Featured এশিয়া সিঙ্গাপুর

‘আপনার প্রিয়জন অপেক্ষায় আছে’

শেয়ার করুন

সিঙ্গাপুরে কর্মীদের প্রতিদিন কাজ শুরু করার আগে টুল বক্স মিটিং বা (Take-5) মিটিং করা হয়। এই টুল বক্স মিটিংয়ে কি কাজ করা হবে, কাজের ক্ষেত্রে বিপদসমূহ এবং এই বিপদ থেকে উদ্ধারের উপায় সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়৷

এমনকি খুব আন্তরিকভাবে বলা হয়, ‘নিরাপদে কাজ করুন, সুস্থভাবে বাসায় ফিরুন৷ মনে রাখবেন আপনার প্রিয়জন আপনার জন্য অপেক্ষায় আছে৷’

সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয় কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা জনিত বিভিন্ন নিয়মকানুন প্রচলন করেছে৷ এই নিয়মকানুন কর্মক্ষেত্রে অনুসরণ না করা হলে, দায়ী ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়৷ আর কোম্পানি যদি তার কর্মীদের নিরাপদ কর্মক্ষেত্র দিতে ব্যর্থ হয় তবে তাকেও বিরাট অংকের জরিমানা করা হয়৷

দেশটির সরকার নিরাপদ কর্মক্ষেত্র উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। কর্মক্ষেত্রে জনশক্তি মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিয়মকানুন জোরদার (এনফোর্স) করার জন্য প্রতিটি কোম্পানিতে রয়েছে নিজস্ব (Health Safety and environment) ডিপার্টমেন্ট। তাদের কাজ সরকার কর্তৃক প্রচলিত নিয়মকানুন বাস্তবায়নে কর্মক্ষেত্রে সর্বক্ষণ তদারকি করা৷

এত নিয়ম কানুন প্রচলনের পরও প্রতিনিয়ত কর্মক্ষেত্রে দূর্ঘটনা ঘটছে৷ জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ২৫জন কর্মী কর্মক্ষেত্রে দূর্ঘটনায় মারা যায়৷

তবে সবচেয়ে বেদনাদায়ক খবর হলো, শুধু গত নভেম্বর মাসেই ৮ জন কর্মীর মৃত্যু হয়৷ প্রতিটি তাজা প্রানের অকাল মৃত্যুই বেদনাদায়ক।

কর্মক্ষেত্রে নিহত অভিবাসী কর্মীদের আমি কোন দেশ, ধর্ম বা গোত্র দিয়ে সীমাবদ্ধ করতে চাই না। আমার মতে অভিবাসী কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।পরিবার তার প্রিয়জন হারিয়েছে৷
অভিবাসী কর্মীদের অকাল মৃত্যুতে সিঙ্গাপুরে অভিবাসীরা ব্যথিত।

সিঙ্গাপুর সরকার বিশ্বাস করে প্রতিটি দূর্ঘটনাই প্রতিরোধযোগ্য৷ এজন্য আমাদের প্রয়োজন নিরাপদ কর্মক্ষেত্র ও কর্মীদের যথাযথ নিয়মকানুন অনুসরণ করে কাজ করা৷

একজন মানুষ হাসিখুশি ভাবে কাজ করছে৷ অনাগত সন্তান ভূমিষ্ট হবে সে সুসংবাদের অপেক্ষায় আছে, হবু বউকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে, বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে চিকিৎসা করাবে এরই মধ্যে হঠাৎ সে আমাদের মাঝ থেকে নাই হয়ে গেলো৷ মৃত্যু নামক ছোট্র শব্দটি তাদের এই পৃথিবী থেকে ছিনিয়ে নিলো।

আমি নিহত অভিবাসীদের পরিবারের কথা চিন্তা করি আর আমার হৃদপিণ্ডে সূক্ষ্ম ব্যথা অনুভব করি৷ এই পরিবারগুলো আর প্রিয়জনের মোবাইল থেকে কল পাবে না, স্ত্রী তার স্বামীর সোহাগ পাবে না, সন্তানের পিতার কোলে উঠার অপেক্ষা শেষ হবে না, বৃদ্ধ পিতা-মাতা বুকের ধনের মুখ থেকে আর মা-বাবা ডাক শুনতে পাবে না।

কর্মক্ষেত্রে দূর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিটি কর্মীরই করনীয় আছে৷ তাদের উচিত কর্মক্ষেত্রে যথাযথ নিয়মকানুন অনুসরণ করে কাজ করা। কাজ করার সময় মনোনিবেশ করা। কোন কারনে যদি কাজে মনোনিবেশ করতে না পারে তাহলে তার সুপারভাইজারকে অভিহিত করা।

অনেকসময় মানসিক অশান্তির কারনে কাজে মনোনিবেশ করা যায় না৷ তাই সবসময় মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকতে হবে৷ আর কাজ চলাকালীন সময় পরিবারের সদস্যদের সাথে একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কথা না বলাই উত্তম৷

আমাদের সকলের যৌথ প্রয়াসই পারে সুন্দর ও নিরাপদ কর্মক্ষেত্র উপহার দিতে। আমি অভিবাসী কর্মীদের আবারও বলব, ‘নিরাপদে কাজ করুন সুস্থভাবে বাড়ি ফিরুন৷ মনে রাখবেন আপনার পরিবার আপনার অপেক্ষায় আছে৷’

  • ওমর ফারুকী শিপন, সিঙ্গাপুর

আরও পড়ুন- আমিরাত প্রবাসীর অকাল মৃত্যু

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.