ইউরোপ পর্তুগাল

পর্তুগালে উচ্চা শিক্ষার খুঁটিনাটি, হতে পারে অন্যতম সেরা দেশ

দেশের বাহিরে উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। যদিও বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর আকাঙ্খা থাকে বৃত্তি নিয়ে পড়ার কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয় না। তারপরও শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার।

এক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো শিক্ষার মান, বাৎসরিক টিউশন ফি, শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় আয় এবং পড়া লেখা শেষ করে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ ইত্যাদি। আর এই সব কিছু বিবেচনায় পর্তুগাল হতে পারে অন্যতম সেরা দেশ। বর্তমানে পর্তুগালের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুল সংখ্যাক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

কথা হলো এমন দুই বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর সাথে, তাদের কথায় উঠে এসেছে পর্তুগালে শিক্ষা সম্পর্কিত নানান বিষয়। পিএইচডি অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থী মোঃ নুর আলম মিস্ত্রী, তিনি বর্তমানে PhD করছেন Urban planning এ University of Lusofona. পাশাপাশি সময় দিচ্ছেন খন্ড কালীন শিক্ষক হিসাবে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে Department of Architecture and Urbanism এ।

অন্য জন হলেন মোঃ শাকাউতুল ইসলাম আজিজ, তিনি মাস্টার্স করছেন Data Science and Advanced Analytics এ (Nova IMS), university of New Lisbon. এই দুই শিক্ষার্থী উত্তর দিয়েছেন পর্তুগালে শিক্ষা সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের ও বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনার কথা-

প্রশ্ন: প্রথমে আপনাদের কাছে জানতে চাইবো, পড়াশোনার জন্যে পর্তুগালকে কেন বেছে নিলেন? পর্তুগালের পড়াশোনার মান কেমন?

উত্তর: পর্তুগিজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর টিউশন ফি তুলনামূলক ভাবে অনেক কম এবং বিশ্ব মানের শিক্ষা দিয়ে থাকে যা পৃথিবীর সকল দেশে গ্রহণ যোগ্য। তাছাড়াও পর্তুগালে পড়াশুনা শেষ করে সহজে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ নেওয়া যায়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য পর্তুগালে পড়াশোনা করার সম্ভাবনা কেমন?

উত্তর: পর্তুগালে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য অপার সম্ভাবনা আছে। এখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স এবং পিএইচডি পর্যায়ে অনেক বিষয় ইংরেজীতে পাঠ দান করে এবং অনার্স পর্যায়ে সল্প পরিসরে ইংরেজি ও বেশির ভাগ পর্তুগিজ ভাষায় পড়ানো হয়। কিন্তু অনেকে এখনো বিষয়টি অবগত নয় তাই এখানে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী অনেক কম।

প্রশ্র: কোন কোন লেভেলে এবং কি কি বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ আছে এখানে?

উত্তর: এখানে অনার্স, মাস্টার্স, পোষ্ট গ্রেজুয়েশন ও পি এইচডি করার সুযোগ আছে এবং প্রায় সকল বিষয়ে পড়াশোনা করা যায়।

প্রশ্ন: পর্তুগালে কয়টি সেশন আছে এবং কখন শুরু হয়?

উত্তর: এখানে মূলত একটিই সেশন তা হলো সেপ্টেম্বর এবং আবেদন প্রকৃয়া জানুয়ারী থেকে এপ্রিল/মে পর্যন্ত। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেব্রুয়ারিতে সল্পসংখ্যক বিষয়ে ছাত্রছাত্রীরা আবেদন করতে পারে।

প্রশ্ন: পর্তুগালের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর টিউশন ফি কেমন এবং অনন্য খরচ যেমন থাকা খাওয়া ও যোগাযোগে কেমন খরচ পড়ে?

উত্তর: বার্ষিক ২৫০০ ইউরো থেকে শুরু করে ১৫০০০ হাজার পর্যন্ত টিউশন ফি আছে এবং থাকা খাওয়া ও যাতায়াতে একজনের ৪০০-৫০০ ইউরো হলে চলে যায়।

প্রশ্ন: কি পরিমাণ বাংলাদেশী শিক্ষার্থী বর্তমানে পর্তুগালে পড়াশোনা করছে বলে আপনার ধারনা হয়?

