Featured এশিয়া জাপান

করোনা আতংকে ৩ হাজারেরও অধিক যাত্রী নিয়ে সমুদ্রে ভাসছে জাহাজ!

শেয়ার করুন

কোভিড-১৯ তথা করোনা ভাইরাসে সারাবিশ্বে বর্তমানে আক্রান্ত ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষ। চীনের বাইরে সর্বোচ্চ কোয়ারান্টাইন করা অবস্থায় আছে জাপানের ক্রুজ-জাহাজ ‘ডায়মন্ড প্রিন্সেস’। করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে সর্বমোট ৩৭১১ জন আরোহীকে রাখা হয়েছে কোয়ারান্টাইনে।

কেন এই কোয়ারান্টাইন?

গত মাসে ইয়োকোহামা বন্দর থেকে যাত্রা করে ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজটি দক্ষিণ জাপান, হংকং, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ান হয়ে আবার ইয়োকোহামায় ফেরে। ৩ হাজার ৭০০ এর বেশি যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই জাহাজে হংকংয়ের এক যাত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এরপরই  ক্রুজ শিপটিকে ১৪ দিনের জন্য জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে কোয়ারান্টাইন করে রাখা হয়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত জাহাজের কতজন?

এই জাহাজটির ৩ হাজারেরও বেশি আরোহীই বর্তমানে করোনার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪০ জন নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে জাহাজের মোট ১৭৫ জন নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। ভাইরাসে আক্রান্তদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হলেও বাকি যাত্রীদের রাখা হয়েছে জাহাজেই।

সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছেন জাহাজের ক্রুরা!

জাহাজের আরোহীদের মধ্যে বেশিরভাগই বিভিন্ন দেশের যাত্রী। ডায়মন্ড প্রিন্সেসের ক্রুদের অভিযোগ, যাত্রীরা হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় করে এই জাহাজে অবস্থান করছেন বলেই তাদের প্রতি সংবাদমাধ্যমের এত মনোযোগ।

যাত্রীদের সবাই নিজ নিজ রুমে বন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অন্য কারো সংস্পর্শে আসছেন না। তাদের সবাইকে একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে যেন তারা জাহাজের ডেকে কিছুক্ষণের জন্য অবস্থান করতে পারেন।

অথচ জাহাজের ১ হাজারেরও বেশি ক্রু-সদস্যগণ এখনো কাজে নিয়োজিত আছেন। যাত্রীদের মত তাদের কোনো কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়নি। ক্রুরা ইউনিফর্ম, মাস্ক এবং হাতের গ্লাভস পরেই যাত্রীদের সংস্পর্শে আসছেন ও জাহাজের পরিচালনা করছেন। এর ফলে যাত্রীদের চাইতে এই ক্রুদের করোনায় আক্রান্ত হবার ঝুঁকি অধিকহারে বেড়ে যায়।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজের ভারতীয় ক্রুরা সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

ক্রু বিনয় কুমার সরকার (৩১) বলেন,

“জাহাজটিতে ১৬০ জন ভারতীয় ক্রু আছেন। তারা যাত্রীদের তিন বেলার খাবার তাদের রুমে পৌঁছে দিচ্ছেন। তবে সবাই শঙ্কার মধ্যে আছে। পরবর্তীতে কে ভাইরাসে সংক্রমিত হবে”।

কি বলছে প্রশাসন?

ক্রুদের বিষয়ে জাপানের স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী গাকু হাসিমাতো বলেন,

আমরা জানি ক্রু সদস্যদের জন্য যাত্রীদের মত নিজস্ব রুম নেই। ক্রুদের জাহাজের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হচ্ছে এবং কাজ করতে হচ্ছে। অর্থাৎ এখানে কোনোভাবেই সমতা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেনা। তবে আমরা জাহাজের সবাইকে এই করোনা থেকে বাঁচতে বিধিনিষেধ মেনে চলতে বলছি।

অপরদিকে জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাতসুনোবু কাতো গত সোমবার জানান,

১৯ ফেব্রুয়ারি ক্রুজ শিপের কোয়ারান্টাইন সময় পার হবে। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে করোনাভাইরাস যাতে জাপানে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সবাইকে পরীক্ষা করা হবে।

তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োশিহিদে সুগা এ বিষয়ে বলেন,

সবাইকে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা কঠিন হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ডায়মন্ড প্রিন্সেস ছাড়াও কোয়ারান্টাইনে থাকা অপর জাহাজ ওয়ার্ল্ড ড্রিমের কোয়ারান্টাইন শেষ হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ড্রিম জাহাজটিতে ৩,৬০০ আরোহী ছিলেন। করোনাভাইরাস পরীক্ষা করে তাদের মধ্যে এর সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। এতে হংকংয়ে চার দিন কোয়ারান্টাইন থাকার পর জাহাজের আরোহীদের জাহাজ ছাড়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.