Featured এশিয়া ভারত

করোনা উপসর্গের ভিডিওর সাথে মিল পাওয়ায় কৃষকের আত্মহত্যা!

শেয়ার করুন

চীনের উহান নগর থেকে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রকোপে আতংকে দিন কাটাচ্ছে বিশ্ববাসী। চীনসহ বিশ্বের মোট ২৯ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই করোনা ভাইরাস। সম্প্রতি এই ভাইরাসের আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন এক ব্যক্তি।

গত মঙ্গলবার ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর জেলার এক ব্যক্তি এই করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।আত্মহত্যা করা সেই ব্যক্তির নাম বালাকৃষ্ণান । তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।

বালাকৃষ্ণানের পরিবারের সদস্যদের দাবি, নিজেকে করোনা ভাইরাসের রোগী ভেবে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি। গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ৫০ বছরের ওই ব্যক্তির  মৃতদেহ গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া তিন জনই কেরালার বাসিন্দা। এখন পর্যন্ত ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায় করোনভাইরাস সনাক্ত হয়নি।

জানা গেছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঠান্ডা ও জ্বরে ভুগছিলেন আত্মহুতি দেওয়া সেই ব্যক্তি। ৫ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে গেলে জানা যায় তিনি মূত্রনালীর সংক্রমণে ভুগছিলেন। তবে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের পরেও যখন তার সর্দি, কাশি এবং জ্বর কমেনি, তখন তিনি আতঙ্কিত হতে শুরু করেন।

এ বিষয়ে বালাকৃষ্ণানের পুত্র বালামুরলী বলেন,

‘সোমবার সারাদিন করোনাভাইরাস আক্রান্তদের নিয়ে নানা ভিডিও দেখেছিলেন বাবা। এসব দেখে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বার বার বলছিলেন তারও একই উপসর্গ রয়েছে। এরপরই বাবা অন্যরকম আচরণ করছিলেন। করোনার ঝুঁকির বিষয়ে জানতে আমি রাজ্য সরকারের টোল-ফ্রি নম্বরে ফোন করি। ফোনে কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যেহেতু আমাদের কেউ চীন থেকে আসেননি ফলে চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিজেকে করোনা ভাইরাসের রোগী ভাবার পর থেকেই তিনি নিজেকে অপরাধী ভাবতে শুরু করেন। তার মাধ্যমে অন্যদের এই ভাইরাস ছড়াতে পারে এই ভেবে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, সোমবার রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বালাকৃষ্ণান বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। পরেরদিন মঙ্গলবার গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

বালাকৃষ্ণানের গ্রামের স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কর্মরত একজন বলেন,

 “গত কয়েকদিন তিনি (বালাকৃষ্ণান) মূত্রনালীর সংক্রমণ এবং সাধারণ সর্দিজনিত রোগ সারিয়ে তুলতে তিরুপতির রুইয়া হাসপাতালে যান। হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে তিনি আমাদের সাথে অদ্ভুত আচরণ শুরু করেছিলেন। করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছেন ভেবে তিনি আশেপাশের সবার দিকে  পাথর ছুঁড়ছিলেন। তিনি চাননি কেউ তার পাশে আসুক।”

এই আত্মহত্যার ঘটনায় থোত্তামবেডু থানার উপ-পরিদর্শক ভেঙ্কট সুবাইয়া সাংবাদিকদের বলেন,

ওই ব্যক্তির পরিবার অভিযোগ দায়ের করতে অস্বীকার করায় কোনও মামলা করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন,

‘গত কয়েকদিন তিনি অসুস্থ ছিলেন। তবে চিকিৎসকরা করোনাভাইরাসের কথা বলেনি। তবে ভয় থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে।’

উল্লেখ্য, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে চীনে আরও ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন আক্রান্ত হয়েছে আরও ৪ হাজার ৮২৩ জন। এ হিসেবে দেশটিতে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৪৮৩ জনের। অপরদিকে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৬৫ হাজার জন।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.