Featured বাংলাদেশ থেকে

আগুনে পোড়া নুসরাত; কি ঘটেছিল মেয়েটির সাথে?

সামাজিক যোগাযগের মাধ্যম ফেসবুক জুড়ে শুধু একটিই নাম, একটি ছবি নুসরাত জাহান রাফির যে মেয়েটি নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের লালসার শিকার হয়।   

গত শনিবার ফেনীর সোনাগাজীর একটি মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে কৌশলে মেয়েটিকে ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর অপরাধ, তিনি অধ্যক্ষের অশালীন ব্যবহারের বিচার চেয়েছিলেন।

গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছিলেন মেয়েটির মা। অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। এর পরই শুরু হয় হুমকি–ধমকি। মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় ছাত্রীটির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

হামলার দিনই গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

আগুনে দগ্ধ হওয়া মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে বাঁচানোই গেল না। বুধবার (১০ মার্চ) শরীর পোড়ার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে ক্ষোভ আর অভিমানে যেন না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। এর আগে নুসরাতকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তাঁর শরীরের ৭৫ শতাংশ আগুনে পুড়ে যায় বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা।

এর আগে বান্ধবীদের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখেছিলেন তিনি। ওই চিঠিটি মঙ্গলবার তার বাড়িতে পড়ার টেবিল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। চিঠির শিরোনাম ছিল ‘আমি লড়ব শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত’।

দুই পাতার ওই চিঠিটি তার দুই ঘনিষ্ট বান্ধবী তামান্না ও সাথীকে উদ্দেশ করে লেখা। চিঠিতে গত ২৭ মার্চ ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছেন ওই ছাত্রী। চিঠিতে তিনি আত্মহত্যা করবেন না বলেও উল্লেখ করেন।

পাশাপাশি যৌন হয়রানির ঘটনার পর অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা গ্রেফতার হওয়ার পর তার মুক্তির দাবিতে বান্ধবীদের অংশগ্রহণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই ছাত্রী।

নুসরাত ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে পুরো ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

সেখানে তিনি বলেছেন, গত শনিবার সকালে তিনি ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রে আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে গেলে তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বোরকা পরা চার নারী তাকে মামলা তুলে নিতে বলে। তাতে রাজি না হওয়ায় ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

জবানবন্দিতে নুসরাত বলেন, বোরকায় মুখ ঢাকা থাকায় ওই চারজনের কাউকে তিনি চিনতে পারেননি। তবে এক পর্যায়ে তাদের একজন আরেকজনকে শম্পা নামে ডেকেছে, সেটা তার মনে আছে।

এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাসহ দশজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সিরাজের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে নুসরাতের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদের ঝড়। একই সঙ্গে এই বিচার যেন দ্রুত নিশ্চিত করা যায় সেই দাবি নিয়ে হাজারও মানুষের স্ট্যাটাস।

একাধিক প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ছে দাবি একটাই,  নুসরাতকে বাঁচানো যায়নি, বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সম্রাট হোসেন, প্রবাস কথা, ঢাকা 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.