Featured ইউরোপ ইতালী

ইতালীতে একটি বিয়ে ও হৃদয় গভীরে প্রবাস কথা

শেয়ার করুন

২৮ জুলাই ইতালীর পালেরমোতে দু’জন প্রবাসী বাংলাদেশীর বিয়ে হলো। বরের নাম তাফাজ্জুল তপু, কনের নাম শারমিন। প্রবাসে হলেও বিয়ের আয়োজনটা একটু অন্যরকম ছিল।

অন্যরকম কিভাবে?

নানারকম সীমাবদ্ধতার কারণেই বিদেশে অনেক বাংলাদেশী কমিউনিটিতেই কোন বিয়ে সাধারণত স্বল্প পরিসরেই হয়ে থাকে। সবার অনেক ব্যস্ততা, পরিবারের লোকজন বেশী না থাকা- এরকম অনেক কারণ আছে। কিন্তু তপু এবং শারমিনের পরিবার সেই সীমাবদ্ধতার মাঝেও বিয়েতে উৎসবের আমেজ আনার চেষ্টা করেছিলেন।

দুই পরিবারই পালেরমোতে স্থায়ীভাবে বসবাস করে এবং অনেক আগে থেকেই তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। সেই সূত্রে নব দম্পতির পারষ্পরিক পরিচয় বা বোঝাপোড়াও আগে থেকেই। মাঝখানে শারমিন লন্ডনেও থেকেছে ২ বছর। খুব ছোটবেলা থেকে ইতালীতে থাকার কারণে তার বাংলা জ্ঞানও সীমিত।

এই বিয়েতে অতিথি আপ্যায়নের জন্য একটা রেস্টুরেন্ট ভাড়া করা হয়েছিল। সেখানে অতিথি ছিলেন ৩২৫ জন। এর মধ্যে অনেক স্থানীয় ইতালীয়ানও ছিলেন। পৌরসভা কর্তৃপক্ষকেও দাওয়াত করা হয়েছিল। ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেনি, কিন্তু শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন।

বিয়ের এত সব আয়োজনের মধ্যেও তপুর মাথায় ভিন্ন একটু চিন্তা কাজ করছিলো। চিন্তাটা হলো বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেসবুকের একটা বিশেষ গ্রুপে একবার হলেও লাইভে আসতে হবে। সেই গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে পারষ্পরিক যোগাযোগ বা আন্তরিকতা আবার পারিবারিক সম্পর্কের মতোই। তপুর চিন্তা ছিল লাইভ করতে পারলে সবার সাথে আনন্দ বা উৎসবটা ভাগাভাগি করে নেয়া যাবে।

কিন্তু এমন একটা অনুষ্ঠানের ভেতরে থেকে ফেসবুকে লাইভে যাওয়া কঠিন কাজ বটে এবং সেটা হয়নি শেষ পর্যন্ত। তারপর তপু অপেক্ষায় থেকেছে পরবর্তী সুযোগের জন্য। শেষ পর্যন্ত সুযোগটা এসেই গেলো। বিয়ের সাজেই একটা ছাদখোলা গাড়ি নিয়ে নিয়ে শহর ঘুরতে বেরিয়ে পড়ে নবদম্পতি।

গাড়িতে উঠে তপু ‘প্রবাস কথা’র লোগোওয়ালা একটা প্ল্যাকার্ড বের করে। সেখানে লেখা-

‘সুখে দুখে রঙ্গে প্রবাস কথার সঙ্গে’

শারমিন তো এটা দেখে অবাক। প্রবাস কথার সাথে সম্পৃক্ততার কথা শারমিন আগে থেকেই জানতো। কিন্তু বিয়ের দিনেও যে সেটা সাথে থাকবে তা ভাবতে পারেনি। সেখানে কি লেখা আছে তা পড়লো সদ্য বিবাহিতা শারমিন। তারপর তারা সেটাকে সামনে নিয়ে ছবিও তুললো।

ব্যাপারটা মজার। ইতালীর পালেরমো শহরো একটা ছাদখোলা বিএমডব্লিউ গাড়ি ছুটে যাচ্ছে এক বাংলাদেশী নবদম্পতিকে নিয়ে। তারা আবার প্রবার কথার প্ল্যাকার্ড নিয়ে ছবিও তুলছে। শুধু গাড়িতে নয় তারা সেখানকার একটা পার্কে গিয়েও ছবি তুললো এবং সেখানেও প্রবাস কথা তাদের সাথে থাকলো।

এ ব্যাপারে তপুর সাথে আমার কথা হয়। তপু জানায়-

আসলে বিয়েটা হওয়ার কথা ছিল ডিসেম্বরে। তারপর এপ্রিলেও একটা সময় ছিল। কিন্তু দুই পরিবারের নানারকম সমস্যার কারণে পিছিয়ে এই জুলাইতে চলে আসে। তখন থেকেই আমার পরিকল্পনা ছিল, বিয়েতে প্রবাস কথাও থাকবে। তাই কার্ডটা আমি করে রেখেছিলাম। আসলে যাকে হৃদয়ে ধারণ করি তাকে ছাড়া জীবনের এত বড় একটা উপলক্ষ্য পার করি কিভাবে?’

নবদম্পতির জন্য অনেক শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা। প্রবাস কথার পতাকা
পৌঁছে গেছে দুনিয়ার বহু প্রান্তে। দুনিয়ার সব প্রবাসী বাংলাদেশীর সুখ-দু:খ-রঙ্গ উঠে আসে এখানে। শুধু হৃদয়ের গভীরে কোন অনুভূতি থাকেলেই এটা সম্ভব।

  • মুঞ্জুরুল করিম, সম্পাদক, প্রবাস কথা 
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.