Featured রঙ্গের দুনিয়া

আপেলের খোসায় চলবে গাড়ি!

শেয়ার করুন

পরিবেশ দূষণ কমাতে প্রায় সবকিছুরই নতুন বিকল্প খুঁজছে বিজ্ঞানীরা। যানবাহনের ক্ষেত্রেও ঘটছেনা ব্যতিক্রম। যানবাহন বিশেষ করে ইলেক্ট্রিক গাড়ির ব্যাটারিতে লিথিয়াম ব্যাটারির বিকল্প খুঁজছে গবেষকরা।

বহুল  ব্যবহৃত এই লিথিয়ামের জায়গায় ন্যাট্রিয়াম ব্যবহার করা সম্ভব কিনা, তা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে পুরনো আপেলের খোসা। তবে আপেল একাই নয়, এর সঙ্গে অনেক হাইটেক যন্ত্রপাতিও যুক্ত রয়েছে।

লিথিয়াম ব্যতীত ব্যাটারির শক্তি বাড়াতে আরও কিছু উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষকদের মতে,

সোডিয়াম প্রথম বিকল্প। কারণ সেটির সঙ্গে লিথিয়াম আয়নের সবচেয়ে বেশি মিল রয়েছে। তাই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সামান্য রদবদল ঘটালেই চলে। তাছাড়া সোডিয়াম খুবই সহজলভ্য।

বিশেষ কামরার মধ্যে নতুন ন্যাট্রিয়াম ব্যাটারির অংশগুলো জোড়া লাগানো হয়। এই ব্যাটারির সোডিয়ামের জন্য আসলে আর-কার্বন নামের কম দামি কার্বন ব্যবহার করা হয়। আপেলের খোসা ও শস্যদানার মতো বর্জ্য ব্যবহার করেই তা উৎপাদন করা সম্ভব। বাদামের খোসার মতো অরগ্যানিক বর্জ্যও ভালো ফল দিচ্ছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন,

আপেলের খোসা থেকে পানি বের করে নিলেই ব্যাটারির মধ্যে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে সেটি ব্যবহার করা যায়। এখনও ব্যাটারির মাইনাস পোলে বিশুদ্ধ মানের গ্রাফাইট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দামি। গবেষকদের মতে, গ্রাফাইটের বদলে বিনা সমস্যায় অরগ্যানিক বর্জ্য ব্যবহার করা সম্ভব।

ন্যাট্রিয়াম ব্যাটারি ক্ষুদ্র বাটন সেল হিসেবেও ইতিমধ্যে ভালোভাবে কাজ করছে। কয়েক বছরের মধ্যেই সেটি বাজারে আসতে পারে। কিন্তু লিথিয়ামের তুলনায় তার শক্তি কম হওয়ায় ইলেকট্রিক গাড়িতে সেগুলোর সংখ্যা বাড়াতে হবে। ফলে বর্তমানের তুলনায় আরও বড় ব্যাটারির প্রয়োজন হবে। ছোট আকারের ইলেকট্রিক গাড়িতে এমন ব্যাটারি কাজে লাগানো হয়েছে।

যদিও বর্তমানে বড় গাড়িতে সোডিয়ামভিত্তিক ব্যাটারি ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তবে কম দূরত্বে ঘোরাফেরার জন্য হালকা যানে এর প্রয়োগ হতে পারে। তাই খুব দ্রুতই এর পরিসর বাড়াতে চাচ্ছে বিজ্ঞানীরা।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.