Featured ইউরোপ এশিয়া বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য

সাড়ে ১১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে ৭ মাসেই!

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ নির্ভর করে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের উপর। গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এই চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ১১.৪ বিলিয়ন বা ১ হাজার ১০৪ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। যা বাংলাদেশ টাকায় ৯৬ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকার সমমূল্যের অর্থ।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯০৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এই অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২১.৪৩ শতাংশ।

শুধু তাই নয় একক মাসের হিসাবেও বেড়েছে রেমিট্যান্সের পরিমান। এই অর্থবছরের জানুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দেওয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই ইতিবাচক ধারায় বাড়ছে রেমিট্যান্স আসার পরিমান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছর রেমিট্যান্সের জন্য সুখবর বয়ে আনা শুরু করে প্রথম মাস (জুলাই) থেকেই। জুলাই মাসে ১৫৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলার আসে রেমিট্যান্স হিসেবে।

এছাড়া একই অর্থবছরের আগস্ট মাসে আসে ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। ধারাবাহিকভাবে সেপ্টেম্বরে ১৪৭ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, অক্টোবরে ১৬৪ কোটি ডলার এবং নভেম্বরে ১৫৫ কোটি ৫২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে।

অপরদিকে গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ১৬৮ কোটি ৭০ লাখ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল এক মাসের হিসাবে বাংলাদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এখন পর্যন্ত এক মাসে সর্বোচ্চ ১৭৪ কোটি ৮২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে বাংলাদেশ। যা এসেছিল ২০১৯ সালের মে মাসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারির চেয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারিতে প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স বেশি এসেছে।

অর্থবছর হিসাবে ২০১৮-১৯-এ ১৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল আরো বেশি। সে অর্থবছরে ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ রেমিট্যান্স বেড়েছিল।

উল্লেখ্য, বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উত্সাহ দিতে রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। প্রবাসীরা এখন ১০০ টাকা দেশে পাঠানো হলে যার নামে টাকা পাঠাচ্ছেন তিনি ১০২ টাকা তুলতে পারছেন। এর মূল কারণ, বাংলাদেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখে প্রবাসীদের পাঠানো এই বৈদেশিক মুদ্রা।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.