Featured ইতালী

ইতালিতে বাঙ্কার ব্যবসা; বাংলাদেশীদের বেঁচে থাকার কাজ!

শেয়ার করুন

ইতালিতে যারা থাকেন তারা সবাই এই কাজটির সাথে পরিচিত। রাস্তা অথবা কোন সাপ্তাহিক বাজারে বড় বড় ছাতা লাগিয়ে এই ব্যবসা করে থাকে সবাই। শীত, রোদ বৃষ্টি ঝড় উপেক্ষা করে সপ্তাহে ৭ দিন এই ভাবে ব্যবসা করে থাকে সবাই। কারো কারো দিন শুরু হয় ভোর চারটা থেকে আর শেষ হয় বিকেল চারটার সময়।    

আবার অনেকের সারাদিনের পোস্ত ( জায়গায়) থাকে তাদের শেষ হয় রাত নয়টার দিকে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইতালিতে এই ব্যবসাটা খুবই জমজমাট। অনেক নামিদামি ব্র্যান্ডের পোশাক, জুতা, পারফিউম, আসবাবপত্র অতি অল্প মূল্যে পাওয়া যায় এদের কাছে। নামিদামি ব্র্যান্ডের নতুন কিছু কিনতে পারবেন ১০ ইউরো থেকে ৭০ ইউরোর মধ্যে। আর ব্যবহার করা কোন কিছু কিনতে চাইলে ১ ইউরো থেকে ১০ ইউরোর মধ্যে কিনতে পারবেন নামিদামি ব্র্যান্ডের জিনিসপত্র।

ছবি মাহমুদ শাহিন

একটা সময় ইতালিয়ানদের হাতেই ছিল এই ব্যবসা। বর্তমানে ইতালিয়ানরা এই ব্যবসা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে বিভিন্ন কারণে। এখন তাদের সংখ্যা খুবই কম। বর্তমানে মরক্কো সহ আমাদের বাংলাদেশীই বেশি জড়িত এই ব্যবসার সাথে। বাঙ্কারে ব্যবসা করে যে সবাই ভালো আছে তা নয়। অনেকেই আছেন যে থাকা খাওয়ার পরে সঞ্চয় বলতে আর কিছুই থাকে না।

আবার অনেকের মাসের শেষে ধার দেনা করে চলতে হয়। এর মূল কারণ হলো ভালো কোন ব্যবসায়ীক (পোস্ত) জায়গা না নিতে পাড়ায়। একটা ভালো জয়গা নিতে হলে ভাড়ার বিষয়টি ও সামনে চলে আসে। তাই অনেকেই সাহস করে উঠতে পারে না। অনেকেই অল্প পুঁজি নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছে।

বিশেষ করে রোম শহরে যারা থাকেন তাদের অনেকেই ভালো কোন কাজ না পেয়ে বাঙ্কারে কাজ করে। তাদের কাজ শুরু করতে হয় ভোর ৪/৫ টা থেকে এবং শেষ হয় কোন দিন বিকেল ৪/৫ টায় আবার অনেকের রাত ৮/৯ টায়। প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে বৃষ্টিতে ভিজে এই কাজ করে থাকে। এদের বেতনটা ও সামান্য!

প্রতিদিন ৩০ ইউরো থেকে ৫০ ইউরো পর্যন্ত হয়ে থাকে। ৫০ ইউরো পায় খুব কম লোকই, তবুও মানুষ এই বাঙ্কারে কাজ করে যায় শুধু বেঁচে থেকে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে। অনেকেই মালিকের কঠিন চোখ উপেক্ষা করে কাজ করে যায়।

সব কিছুর পরে বলতে মানা নেই যে বাঙ্কার আছে বলেই অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

 মাহমুদ শাহিন, ইতালি 

আরও পড়ুন-   বাংলাদেশি পাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্মাননা

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.