নাই। আপনাকে কফি নিয়ে আসতে হবে।

কর্কট ভাষায় আবার তিনি বললেন- তাহলে আমাকে কফি শপে দিয়ে আসো।

আমি বললাম- সাথে যাওয়ারও অনুমতি নাই। কফি শপে যেতে একমিনিট সময় লাগবে। তাছাড়া আমার যাওয়ার অনুমতি থাকলে, যেতে সমস্যা ছিলো না।

তিনি গাড়ি ছাড়া যেতে চাচ্ছেন না। একপর্যায়ে তিনি চলে গেলেন কফি শপে।

এদিকে আমি স্বাক্ষর করে অপেক্ষা করছিলাম, কারণ পরের ধাপের কর্মচারীরা আসলে আমাদের যেতে হয়। কিছুক্ষণ পর ওই ভদ্র মহিলা কফি হাতে আবার আমার কাছে আসলেন।

আমাকে জিজ্ঞাস করলেন- দেশ কোথায়?

আমি: বাংলাদেশ।

ভদ্র মহিলা: কোথায় বললা?

আমি: বাংলাদেশ।

ভদ্র মহিলা: সত্যি তুমি বাংলাদেশি?

আমি: এবার মাথা নাড়ালাম, হুম।

তিনি মুচকি হাঁসি দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে কফির কাপটা আমার হাতে দিলেন। তারপর ওনার ব্যাগ থেকে দুইটা ২০ ও একটা ১০ ডলারের মোট তিনটা নোট আমার হাতে দিলেন।

আমি হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম!

তিনি কফির কাপটা আমার হাত থেকে নিলেন, যাওয়ার সময় বললেন-

যেখানেই যাও না কেন, সব সময় নিময়-কানুন মেনে চলবে। 

 

  • মিল্লাত হোসেন, দোহা, কাতার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.