Featured অন্যান্য ইউরোপ

করোনাভাইরাস রোধে সতর্ক স্লোভেনিয়া

শেয়ার করুন

সংক্রমণ ব্যাধি করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। তাই প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের বিস্তার রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে স্লোভেনিয়া। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রী আলেস শাবেদার মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।  

স্লোভেনিয়ার পশ্চিমে ইতালির সীমান্ত রয়েছে এবং ঐতিহাসিকভাবে ইতালি এবং স্লোভেনিয়া বিভিন্ন ভাবে একে অপরের সাথে সংযুক্ত। স্লোভেনিয়ার সাথে ইতালির সীমানা বলতে গেলে প্রায় অরক্ষিত এবং যেহেতু স্লোভেনিয়ার জীবন যাত্রা ইতালির তুলনায় অনেকটা কম ব্যয়বহুল তাই গাড়ির পেট্রোলিয়ামসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করতে প্রচুর ইতালিয়ান স্লোভেনিয়াতে আসে।

স্লোভেনিয়ার একটি ছোটো শহরের নাম নোভা গোরিছা। এ শহরটি মূলত বিখ্যাত ক্যাসিনোর জন্য এবং ইতালির রাজনীতিতে ভ্যাটিকান সিটির প্রত্যক্ষ প্রভাব থাকায় ইতালিতে এখনও সে ভাবে ক্যাসিনোর প্রচলন না থাকলেও অনেক ইতালিয়ান গোরিজিয়ার সীমানা পেড়িয়ে চলে আসেন নোভা গোরিছাতে।

যেহেতু এ শহরটি মধ্য ইউরোপের ছোটোখাটো লাস ভেগাস বললেও ভুল হবে না। সাগর পথ কিংবা স্থলপথ সব দিক থেকেই স্লোভেনিয়া এবং ইতালি একে-অপরের সাথে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। আবার ব্যবসা কিংবা চাকুরি অথবা অবকাশ যাপন কিংবা ভ্রমণ সব দিক থেকেই প্রচুর স্লোভেনিয়ান প্রায়শ ইতালিতে যাতায়াত করেন।

স্লোভেনিয়ার রাজধানী লুবলিয়ানাতে অবস্থিত ইয়োজে পুচনিক বিমানবন্দর খুব বেশী বড় নয়। একই সাথে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রুটে পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকায় স্লোভেনিয়ার বেশীর ভাগ মানুষই ভেনিসের মার্কো পোলো ইন্টারন্যাশলান এয়ারপোর্ট, মিলানের মালপেনসা ইন্টারন্যাশলান এয়ারপোর্ট এবং বোলোনিয়ার গুগলিয়েমো মার্কনি ইন্টারন্যাশলান এয়ারপোর্টের ওপর বেশী মাত্রায় নির্ভরশীল।

তাই প্রত্যেক দিন যেমন স্লোভেনিয়া থেকে হাজারো মানুষ ইতালিতে যাতায়াত করে, ঠিক তেমনি ইতালি থেকেও অনেক মানুষ কোনও না কোনও কারণে স্লোভেনিয়াতে আসে।

আর গোটা ইউরোপ মহাদেশে এখন সবচেয়ে বিপদজনক অবস্থানে আছে করোনাভাইরাসে প্রাদুর্ভাবে। তাই ইতালি থেকে যে কোনও সময় স্লোভেনিয়াতেও এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে সেটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

স্লোভেনিয়া আয়তনে খুবই ছোটো এবং অনেক কম জনসংখ্যার একটি দেশ। তাই স্লোভেনিয়া থেকে সহজে এ ভাইরাসের বিস্তৃতি হাঙ্গেরি, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, মেসিডোনিয়া এ সকল দেশে ছড়িয়ে যেতে পারে।

তবে অস্ট্রিয়া ইতোমধ্যে যেভাবে ইতালির সাথে সাময়িকভাবে রেল ও সড়ক পথে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে স্লোভেনিয়ার পক্ষে সেটা করা অনেকটা অসম্ভব।

করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে ইতোমধ্যে ইউনিভার্সিটি অব প্রিমর্সকা সহ কপার, পোর্তোরস, ইজোলা অর্থাৎ আড্রিয়াটিক সাগরের তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে অবস্থিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত স্লোভেনিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া সর্বশেষ বিবৃতি অনুযায়ী স্লোভেনিয়াতে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত কোন ব্যক্তি শনাক্ত হয় নি।

  • রাকিব হাসান, স্লোভেনিয়া। 
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.