Featured ইউরোপ ইতালী

ইতালির পালেরমো, বদলে যাওয়া এক নগরের গল্প

শেয়ার করুন

ইতালীর দক্ষিনাঞ্চলের একটি গুরুপূর্ণ শহর সিসিলির পালেরমো। অর্থনৈতিক ভাবে ইতালীর উত্তরাঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণাঞ্চল অনেকটা পিছিয়ে। পালেরমো একটি বাণিজ্যিক নৌ-বন্দর ছাড়াও কৃষিজ সম্পদ উৎপাদনে ইতালীর অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এই শহরে বেকারত্ব একটি অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বেকারত্ব দূরীকরণ ও নগর উন্নয়নে ২০০৯ সালের দিকে কয়েক বছরের ব্যবধানে পালেরমো শহরের দুই প্রান্তে দুটি বড় শপিংমল উদ্ভোধন করা হয়।

এই শপিংমল বেকারত্ব দূরীকরণে কিছুটা উপকারে আসলেও শহরের ভেতরের ছোট ছোট দোকানিরা ক্রেতা সংকটে পরে যায়। সেই সময় পালেরমো সিটি কর্পোরেশন বায়ুদূষণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য আরেকটি বড় প্রকল্প হাতে নেয়।

শহরের দুই পাশের ওয়ার্ডগুলোর দূরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ট্রাম লাইন বসানোর কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু গাছপালা কাটার সিদ্ধান্ত নিলে, কিছু পরিবেশবিদ এর বাধা হয়ে দাঁড়ান। গাছপালা ধ্বংস করে নগর উন্নয়ন চায় না তারা। পরে সিটি কর্পোরেশন সে বাধা অতিক্রম করে নগর উন্নয়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কতটা জরুরী সেটি সাধারণ মানুষকে বুঝাতে সক্ষম হয়।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পর শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে শহরের আশেপাশে ব্যবসা-বাণিজ্য বিস্তৃত হতে থাকে। আর সাধারণ মানুষ সপ্তাহের শেষে কিংবা ছুটির দিন গুলিতে পরিবার নিয়ে কেনাকাটা কিংবা বিনোদনের জন্য এসব মেগা শপিংমলে যেতে বেশী আগ্রহী হয়ে ওঠে।

ফলে শহরের ভেতরের শত বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক দোকান সহ জুয়েলারী দোকানিরা কিছুটা লোকসানের মুখে পরে। তবে এসব দোকানের অনেকেই মেগা শপিংমলে তাদের দোকান স্থানান্তর করে ফেলেন। তাই শহরের ভেতরের দোকান খালি হতে শুরু করে। কিন্তু সে সময় শহরের প্রধান সড়কে পর্যটকদের আনাগোনা বেশি সেসব সড়কের অবস্থা ছিলো নাজেহাল। গণপরিবহন এবং ব্যক্তিগত গাড়ির যানজটে শহরের ভেতরের বাসিন্দারা প্রায় অসহায় হয়ে পড়েন।

সাধারণ মানুষকে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে পালেরমো সিটি মেয়র পরিবেশ দূষণ, যানজট ও পর্যটকদের চলাললের সুবিধার্তে শহরের কিছু রাস্তায় গাড়ি চলাচল সীমাবদ্ধ ঘোষণা করেন।

এর ফলে কিছু দোকানী তাদের ব্যবসায় লোকসান হবে বলে রাস্তায় আন্দোলনে নামে। কিন্তু নগর পরিকল্পনাবিদরা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বদ্বপরিকর। অনেক মিছিল সমাবেশ শেষে সেই কাজ বাস্তবায়ন হলে এর সুফল কিছুদুনের মধ্যেই মানুষের চোখে পরে।

আগে রাস্তায় যে ফুটপাত দিয়ে মানুষ চলাচলে কষ্ট হত আর যে সড়কে গাডড়ির যানজট লেগে থাকতো সেখানে গাড়ি চলাচলে সীমাবদ্ধতা করার পর সে রাস্তায় সকাল-বিকেল লক্ষ মানুষে ঢল নামে। বন্ধ দোকান গুলোতে কফি শপ, বার,  রেস্তুরা, আইসক্রিম এর দোকান সহ সুভেনির খুলতে শুরু করে। সাধারণ মানুষের জন্য পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর জন্য শহরের ভেতরেই যেন আরেক বিনদোন কেন্দ্র গড়ে উঠে।

এসব প্রকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা যেমন লাভমান হচ্ছেন ঠিক তেমনি সিটি কর্পোরেশন ও আর্থিক ভাবে লাভমান হচ্ছে।

  • তাফাজ্জল তপু,  প্রবাস কথা, প্রতিনিধি, পালেরমো, ইতালি।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.