Featured সুস্থ থাকুন

ই-সিগারেট; ৪৫০টি ফুসফুস রোগের কারণ যে যন্ত্র

শেয়ার করুন

বর্তমানে সাধারণ সিগারেটের পাশাপাশি ই-সিগারেটের ব্যবহারও ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মাঝে ই-সিগারেটের চাহিদা একটু বেশি। কিন্তু সম্প্রতি মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার পেছনে ই-সিগারেটের ভূমিকা রয়েছে বলে একটি গবেষণায় উঠে এসেছে।

ইউনিভার্সিটি অব এডিলেড এবং রয়্যাল এডিলেড হাসপাতালের একটি গবেষণায় জানা গেছে, ৪৫০ টিরও অধিক ফুসফুসজনিত রোগ ই-সিগারেট গ্রহণের ফলে হয়ে থাকে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৫ টি রোগ মৃত্যু ঘটাতে সক্ষম।

ই-সিগারেট

ই-সিগারেট কীভাবে কাজ করে?

এই সিগারেটের ভেতরে নিকোটিন, প্রোপাইলিন গ্লাইকল অথবা ভেজিটেবল গ্লিসারিন এবং সুগন্ধী মিশ্রিত থাকে। কিন্তু তামাকের ভেতর থাকা অনেক বিষাক্ত রাসায়নিকের তুলনায় (যেমন টার এবং কার্বন মনোক্সাইড) নিকোটিন তুলনামূলক কম ক্ষতি করে।

নিকোটিনের কারণে ক্যান্সার হয় না, কিন্তু সাধারণ সিগারেটে ভেতরে থাকা তামাকের কারণে ক্যান্সার হতে পারে- যার কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। লিথিয়াম ব্যাটারির মাধ্যমে কার্টিজে থাকা নিকোটিন, স্বাদ ও গন্ধমিশ্রিত ই-লিকুইড ও প্রপিলিন গ্লাইকল নামক রাসায়নিক পুড়িয়ে মস্তিষ্কে ধূমপানের মতো অনুভূতির সৃষ্টি করে ই-সিগারেট।

ই-সিগারেটে রয়েছে কার্সিনোজেনিক রাসায়নিক পদার্থ। যা ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। এছাড়াও ই-সিগারেটে থাকা রাসায়নিক পদার্থ ফুসফুসের রোগ ও শ্বাসযন্ত্রে ইনফেকশন ঘটাতে পারে বলে দাবি করছেন গবেষকেরা।

জরিপ কি বলছে?

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা দেশটির ৫৩০ জনের ফুসফুসজনিত রোগের সঙ্গে ভ্যাপিংয়ের যোগসূত্র থাকার কথা নিশ্চিত করেন। এর সূত্র ধরে গত ১৭ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর রয়টার্স ও ইপসোস একটি যৌথ  জরিপ পরিচালনা করে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্যাপিংয়ের কারণে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন।

এই জরিপের ২৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ধূমপান ছাড়তে মানুষকে সাহায্য করার ভালো উপায় হচ্ছে ভ্যাপিং। আর ৭৭ শতাংশ মানুষ বলেছেন, প্রচলিত সিগারেটের মতো ভ্যাপিংকেও শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

তবে এই জরিপের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আমেরিকান ভ্যাপিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট গ্রেস কনলেই।

তিনি বলেছেন,

বিভ্রান্তকর সংবাদগুলো অবিরতভাবে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ভ্যাপিং নয়, অন্য কোনো কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। যেমন অনেকে রাস্তা থেকে ই-সিগারেট কিনে তা ব্যবহার করে। সেখানে ক্ষতিকর উপাদান থাকে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছে সাধারণ সিগারেটের বিকল্প হিসেবে ই-সিগারেট প্রচলিত হলেও এটি কোনো অর্থেই ভাল বিকল্প নয়। বরং সাধারণ সিগারেটের চাইতে ই-সিগারেটের ক্ষতির মাত্রা আরও বেশি।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.