Featured অস্ট্রেলিয়া ওশেনিয়া

করোনাভাইরাস; অর্থনৈতিক মন্দার কবলে অস্ট্রেলিয়া?

শেয়ার করুন

বাজার অর্থনীতিতে কোনো পণ্যের মূল্য হ্রাসবৃদ্ধি নির্ভর করে ঐ পন্যের বাজার চাহিদার উপর। সারা পৃথিবীর চলমান কভিড -১৯ সংকটের প্রেক্ষিতে গোটা পৃথিবীর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া পৃথিবীর অনেক দেশেই এখন সীমিত হয়ে পড়েছে। উন্নত দেশগুলোতে ব্যবসা বাণিজ্য ও গাড়ির জন্য ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রয়োজন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এই প্রেক্ষিতে বড় বড় তেল কোম্পানির শেয়ারের দাম আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে গত কয়েক দিনেই।

অস্ট্রেলিয়াতে গতকালই কভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ তে পূর্ণ হয়েছে, এবং মৃতের সংখ্যা এ পর্যন্ত ৩ জন। এরমধ্যে আমাদের নিউ সাউথ ওয়েলসেই আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি, ৫৫ জন ও মৃতের সংখ্যা দুইজন। তবে এর মধ্যে অর্ধেকই সুস্থ হয়েছেন। গোটা অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলসের জনসংখ্যা এখন সবচেয়ে বেশি ৭৫ লক্ষের উপরে।

ইতিমধ্যে সিডনিতে দুটি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কভিড -১৯ সংক্রমণের জন্য। তাই, প্রায় ৫৩ লক্ষ জনসংখ্যার সিডনীতে বিপুল সংখ্যক লোকজন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ায় গত সপ্তাহ থেকেই জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু। বিগত কয়েক বছর যাবত সিডনিতে যেখানে পেট্রোলের দাম গড়ে প্রতি লিটার ১.৪০ – ১.৬০ ডলারে উঠা নামা করতো, সেখানে গত সপ্তাহ থেকে জ্বালানি তেলের দাম কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ১.২০ ডলারের নিচে।

এতো কম দামে পেট্রল কিনে যদিও এখন “স্বল্পকালীন সুখ” পাওয়া যাচ্ছে, তবে দীর্ঘকাল এই মন্দাভাব অস্ট্রেলিয়ার সার্বিক অর্থনীতির জন্য ভীষণ একটা অশনি সংকেত। ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিবিদরা বেশ জোরালো ভাবেই বলছেন যে, আরেকটি “বিশাল মন্দা” অস্ট্রেলিয়াকে আঘাত হানার বিষয়টা এই দেশের দোরগোড়ায়। এই বিপদ সংকেতে অস্ট্রেলিয়ার সরকার এখন নিকট ভবিষ্যতেই আরেকটি “মহামন্দার” ধাক্কা সামলানোর জন্য মরিয়া অবস্থায় আছে।

আজ সকালের টিভি খবরেই জানা গেল যে, প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এই সপ্তাহেই মাল্টি বিলিয়ন ডলারের “মন্দাকলীন অর্থনৈতিক প্রণোদনা” প্যাকেজ ঘোষণা করতে যাচ্ছেন।

বর্তমান সরকারের বিগত পরপর দুটি ইলেকশনে জয়লাভের পেছনে অন্যতম নির্বাচনকালীন ওয়াদা ছিল একটি “উদ্বৃত্ত অর্থনীতি” উপহার দেয়া। কিন্তু উপর্যপুরি খরা, দাবানলের পর চলমান কভিড-১৯ সরকার প্রদত্ত ওয়াদাকে অসম্ভব করে সরকারকে নিশ্চিতভাবে “ঘাটতি অর্থনীতির” দিকে ঠেলে দিয়েছে। সন্দেহ নেই, বিষয়টা এখন সাধারণ জনগণকেও গভীর মানসিক সঙ্কটে ফেলেছে।

  • মহিউদ্দিন কিবরিয়া, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া। 
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.