Featured আমেরিকা কানাডা

অনেকেই ঋণ করে দেশে যায় সুখ কিনতে

প্রবাসে পরিবারসহ থাকুক অথবা একা থাকুক, একজন প্রবাসী যখন চিন্তা করেন কিছুদিনের জন্য দেশে যাবেন বেড়াতে- ঠিক সেই মুহুর্ত থেকে তার মাথায় একটা আলাদা টেনশন কাজ করে। যদি সে ইউরোপ, আমেরিকা বা কানাডায় থাকে, তখন প্রথম চিন্তা করতে হয় মোটা অংকের যাওয়া আসার প্লেনের টিকেট খরচ ৷ কানাডার খরচটা আমি বলতে পারবো। যেমন, আমার পরিবারের পাঁচজনের প্লেন খরচ এখানে আট হাজার ডলার, যা বাংলাদেশের টাকায় পাঁচ লক্ষ বিশ হাজার ৷ এটা তো শুধু শুরু ৷ তারপর যখন বাংলাদেশের আত্বীয়-স্বজন শুনে যে দেশে আসবে, তখন শুরু হয় তাদের নানান জিনিসের আবদার ৷ আর আত্বীয়-স্বজন না বললেও, নিজেদের ইচ্ছেতেই সবার জন্য শপিং করতে প্রতিটি প্রবাসীর মন চায় ৷ বিদেশ থেকে যাবে খালি হাতে কিভাবে যায় ! শপিং বাবদ তখন চোখ বন্ধ করে কম করে হলেও দুই /তিন হাজার ডলার চলে যায়। তিন হাজার ডলার মানে বাংলাদেশের প্রায় তিন লক্ষ টাকা ৷

এতো গেলো দ্বিতীয় খরচ ৷ তারপর পরিবারসহ দেশে যাবে বা একা যাবে, নিজের জন্য টুকটাক কেনাকাটা করতেই হয় ৷ প্রবাসে না হয় যেমন যেভাবে চললে হয়, দেশে যাবে নতুন জামা ,কাপড় অন্যান্য জিনিস পত্র মিলে আরো দুই হাজার ডলার খরচ ৷ দুই হাজার ডলার বাংলাদেশের এক লক্ষ তিরিশ হাজার টাকা ৷ এতক্ষণ গেলো পূর্ব প্রস্তুতি ৷ তারপর শুরু হয় নিজের সাথে আরো কমপক্ষে পাঁচ হাজার ডলার নিয়ে যাওয়ার চিন্তা ৷ পাঁচ হাজার ডলার মানে বাংলাদেশের প্রায় তিন লক্ষ পচিঁশ হাজার টাকা ৷ এই টাকা কেন ?

এ টাকা হলো দেশে যতদিন থাকবে তার খরচ ৷ কারণ, দেশে গেলে বাংলাদেশের সবাই মনে করে বিদেশ থেকে আসছে এই প্রবাসীর কাছে তো টাকার গাছ নিয়ে আসছে ৷ যতদিন থাকবে দেশে তত দিন খরচ। পাড়া প্রতিবেশি, মুরুব্বি সবার হাতে কম করে হলেও পাঁচশত করে টাকা দেওয়া। কারণ, বিদেশ থেকে দেশে আসছে ৷ আরো কত শত খরচ ৷ যতদিন দেশে থাকবে কোন টাকা ইনকাম নাই। ভাগ্যক্রমে কিছু কিছু প্রবাসী এমন কিছু কোম্পানীতে কাজ করেন যারা ছুটিতে গেলেও বেতন পায়। কিন্তু শতকরা ৯৯ ভাগ কোম্পানী দেয় না ৷ যে কয় মাস ছুটিতে থাকবে বেতন পাবে না ৷ তখন ঐ প্রবাসী যদি দুই মাস দেশে থাকে, এই দুই মাস বেতন তো পাবেন না বরং যতদিন দেশে থাকবে তত দিন তার খরচ হবে ৷ বেড়ানো শেষে প্রবাসীর যখন ফেরার সময় হয়, তখন একজন প্রবাসী মাথায় তার পরিবারকে নিয়ে সেই প্রবাসে ফেরার টেনশনই কাজ করে।

ইউটিউবেও সাথে থাকুন

চিরচেনা প্রবাসে ফেরার পর আবার শুরু হবে পরিবারের জন্য বাজার সদাই ৷ কারণ, দুই মাস ছিলো না তাই ফ্রিজে তো খাবার ছিলো না ৷ দেশ থেকে ফিরে আবার বাজার সদাই করা সেটা একটা খরচ ৷ দেশে যাওয়া এবং ফিরে আসা একজন প্রবাসী সুখ যা পেলো তা হলো ঐ টাকার বিনিময়েই। খরচ, খরচ আর খরচ ৷ প্রবাসীর কাজই হচ্ছে কামলার মতো কাজ করো, কষ্ট করে টাকা ইনকাম করো আর একবার দেশে গিয়ে সব খরচ করে সবার মুখের হাসি দেখে আসা ৷ কেউ কখনো ভাবে- আচ্ছা, এই লোকটা বা এই পরিবারটা প্রবাসে থাকে এত কষ্ট করে, এখন দেশে আসছে আমরা কোন মুখে তার কাছ থেকে টাকা চাই? বরং উল্টো তাদের আমাদের দেয়া উচিত ৷ কিন্তু কয়জন বুঝবে এসব !

প্রবাসে ১০০ ভাগের মধ্য ৮০ ভাগ মানুষ কামলাগিরি করে। হ্যাঁ, কামলাগিরি করে ৷ পরিশ্রম করে টাকা ইনকাম করে শুধুমাত্র একটু ভালো থাকার জন্য আর অন্যের মুখের হাসির জন্য ৷ একজন কানাডা প্রবাসী পরিবারসহ যদি দেশে যাওয়ার চিন্তা করে তাহলে চোখ বন্ধ করে বিশ হাজার ডলার খরচ ৷ বিশ হাজার ডলার মানে বাংলাদেশের প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা খরচ টানতে হবে ৷ এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কয়জন প্রবাসীর কাছে এক মুঠো বিশ হাজার ডলার থাকে ? যারা পরিবারসহ কানাডা বা ইউরোপে থাকে, পুরো পরিবারের খরচ চালিয়ে কয়জন কাছে যার কাছে এক মুঠো বিশ হাজার ডলার থাকে দেশে যাবার ৷ তখন তারা ব্যাংক থেকে লোন নেয় দেশে যাবার জন্য ৷ হ্যাঁ, ঠিক বলছি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে নিজের দেশে যায় সুখ কিনতে ৷ কিন্তু কয়জন পায় সেই সুখ ? অপ্রিয় সত্য হলেও এটাই নিষ্ঠুর বাস্তবতা ৷ শিকড়ের টানে দেশে যেতে হয় ৷আল্লাহ সকল প্রবাসীকে ভালো রাখুক ,সুস্থ রাখুক এই কামনা রইলো ৷

  • আমিনা আলী মেঘলা, সাসকাতুন, কানাডা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.