Featured আমেরিকা দূতাবাস খবর যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আরো স্বতঃস্ফূর্ত সেবা চায় প্রবাসীরা

মন্তব্য প্রতিবেদন

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো প্রবাসীদেরকে চাহিদা মোতাবেক কতটুকু সেবা প্রদান করছে, আমার ঠিক জানা নেই। তবে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস সম্পর্কে মানুষের রয়েছে নানা রকম অভিযোগ। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে তাদের সেবা প্রদানে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। বাংলাদেশ দূতাবাসের সেবা সম্পর্কে ফেসবুক পেজে আপনি যদি মানুষের রিভিউগুলো দেখেন তাহলে খুব সহজেই আপনার একটা ধারণা চলে আসবে তারা কেমন সার্ভিস দিচ্ছেন। রিভিউতে ৫ এর মধ্যে তাদের অর্জন ২.৪। মোট ২১০ জনের রিভিউ ছিল সেখানে।

দূতাবাসের সেবায় আমেরিকা প্রবাসীদের অসন্তুষ্টি

তার মানে, রিভিউ রিপোর্ট অনুযায়ী মানুষের সন্তুষ্টি অর্ধেকের চাইতেও কম। ওখানকার নিয়মিত সমস্যা হচ্ছে ফোন রিসিভ না করা। তারা কেউ ঠিক মতো ফোন ধরেন না। প্রতিদিন তারা যতই ব্যস্ত থাকুক, ফোনটা রাখা হয়েছে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করার জন্য। আবার রিভিউতে অনেকে বলেছেন- যদিও ফোন তারা রিসিভ করেন, কিন্তু যে কারণে ফোনটা দেয়া হয়েছে সেটার উত্তর দেবার আগেই রেখে দেন। খুব বেশি হলে উনারা শুধু বলেন- ’সব তথ্য ওয়েবসাইটে দেয়া আছে’। তারপর আর কোন কিছুই না বলে ফোন রেখে দেন। এখন একজন বয়স্ক ব্যক্তি যদি ওয়েবসাইট এর ব্যাপারে পুরো ধারণা না রেখে থাকেন, তখন উনার উপায় কি? উনি কার দ্বারস্থ হবেন?

এই জন্য একজন প্রবাসী হয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসকে, আরো স্বতঃস্ফূর্ত সেবা প্রদান করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে একটু শেয়ার করছি। গত সাত থেকে আট মাস আগে, আমার আম্মার পাসপোর্ট এর তারিখ এক্সপায়ার্ড হয়ে গেছে। তো আমি প্রায় পঞ্চমবারের সময় উনাদের একজনকে লাইনে পেয়েছি। বললাম- ’পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি কি ডকুমেন্টস লাগবে?’ উত্তরে উনি বললেন- ’সব কিছু ওয়েবসাইটে দেয়া আছে’। উনি ওই প্রান্ত থেকে যেভাবে উত্তর দিচ্ছেন মনে হচ্ছে উনি প্রচুর ব্যস্ত। একটা ফোন কলের উত্তর ঠিক মত দেবার জন্য দুই মিনিট সময় উনাদের নেই।ফোন রেখে দিতে দিতেই আরেকটি প্রশ্ন খুব দ্রুত করেছিলাম। জিজ্ঞেস করেছিলাম- ’আমি কি আম্মার পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য আম্মাকে সাথে নিয়ে আসবো?’ উনি বললেন- ’হ্যাঁ, উনাকে নিয়ে আসতে হবে, বাধ্যতামূলক।’

দূতাবাসের সেবায় আমেরিকা প্রবাসীদের অসন্তুষ্টি

সোমবার অফিস থেকে দুই ঘন্টার ছুটি নিয়ে আম্মাসহ রওনা দিলাম বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্দেশ্যে। আমার বাসা থেকে দূরত্ব প্রায় ৩২ মাইল। সেখানে যেতে সময় লাগে প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিটের মতো। আম্মা এমনিতেই অসুস্থ, তার উপর বাধ্য হয়ে নিয়ে গেলাম। দূতাবাসে গিয়ে দেখি সেখানে আমি ছাড়া আর কোন মানুষ নেই লাইনে। যাক মনে মনে খুশি হলাম, পনেরো মিনিটের মধ্যে কাজগুলো সম্পন্ন হয়ে যাবে। সামনে রিসেপশনে এক আপু বসেন। উনি কলিগদের সাথে খোশগল্পে মত্ত।

এরই মধ্যে আমাকে বললেন- ’কিভাবে সাহায্য করতে পারি?’ আমি বললাম- ’আম্মার পাসপোর্ট রিনিউ/নবায়ন করতে হবে, সেই জন্য আসা।’ উনি আমাকে তাৎক্ষণিক বললেন- ‘আপনার আম্মাকে নিয়ে আসার দরকার ছিল না রিনিউ করার জন্য। আপনি ফর্মটা বাসায় ফিল আউট করে উনার স্বাক্ষর নিয়ে আসলেই হতো।’

ততক্ষণে আমি উনাকে বললাম- ’আপনাদের এখান থেকে এক ভদ্রলোক আমাকে ফোনে বললো আম্মাকে নিয়ে আসতেই হবে। এবার আপনি বলুন এইসব তথ্য যে উনারা দেয় এগুলো কতটা যৌক্তিক?’ আমার কাজ হবার কথা পনেরো মিনিটের মধ্যে। কিন্তু আমার লাগলো এক ঘন্টা। আম্মাকে অসুস্থ অবস্থায় ঘন্টাখানেক ওখানে বসে থাকতে হলো। সত্যি বলতে কি, উনাদের সার্ভিস আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

দূতাবাসের সেবায় আমেরিকা প্রবাসীদের অসন্তুষ্টি

 

 

রিভিউতে প্রশ্নগুলো দেখার পর আরো বেশি মন খারাপ হয়েছিল। আমার ভাবতেই অবাক লাগে আমেরিকার মত একটা দেশে থেকেও তারা বাংলাদেশী স্টাইলে সব করে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, এখানে তারা আরো বেশি স্বাধীন। তাদের দরকার এইসব দেশগুলোতে আরো উন্নতমানের সার্ভিস দেয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত: আমরা বিদেশে এসেও একই ধরণের বা তার থেকে আরো খারাপ সেবা পাচ্ছি।

 

এগুলো সত্যি একজন বাংলাদেশী হয়ে অনেক হতাশাজনক। প্রবাসে এমনিতেই সবাই কষ্টে থাকে নানান কারণে, অন্ততপক্ষে বাংলাদেশ দূতাবাস উনাদের সেবার দিকগুলো বিচার বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে উন্নয়ন করবে সেই প্রত্যাশা এবং প্রবাসীরা যাতে আরো স্বতঃস্ফূর্ত সেবা পেতে পারে সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

  • গোলাম মাহমুদ, ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.