Featured আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র

করোনা ভাইরাস; “যুক্তরাষ্ট্রের বাফালোতে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে”

শেয়ার করুন

নিউইয়র্ক রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বাফালো। নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৪৫০ মাইল দূরে এর অবস্থান। বিখ্যাত নায়েগ্রা ফলস এখানেই। এখানেই কানাডার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত। নিউ ইয়র্ক সিটির সাথে বাফেলোর অনেক পার্থক্য রয়েছে।

প্রধানত শহরটা ঘন বসতিহীন এবং শান্ত। গত এক দশকের বেশী সময় ধরে এই শহরে ধীরে ধীরে বাংলাদেশীরা বসত গড়তে শুরু করে। গত ২-৩ বছরে নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে স্থানান্তরিত হয়ে প্রচুর বাংলাদেশী পরিবার বাফেলোতে স্থায়ী বসত গড়েছে।

বর্তমানে ২৫-৩০ হাজার বাংলাদেশী এখানে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছে বলে ধারণা করা হয়। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশীরা এই শহরে প্রচুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ গড়ে তুলেছে। ছোট পরিসরে বাংলাদেশীদের বসত হলেও এখানে নিউ ইয়র্ক সিটির মতো রেস্টুরেন্টে বসে আড্ডাবাজী নেই। ফুটপাত ধরে চলাচল এখানে খুবই নগন্য।

এখানের বাসিন্দারা মূলত গাড়ী নির্ভর। দোকান গুলোতেও ভীড় খুব কমই থাকে। যাতে পারসন টু পারসন কন্টাকের সুযোগ কম। যার ফলে এখানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমনও অনেকাংশে কম। তবে গত কয়েক দিনে সংক্রমনের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে।

বাফেলো সহ অনেকগুলো ছোট ছোট সিটি নিয়ে এরি কাউন্টি। করোনা ভাইরাসের তথ্যগুলো এরি কাউন্টির হিসেবেই আসে। আজ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে এরি কাউন্টিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এছাড়া সুস্থ হয়েছে  ১০০ জনের বেশি। এর মধ্যে বাফেলোতে আক্রান্ত ৩০০ জনের বেশি। এখনো কোন বাংলাদেশী আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি।

এখানে বাংলাদেশী কমিউনিটিকে ভাইরাস প্রতিহত করার বিষয়ে বেশ সচেতন মনে হচ্ছে। রেস্টুরেন্টে বসে আড্ডা না দিলেও এখানে হোম পার্টি হয় প্রচুর। করোনার আগমনে এখন এসব সম্পূর্ণ বন্ধ। মসজিদ গুলো বন্ধ। কিছু গ্রোসারিও বন্ধ। কেউ কারো বাসায় যাওয়া আসা বা দেখা পর্যন্ত করে না। কিছু লেনদেন করলে বাসার সামনে রেখে দেয়া হয়, হাতে হাতে হস্তান্তর করা হয়না।

ফুড স্টোর বা ফার্মেসীতে বাংলাদেশীদেরকেই ভালো প্রোটেকশন সহ দেখা যায়। কিন্তু আমেরিকানদেরকে তত সতর্ক হতে দেখা যায়না। তবে সবাই দূরত্ব বজায় রাখছে। সব সিটির মতো এখানকার বাংলাদেশীরা ভয়ে থাকলেও নিউ ইয়র্ক সিটির মতো তত আতংকিত বলে মনে হচ্ছেনা।

এর প্রধান কারণ, এখানে কোন বাংলাদেশী এপার্টমেন্ট বিল্ডিং এ থাকেনা। সবাই এখানে আলাদা বাড়ীতে থাকে। সব বাড়ী আলাদা আলাদা। দুই বাড়ীর মধ্যে যথেস্ট দূরত্ব আছে। ঘরে বা বাড়ীর আঙ্গিনায় হাটা চলার জন্য যথেষ্ট খোলা যায়গা আছে। ফলে গৃহ বন্ধী ভাবটা নেই। নিউইয়র্ক সিটির চেয়ে বাফেলো সিটির জীবন ধারণ প্রক্রিয়া অনেক রিলাক্স। এখানে ঘর থেকে বের না হয়েও থাকা ততটা কঠিন নয়। শুধু বাচ্চাদের খাবারের প্রয়োজন পড়লে সপ্তাহে একদিন আধা বা এক ঘন্টার জন্য বের হলেই চলবে। ফুড মার্কেট গুলোতে এখন তেমন ভীড় থাকেনা।

এছাড়া সব দোকানে দূরত্ব মেপে দাঁড়ানোর জন্য সিস্টেম করে দেয়া হয়েছে। ফলে ভালো প্রটেকশান নিয়ে ঘর থেকে বের হলে বাফেলোতে ভাইরাস সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। থাকা বা অবস্থানের পরিবেশ যেমনই হোক, নিজকে রক্ষা করার প্রক্রিয়া যথাযত পালন করতে না পারলে এই মরণ ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ।

  • শেখ ফরহাদ, বাফালো, যুক্তরাষ্ট্র। 
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.