Featured বাংলাদেশ থেকে

আবরারের নামে হলের নামকরণ; কেন এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া?

শেয়ার করুন

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যার ঘটনায় বিগত দুই সপ্তাহ ধরে উত্তাল পুরো দেশ। এই নিকৃষ্ট হত্যাকাণ্ডের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন ও হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বুয়েটে চলেছে লাগাতার প্রতিবাদ ও আন্দোলন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি গুগল ম্যাপে যুক্ত করা হয়েছে নতুন এক সংযোজন।

গুগল ম্যাপে দেখানো হচ্ছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলের নাম এখন ‘শহীদ আবরার হল’। আর হলের ভেতরে থাকা চারটি শৌচাগারের নামকরণ করা হয়েছে আবরার ফাহাদের খুনিদের নামে।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সরকারিভাবে এমন নামকরণ করা না হয়নি কিন্তু গুগল ম্যাপে অবকাঠামোগুলোর নাম দেখাচ্ছে এমনই।

আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকাল থেকেই কোনো স্থান খোঁজার জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগল ম্যাপে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নাম পরিবর্তিত হয়ে ‘শহীদ আবরার হল’ দেখানো হচ্ছে। এছাড়া এই হলের মসজিদের নাম দেখানো হচ্ছে ‘শহীদ আবরার হল মসজিদ’। এই শের-এ-বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষেই গত ৬ অক্টোবর নিহত হন আবরার ফাহাদ।

আবরারের নামে হল ও খুনিদের নামে শৌচাগার

খুনিদের নামেরও আছে অস্তিত্ব

শুধু হলের নামই গুগল ম্যাপে বদলায়নি। নতুন করে নামকরণ করা হয়েছে হলের চারটি টয়লেটেরও। ম্যাপে দেখাচ্ছে টয়লেটগুলোর নাম ‘কিলার রবিন পাবলিক টয়লেট’, ‘কিলার অনিক সরকার পাবলিক টয়লেট’, ‘অপ্রেসার (নির্যাতনকারী) রাসেল পাবলিক টয়লেট’ ও ‘অমিত সাহা পাবলিক টয়লেট’।চারটি টয়লেটের নামকরণ হয়েছে ফাহাদের খুনিদের নামে।

উল্লেখ্য, রবিন, অনিক, রাসেল, অমিত প্রত্যেকেই আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত।

কি বলছে গুগল কমিউনিটির সদস্যরা?

এমন নামকরণের পেছনে সাধারণত গুগলের কমিউনিটি সদস্যদের রেফার থেকেই নতুন নামকরণ করা হয় গুগল ম্যাপে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গুগল কমিউনিটি সদস্যদের থেকে এক বা একাধিক সদস্য স্থাপনাগুলোর এমন নামকরণ করে রেফার করেছেন। যা অনেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আপডেট হয়েছে গুগলের ম্যাপে।

তবে এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও ব্যতিক্রম প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে গুগল কমিউনিটির সদস্যদের মধ্যে।

হলের নাম পরিবর্তনের এ বিষয়কে অপরাধ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ লোকাল গাইডের মডারেটর ও গুগল ম্যাপ মেকারের সাবেক রিজনাল লিড মাহবুব হাসান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন,

আপনারা এখানে হয়তোবা সকলে জানেন গুগল ম্যাপস একটি ভলান্টারি কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। এখানে লোকজন নির্দিষ্ট একটা লেভেল অর্জন করার পরে চাইলে কোন স্থানের নাম যুক্ত করা পরিবর্তন করতে সক্ষমতা রাখে। হয়তোবা তারই একটা অপব্যবহার হচ্ছে এই বুয়েটের হল ইস্যুতে। আবরার হত্যাকাণ্ডের আমি নিজেও ব্যথিত, কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা হওয়া চাই প্রতিবাদের মত।

তিনি আরও বলেন,

এই স্থানের নামগুলো গুগোল পরিবর্তন করেনি করেছে কিছু ভলান্টিয়ার লোকজন। গুগল ম্যাপ শুধুমাত্র বাংলাদেশের লোকজন ব্যবহার করেনা আন্তর্জাতিক লোকজনও বাংলাদেশের স্থান খুঁজতে ব্যবহার করে। সেখানে সরকার যদি কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে না থাকে কিংবা বুয়েট কর্তৃপক্ষ ওই স্থানে আমরা ভলান্টিয়াররা এ ধরনের গর্হিত কাজ করে অপরাধ করছি।

মাহবুব হাসানের মতে এই ধরণের সিদ্ধান্ত অনেক সময় বহির্বিশ্বে দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ করতে যথেষ্ট হতে পারে, তাই যথাসম্ভব আবেগ এড়িয়ে প্রতিবাদ করাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গুগল কর্মকর্তাদের নজরে আসলে মুছে যেতে পারে এই নতুন নামগুলো।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.