উত্তর: গতবছর বাংলাদেশ হাইকমিশন স্টুডেন্টদের একটি অভ্যর্থনা দিয়েছিল এবং সেখানে প্রায় ২০০ এর মত শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল।

প্রশ্ন: এখানকার বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে Medium of Instructions কি? মানে ইংরেজি নাকি পর্তুগিজ।

উত্তর: আমি আগেও বলেছি মাস্টার্স ও উপরের লেভেলে বেশিরভাগ Medium of Instructions হলো ইংরেজি এবং অনার্স পর্যায়ে বেশিরভাগ পর্তুগিজ।

প্রশ্ন: Bachelor বা Master এ কি IELTS বাধ্যতামূলক প্রয়োজন পড়ে ভর্তির ক্ষেত্রে?

উত্তর: IELTS হলে ভাল হয় অথবা Medium of Instruction Certificate দিয়েও আবেদন করা যায়। কিন্তু IELTS হলে ভাল হয় কারন এম্বাসীর মুখোমুখি হতে সুবিধা হয়।

প্রশ্ন: স্কলারশিপ সুবিধা কেমন বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য এবং কি কি সেগুলো?

উত্তর: পর্তুগালে রয়েছে বিভিন্ন স্কলারশিপ যা বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারে। যেমনঃ Erasmus mundus Scholarship, FCT Scholarship & University Internal Scholarship এর জন্য আবেদন করা যায় ৷

প্রশ্ন: পর্তুগালের ভিসা পেতে শিক্ষার্থীদের মূল চ্যালেঞ্জ গুলো কি কি?

উত্তর: মূল চ্যালেঞ্জ হলো ভাষা এবং বাংলাদেশে পর্তুগালের কোন এমব্যাসি নেই। ইন্ডিয়া যেতে হয় বলে আমাদের শিক্ষার্থীদের ভিসা রেশিও অনেক কম।

প্রশ্ন: ছাত্র ছাত্রীরা কত ঘন্টা কাজ করতে পারে পড়াশোনা অবস্থায়?

উত্তর: এখানে মূলত সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজের অনুমতি আছে কিন্তু আপনি যদি ইমিগ্রেশনকে প্রমাণ করতে পারেন আপনার কাজ ও পড়ালেখার সময় একে অপরের সাথে সাংঘার্ষিক নয় তবে ফুল টাইম কাজ করতে পারেন।

প্রশ্ন: পড়াশোনা শেষ করলে পর্তুগালে চাকরির সুবিধা কেমন এবং সেটেল হওয়া যায়?

উত্তর: পড়াশোনা শেষ করলে পর্তুগালে চাকরির বাজার সীমিত হলেও ইউরোপ সহ সারা বিশ্ব উন্মুক্ত চাকরির জন্যে। তাছাড়াও পর্তুগালে বর্তমানে ৫ বছর অবস্থান করলে স্থায়ী নাগরিক বা পর্তুগিজ পাসপোর্ট পাওয়া যায়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে পর্তুগালের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ করে না তাই ইন্ডিয়া থেকে করতে হয়, এক্ষেত্রে কি বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা কোন ধরনের বঞ্চনার শিকার হচ্ছে বলে মনে হয়?

উত্তর: আমরা অবশ্যই মনেকরি আমাদের শিক্ষার্থীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে, আমরা প্রায় শুনি ইন্ডিয়াতে বৈষম্যমূলক আচারনের শিকার হতে হয় বাংলাদেশী শিক্ষকদের।

প্রশ্ন: পর্তুগাল সম্পর্কে আপনাদের অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাই ৷

অভিজ্ঞতা: পর্তুগাল পড়াশোনা ও বসবাসের জন্য খুবই ভাল ও সুন্দর একটি দেশ। এখানে ইউরোপের অনন্য দেশের তুলনায় বৈষম্যমূলক আচরন একে ভারে নেই বল্লেই চলে। এছাড়াও এখানকার আবহাওয়া যথেষ্ট ভাল যা কিছুটা আমাদের দেশের মত। তাই আমরা মনে করি পড়াশোনার জন্যে ইউরোপের অন্যতম সেরা দেশ হলো পর্তুগাল।

•  মোঃ রাসেল আহম্মেদ, লিসবন, পর্তুগাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.