Featured রঙ্গের দুনিয়া সুস্থ থাকুন

যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি থেকে মুক্ত থাকা যেতে পারে

শেয়ার করুন

সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। কেননা আমরা সবাই এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কাজের উদ্দেশ্যে বা নিজেদের অবসরে ব্যবহার করার জন্য একাউন্ট খুললেও দিনশেষে দেখা যায়, প্রাত্যহিক কাজ ফেলে আমরা এসব মাধ্যমেই অধিক সময় ব্যয় করছি। আমরা অনেক সময় না বুঝেই এই আসক্তিকে আকড়ে ধরছি, যা কখনই উচিত নয়। হয়তো জেনে অবাক হবেন এই আসক্তিকে গবেষকগণ অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের সমতূল্য মনে করেন।

নিজেকে সবসময় এই মাধ্যমগুলোতে নিযুক্ত করবেন না
যে কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তি ক্ষতিকারক-
২০১৮ সালে এক পরিসংখ্যানের মতে, পৃথিবীর প্রায় ৩১০ কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে। যা পুরো বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৩ ভাগের ১ ভাগ। এমনকি মাত্র ১ বছরের মাথায় এই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ গুণ বেড়ে গিয়েছে।
ইউজারদের মধ্যে ৪৫% মানুষ রাতে ঘুমানোর জন্য বরাদ্দ সময় কমিয়ে ফেলে শুধুমাত্র এই সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য। তাছাড়া ৭১% মানুষ তাদের স্মার্টফোন ঘুমানোর সময় পাশে নিয়ে ঘুমায় যেন সকালে উঠে তাদের প্রথম কাজটি হয় নোটিফিকেশন ‘চেক’ করা।
যেভাবে এই আসক্তি থেকে বের হওয়া যেতে পারে-
  • এই আসক্তি থেকে বের হতে হলে আপনাকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে আপনি না চাইতেও এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। অর্থাৎ আপনি অনিচ্ছাসত্তেও এই আসক্তির বেড়াজালে আটকে পড়েছেন। যদি মেনে নিতে পারেন, তবেই আপনি পারবেন এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে। অন্যথায় সম্ভব নয়।

    এই এপসগুলো যেন আপনাকেই নিয়ন্ত্রণ না করে
  • নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। জ্বি, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে আপনার এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নোটিফিকেশন আসলে আপনার হার্ট বিট স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়ে যায় এবং আপনি উত্তেজিত হয়ে যান যতক্ষন না সেই নোটিফিকেশন খুলে দেখেন। তাই এই আসক্তি এড়াতে ফেসবুকে কত লাইক পড়লো, ইউটিউবে কত ভিউয়ারস হলো, ইন্সটায় কে ফলো করলো- এসব নোটিফিকেশন অপশন বন্ধ করে দিন। দেখবেন কাজ অনেক সহজ হয়ে গেছে।
  • এই মাধ্যমগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সময় কমিয়ে আনুন। এখন প্রায় সব স্মার্টফোনেই একটি ফিচার আছে আর তা হলো ‘ইউজার এক্টিভিটি’। এই ফিচার একেক ফোনে একেক নামে থাকতে পারে। এর মাধ্যমে খুব সহজেই দেখতে পাবেন আপনি কোন এপস এ কত সময় ব্যয় করছেন। যদি এই ফিচার নাও থাকে তবে ঘড়ি ধরে এপস ব্যবহার করাই উত্তম। আর সেই সময় কখনই একটানা ৩০মিনিটের বেশি না আর সারাদিনে ৩ ঘন্টার বেশি না।
  • বই পড়ুন অথবা আপনার পছন্দের কাজ করুন। আপনি যদি বই পড়েন তাহলে একসাথে দুটো কাজ হবে। প্রথমত আপনি নতুন জিনিস জানতে পারবেন, দ্বিতীয়ত আপনি এই ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমগুলোতে অপ্রয়োজনীয় সময় ব্যয় করতে পারবেন না। অন্যান্য শখের বেলায়ও একই উপদেশ খাটবে।

