Featured যুক্তরাষ্ট্র

আমেরিকায় বাংলাদেশীদের সেকেন্ড হোম বাফোলো শহর

আমেরিকার বাফোলো নিউইয়র্কের অধীনে আলাদা একটি শহর। ম্যানহাটন হতে এর দুরত্ব প্রায় ৬৩৭ কি:মি:। কানাডা সীমান্তের কাছেই অবস্থিত এই শহর। 

১৮২১ সালে এই শহর তৈরী হয়, নিউইয়র্ক থেকে গাড়ী দিয়ে যেতে সময় লাগে ৭ ঘন্টা। শীত প্রধান এলাকা বলে শীতের সময় প্রচুর ঠান্ডা অনুভুত হয় এখানে। নিউ ইয়র্ক থেকেও বেশি ঠান্ডা এখানে, শীতকালীন সময় এখানকার তাপমাত্রা মাইনাস ২০-২৫ ডিগ্রী হয়। গরমের সময় প্রচুর পর্যটকের আগমনে প্রাণ চঞ্চল হয়ে উঠে বাফোলো শহর।

বাফোলো শহরের একপ্রান্তে লেক ইরি অবস্থিত এবং কানাডা সীমান্তের অপর প্রান্তে লেক অন্টারিও। কানাডা সীমান্ত বিশেষ করে, সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত আমেরিকা ও কানাডা সীমান্তের মধ্যে নায়াগ্রা ফলস অবস্থিত। এই হিসেবে আমরা যারা এশিয়া বা দক্ষিন পূর্বএশিয়া থেকে এসেছি তাদের জন্য শীতের সময় বাফোলো শহরে বসবাস করাটা বেশ কষ্টের।   

তারপরও প্রতি বছর অনেক বাংলাদেশী ও ভিন্ন দেশী মানুষ বাফোলো শহরকে বসবাসের জন্য বেছে নিয়েছেন। তার মধ্যে বাংলাদেশীদের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। এখানে অনেক বাংলাদেশীরা স্বল্প মূল্যে বাড়ি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। বাফোলোতে মাত্র ৬০-৭০ হাজার ডলারে বা তার চেয়েও কম মূল্যে বাড়ি কেনা যায়।

নিউইয়র্কে বাড়ি কেনা যেমন অনেক কষ্টসাধ্য তেমনি বাসাভাড়া চড়া মূল্যের কারনে অনেক বাংলাদেশীরা অন্য ছোটখাটো শহরে চলে যাচ্ছেন। এখানে যারা চাকুরী বা ব্যবসা করেন তাদের আয়ের প্রায় ৭০ ভাগ চলে যায় বাসা ভাড়া দেয়া ও অন্যান্য খরচ যোগাতে। জীবন যাপনের ক্ষেত্রে অনেকটা নিউ ইয়রর্ক বলতে গেলে ব্যয়বহুল শহর। সেই তুলনায় বাফোলো শহরের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে মান সহনীয়।     

বাফোলো শহরের জীবন যাত্রার সাথে নিউইয়র্ক শহরের জীবন যাত্রা বলতে গেলে উল্টো। নিউইয়র্কের মতো বৈচিত্র জীবন এখানে মিলবেনা। নিউইয়র্ক শহর যতটা ব্যস্ত ঠিক তার বিপরীত চুপচাপ শান্ত শহর বাফোলো। নিউইয়র্ক ২৪ ঘন্টাই বিনোদন ও জীবন যাত্রা চললাম, তবে নিউইয়র্ক এর সাথে অন্য কিছুর তুলনা হয়না।      

কথায় বলে ‘নিউইয়র্ক নেভার স্লিপ’। বাফোলোতে স্বাস্থ্য বীমার অধীনে ফ্রি চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা রয়েছে, তাছাড়া এখানে স্কুল, কলেজ শিক্ষা ব্যবস্থা নিউইয়র্কের মতই। বাফোলো শহরে সবচেয়ে বড় ইসলামিক ইউনিভার্সিটি আছে। গত কয়েক বছরে আমেরিকার বিভিন্ন শহর থেকে কয়েক শত বাংলাদেশী সহ বহু ভিনদেশি পরিবার বাফোলো শহরে চলে এসেছে।       

বাফোলো শহরে যেই এলাকাতে, বাংলাদেশীরা বাসস্থান গড়েছেন বা বাড়ি কিনেছেন সেই এলাকার নাম এ্যারি কাউন্টি। এই কাউন্টি ঘিরে বাংলাদেশিদের ব্যাবসা বাণিজ্য দোকান পাট গড়ে উঠেছে।     

বাংলাদেশী কমিউনিটি ছাড়াও অন্যান্য কমিউনিটির লোকজ্‌ বাফোলোতে স্থায়ী বসত গড়ার জন্য এখানে ব্যবসা শুরু করেছেন। আশাকরি নিউইয়র্ক শহরের জ্যামাইকা , জ্যাকসন হাইটস ব্রনকস , ব্রকলিন এর মতোই আমেরিকার অদূর ভবিষ্যতে বাফোলো শহর হবে বাংলাদেশীদের দ্বিতীয় আবাসস্থল।   

নাজিবুল হক, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র 

আরও পড়ুন- আমিরাতে মিরসরাই ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে মাতৃভাষা দিবস পালন

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.