Featured অস্ট্রেলিয়া ওশেনিয়া

অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মকালীন রসালো ফল “নেকটারিন”

শেয়ার করুন

গ্রীক পুরান বা উপকথার মতে ইংরেজিতে (Nectar) শব্দটির অর্থ হচ্ছে একটি “স্বর্গীয় সুধা”। সম্ভবত এই শব্দটির প্রেক্ষিতেই গ্রীষ্মকালে অস্ট্রেলিয়ায় নেকটারিন নামে যে রসালো ফলটি বাজারে পাওয়া যায়, সেটা আমার একটি অতি প্রিয় ফল।

গতকাল দুপুরে আমাদের বাসার কাছেই একটা ফ্রুট এন্ড ভেজি সপে ঢোকার মুখে দেখি দোকানের বাইরে টাল দিয়ে রাখা হয়েছে বেশ কয়েক নেকটারিনের বাক্স। আমি একটু থমকে দাঁড়িয়ে একটা নেকটারিন হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতেই দোকানের ভেতর থেকে ২৫-২৬ বছর বয়সী এক লেবানিজ যুবক তাড়াতাড়ি বাইরে এসে আমাকে বলেন, “নিতে চাও? বলতো এটার দাম কত? বলতো? বলতো…”

ছেলেটির এক দ্রুত প্রশ্নের ধরন দেখে কয়েক মুহূর্তের জন্য আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়ি! তাড়াতাড়ি উত্তর দেই, “না, আমি জানি না”। এরপর সে নিজেই বলে “ব্রাদার, টেক টেক, ইটস অনলি ফাইভ ডলার এ বক্স, এ ফাইভ কিলো বক্স! টুডে আই এম ভেরি হ্যাপি!”

মাত্র পাঁচ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে এক বাক্স নেকটারিন।

এতক্ষণে আমি বুঝলাম তার হ্যাপি হওয়ার কারণটা কি? আসলে ক্রিস্টমাসের ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকেই সিডনির লোকসংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে, এই সময় বাজারে পচনশীল সবজি ও মাছের চাহিদা কমে যায়।

ফলে প্রতিবছরই এই সময়টাতে বাজারে বিশেষ করে ফলের দাম হঠাৎ করেই পরে যায়! গত সপ্তাহেও এই সাইজের নেকটারিনের দাম ছিল ৪ থেকে ৪.৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার কিলো। সেই হিসেবে প্রায় ২০-২২ ডলারের এক বক্স নেকটারিন এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫ ডলারে।

তাই আমি আর বেশি চিন্তাভাবনা না করেই নিয়ে নিলাম এক বাক্স নেকটারিন। বাসায় গিয়ে কাঁচা মরিচ, বিট লবণ আর প্রাণের কাসুন্দি দিয়ে নেকটারিন কেটে আম ভর্তার মতোই খেতে দারুন লাগবে। তাই মনে হচ্ছে এগুলো শেষ হতে খুব বেশি হলে আমার তিন দিন লাগবে।

  • মহিউদ্দিন কিবরিয়া, সিডিনি, অস্ট্রেলিয়া। 

আরও পড়ুন- উদ্যোমী এক বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ারের প্রবাস জীবন, পর্ব- ০৩

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.