    বইকে নিজের সঙ্গী বানাতে পারেন
  • নিজেকে এবং পরিবার-পরিজনদের সময় দিন। দিনের বেশিরভাগ সময় হাতে মোবাইল বা অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক প্রযুক্তি না রেখে নিজেকে সময় দিন। নিজের যা পছন্দ সেসব করুন। পরিবার বা প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে যেতে পারেন বা একসাথে সময় কাটাতে পারেন। আপনার মনে রাখতে হবে ভার্চুয়াল জীবনের আপনার বাস্তবজীবনের অংশ মাত্র, পরিপূরক নয়।
  • অন্যকে দেখানোর উদ্দেশ্যে বা বানোয়াট কোনো কিছু প্রকাশ করার অভ্যাস তৈরি করবেন না। বরং যথাসম্ভব নিজের সত্যটাই এসব মাধ্যমে প্রকাশ করুন। শুধুমাত্র যোগাযোগের উদ্দেশ্যে বা বিশেষ কোনো কাজ ছাড়া এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করা একেবারেই উচিত না। কেননা এতে আপনি নিজের অজান্তেই অন্যের সাথে নিজেকে দাঁড় করাবেন এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য অনলাইনে অনেক ‘মেকি’ বা মিথ্যা জিনিস প্রকাশ করতে চাইবেন। যা শুধুমাত্র আপনার মানসিক শান্তিই নষ্ট করবেনা, তার চেয়ে বেশি আপনার আত্মমর্যাদাকেও হেয় করবে।
  • বাইরে ঘুরতে গেলে বা কোনো দাওয়াতে গেলে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করবেন না। কোথাও ঘুরতে গেলে সেই পরিবেশ উপভোগ করার চেষ্টা করুন। হয়তো ২ টো ছবি তুলতে পারেন কিন্তু তা শুধুমাত্র স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখার জন্য। কারো সামনে বসে অহেতুক ফোনের স্ক্রিন ‘স্ক্রল’ করা অভদ্রতা ব্যতিত আর কিছুই নয়।

    অপ্রয়োজনে এই মাধ্যমগুলোর ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
  • মোবাইল ফোনকে কথা বলার জন্যই বেশিরভাগ সময় ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। তবে যদি তা না পারেন তবে চেষ্টা করুন স্মার্টফোনের পাশাপাশি ছোট ‘নোকিয়া’ বা বাটন ফোন ব্যবহার করতে। এতে আপনি কথা বলার উদ্দেশ্যেই ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। আর যখন প্রয়োজন হবে অল্প সময় অন্যান্য এপস সেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবেন।
  • ধীরে ধীরে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের সময় কমিয়ে ফেলুন। একটা সময় দেখবেন আপনি ভুলেই গেছেন আপনাকে একটু ফেসবুকে ‘ঢুঁ’ মারতে হবে!

    ভার্চুয়াল জীবনকে বাস্তবজীবনের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিবেন না
যে অভ্যাস আপনি নিজে তৈরি করেছেন সেই অভ্যাস দূর করা শুধুমাত্র আপনার দ্বারাই সম্ভব। কখনো নিজের উপর আস্থা হারাবেন না। এই বদঅভ্যাস ত্যাগ করে ‘প্রোডাক্টিভ’ কাজকর্মে নিজেকে যুক্ত করুন। এক সময় নিজেই উপলব্ধি করবেন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার না করেও ‘সোশ্যাল’ বা সামাজিক জীবনে ভালভাবেই টিকে থাকা যায়।
  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
**সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি সম্পর্কে জানতে আমাদের পূর্বের লিখা পড়তে পারেন। লিংক- http://www.probashkotha.com/featured/%E0%A6%B8%E0%A7%8B%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE/
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.