Featured এশিয়া চীন বাংলাদেশ থেকে

“উহানে আটকে পড়া ১৭১ বাংলাদেশিক ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছেনা”

শেয়ার করুন

করোনা ভাইরাসে পুরো বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ৩২ হাজার মানুষ। এই ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের উহানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ৩১২ জনকে সম্প্রতি ফিরিয়ে আনা হয়েছে বাংলাদেশে। তবে এখনো ফিরতে আগ্রহী আরও ১৭১ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,

চীনের উবেই প্রদেশে আটকা পড়া ১৭১ জন বাংলাদেশিকে বিমানের ব্যবস্থা করতে না পারায় ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,

“চীন সরকার উহান নগরী পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। তখন উহানের এই বাংলাদেশি ছেলে-মেয়েরা আমাদের অনুরোধ করার পর আমরা চীনের সঙ্গে আলাপ করে এদের ফিরিয়ে আনতে রাজী করাই। চীন রাজী হওয়ার পর আমরা দেশ থেকে একটা বিমান ভাড়া করে ওখানে পাঠাই এবং তাদের নিয়ে আসি।”

তিনি আরও বলেন,”কিন্তু উহান নগরীতে উবেই প্রদেশের আরও বিভিন্ন জায়গায় কিছু বাংলাদেশি ছাত্র রয়ে গিয়েছিল, যারা তখন আসতে চায় নি। তারা মনে করেছিল বাংলাদেশে গেলে বরং তাদের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশংকা আছে।”

১৭১ জনকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান,

মোট ১৭১ জন বাংলাদেশি যারা প্রায় ২৩টি এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, তারা এখন ফিরে আসতে চাইছে। কারণ চীনা কর্তৃপক্ষ তাদের কোথাও বেরুতে দিচ্ছে না। যদিও তাদের খাবার-দাবার চীনা কর্তৃপক্ষ নিয়মিত সরবরাহ করছে।

৩১২ জনকে ফিরিয়ে আনার পর বিপাকে পড়েছেন সেই বিমানের পাইলট ও ক্রুরা। চীন থেকে ফেরার পর সেই ফ্লাইটের পাইলট এবং ক্রুদের কেউই এখন অন্য কোনো দেশে যেতে পারছেন না। তাদেরও ‘কোয়ারিনটিন’ এ রাখা হয়েছে।

এমনকী সেই ব্যবহৃত বিমানটিকে জীবানুমুক্ত করার পরও পুনরায় ব্যবহার করা যাচ্ছেনা।

এমন অবস্থায় বিমান বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আর বিমান পাঠানো হবেনা। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চীনের চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন,

আটকে পড়াদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হচ্ছে কোন বিমান পাওয়া যাচ্ছে না।আমরা যে ফ্লাইটটি উহানে পাঠিয়েছিলাম, সেটির পাইলট এবং ক্রুরাও এখন কোয়ারিনটিনে। তারাও কোথাও আর তাদের পূর্ব নির্ধারিত ফ্লাইটে কাজ করতে পারছেন না। এমনকি বিমানটিকেও কোয়ারিনটিনে রাখা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৮০০ জন মানুষ মারা গেছেন। উহান থেকে ফিরিয়ে আনা ৩১২ জন বাংলাদেশিকে রাখা হয়েছে হাজি ক্যাম্পে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদের কারোর দেহেই সনাক্ত হয়নি করোনা ভাইরাস।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.