Featured রঙ্গের দুনিয়া

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০ তম জন্মবার্ষিকী আজ

আজ ২৫ শে মে, বাংলা সনের তারিখ মতে ১১ ইজ্যৈষ্ঠ। বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের এই দিনে বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য কিংবা জীবনধারার মাঝে নতুন জোয়ারের কলধ্বনিতে আবির্ভাব ঘটে ছোট্ট এক শিশুর। নাম তার দুখু মিয়া। পিতা কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুনের ঘরে জন্ম নেওয়া এই বিষ্ময় বালক নিজের দুঃখ ঘোচাতে না পারলেও ঘুচিয়েছেন সহস্র কোটি পাঠকের মনের বিষাদ।

কখনো তিনি বিখ্যাত প্রেমের কবি হিসেবে, কখনোবা সমাদৃত বিদ্রোহী কবির পরিচয়ে। তাঁর যেন কোনো তুলনা হয় না। তিনি তাঁর প্রতিটি সত্তায় অনন্য, তিনিই আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আজ এই অতুলনীয় ব্যক্তিত্বের ১২০ তম জন্মবার্ষিকী। তাঁর এই আনন্দঘন বিশেষ দিনকে ঘিরে সাজানো হয়েছে বেশ কিছু আয়োজন।

সরকারের পক্ষ থেকে কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান হবে কাজী নজরুল স্মৃতি বিজড়িত শহর ময়মনসিংহে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিকাল ৩টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সেইসাথে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তি নিকেতন, ভারত এর উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী এমপি এবং জাতীয় সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল।

প্রতিবছর জাতীয় কবির জন্মদিনে একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য বা ‘থিম’ নির্ধারণ করা হয়। এবছর কাজী নজরুল ইসলাম এর ১২০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নজরুল-চেতনায় বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’।

এছাড়াও দেশজুড়ে কবির স্মৃতিকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে উদযাপন করা হবে আরো বিভিন্ন আয়োজন। এর মধ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশাল, কুমিল্লার দৌলতপুর, মানিকগঞ্জের তেওতা, চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গাসহ, চট্টগ্রামে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় কবির ১২০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে।

১৯৭৬ সালের ২৯শে আগস্ট, বাংলা তারিখ মোতাবেক ১২ই ভাদ্র শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কালজয়ী কবি মৃত্যুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কবি নজরুল ইসলামকে সমাহিত করা হয়। সেখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন, কিন্তু তাঁর নিপুণ, নিঁখুত এবং নান্দনিক লেখনী এখনো বেঁচে আছে আমাদের মাঝে।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.