অভিবাসন ইউরোপ ইতালী

৩০ হাজার বিদেশী কর্মী নিবে ইতালী: বাংলাদেশীরা যেতে পারবে?

বরাবরের মতোই এ বছরও অভিবাসীদের মৌসুমি বা খন্ডকালীন কাজের ভিসা দিবে ইতালী সরকার ৷ এর ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে সর্বমোট ৩০,৮৫০ জন ইতালীতে কাজের বৈধতা পাবেন। তবে এদের মধ্যে ১২,৮৫০ জন বৈধতা পাবেন যারা ইতিমধ্যে বৈধভাবে ইতালীতে এসেছেন বিভিন্ন পেশায় যেমন,স্টুডেন্ট ভিসা বা ট্রেনিং ভিসা অথবা যারা মানবিক ডকুমেন্ট(হিউম্যান রাইটস) এর খন্ডকালীন থাকার অনুমতি পেয়েছেন বা বিশেষ কারনে থাকার অনুমতি পেয়েছেন তারা ৷ সঠিকভাবে বৈধ কাজের চুক্তি থাকলে সাধারণভাবেই বৈধ হবার সুযোগ পাবেন ৷ এই বৈধতা পরবরর্তীতে আজীবন ইতালী থাকার ব্যবস্থা করতে পারে খুব সহজেই।এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশীরাও সবার মতোই সুযোগ পাবেন। এছাড়াও বাকী লোকজন ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে এই গেজেটের আওতায় বৈধতা পাবেন।

অন্যদিকে ১৮,০০০(আঠারো হাজার) বিদেশী শ্রমিক আসবেন এশিয়া,আফ্রিকা বা দক্ষিন আমেরিকার দেশগুলি থেকে মৌসমি ভিসায় ৷ তারা ৩ বছরে পর পর ৩ বার ইতালী আসার সুযোগ পাবেন । আরেকটু বুঝিয়ে বল্লে, প্রতি বছর ইতালীতে আসবে ৬/৭ মাস কাজ করে চলে যাবে এবং পরের বছর আবার আসবে এবং চলে যাবে। সাধারনত এই নিয়মটি মেনে চললে অনেকেই পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পায় কিন্তু বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা ৷

যে কারনে বাংলাদেশ কালো তালিকাভুক্ত

উপরে যে বিষয়টি উল্লেখ করলাম সেটি হচ্ছে মুল কারন,বিস্তারিত ব্যাখা করতে গেলে বলতে হয়-
১. বাংলাদেশীরা ইতালী একবার আসতে পারলে আর ফেরত যায়না যেটি স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে যে দেশে ফেরত যেতে হবে।এর কারন হচ্ছে, কোন দালাল ছাড়া একজন ব্যক্তিও এদেশে আসতে পারেনা বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে সুতরাং দালাল চক্র নানানভাবে প্রলোভন দেখায়, যেমন ইতালী গেলেই বাংলাদেশী টাকার ৪/৫ লাখ টাকা ইনকাম করবে,চাকুরী অহরহ এবং স্থায়ীভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এক ডকুমেন্টের উপর বসবাসের সুযোগ পাওয়া যাবে ৷ অর্থাৎ আসার ব্যাপারে রাজি করানোর জন্য যেভাবে বলা দরকার তারা সেভাবেই বলেন কিন্তু এটা বলেন না যে,দেশে ফিরে আসতে হবে এবং সত্যিকার অর্থে কি ধরনের কাজ করতে হবে তা সঠিক বলা হয় না ৷ মুলত কৃষিকাজের জন্যই এই ভিসা দিয়ে থাকে ইতালীর সরকার। এছাড়াও অন্যান্য খন্ডকালীন কাজ আছে যেমন হোটেল এর কাজ কিন্তু স্বভাবতই বাংলাদেশীদের বিশেষ ডিগ্রী না থাকাতে এমন ভালো কাজে আসতে পারেন না।

২. দালাল ধরে যেহেতু আসতে হয় সেক্ষেত্রে অনেকসময় মালিকপক্ষ কাজের কন্টাক্ট করেনা কারন দালালরা মালিকদেরও চুক্তি অনুযায়ী টাকা দেয়না।অবশেষে ঐ প্রবাসী ব্যক্তিটি পরে মহাবিপদে ৷

৩. লোভনীয় প্রস্তাব পেয়ে ১৫/২০ লক্ষ টাকা খরচ করে যখন খন্ডকালীন ৬ মাসের বৈধতা পায় এবং কোন কাজই পায়না তখন যে কোন মানুষের মাথাই ঠিক থাকার কথা নয় সুতরাং সে দিশেহারা হয়ে পরেন এবং দেশে ফেরার চিন্তা আর করতে পারেন না কারন দেশে গিয়ে যদি না আসতে পারে ৷ তারপর সে ৬ মাস পার হলে অবৈধ হয়ে যায় এবং ইতালীয়ান মালিকের বিরুদ্ধে বা বাংলাদেশী দালালদের বিরুদ্ধে পুলিশি মামলা করেন অসহায়ের মতো। প্রকৃত কারনটা যদি আমরা বের করতে যাই তাহলে দেখা যায়, বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মানুষগুলি তার বাড়ি ভিটা বিক্রী করে, জমি বিক্রী করে বা বন্দক রেখে অথবা কড়া শোধে ধার নিয়ে বিদেশ আসেন কারন আসলেই লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করে নিমিষেই সব করবে।

এই প্রত্যেকটা কর্মের রিপোর্ট হয়ে গেছে হাজার বার ইতালীয়ান প্রশাসনের কাছে যেটি সম্পুর্ণভাবে মুখস্ত হয়ে গেছে সুতরাং ২০১১ সালের পর থেকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী আনার ক্ষেত্রে সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ সেজন্যই এবারও কালো তালিকা ভুক্ত বাংলাদেশ!

একটাসময় ইতালীয়ানরা বাংলাদেশীদের নানানভাবে সাহায্য করতো ৷ কোন প্রকার লেনদেন ছাড়াই অথচ আজ বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই মোটা অংকের ইউরো ছাড়া কাউকেই সাহায্য করতে চায়না কারন আমাদের দেশের লোকদের দালালীর কারনে এরাও চালাক হয়ে গেছে।চাইলেই যদি পাওয়া যায় তাহলে চাইবেনা কেন?

তবে একটি কথা বলতেই হয়,এই দালালদের জন্যই কিন্তু আজ দেশের ১ কোটি প্রবাসীর সিংহভাগ মানুষ বিদেশ আসতে পেরেছে এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রবাসীরা বিশেষ ভুমিকা পালন করছে।

তথ্য মতে, ইতালীয়ান সরকার বাংলাদেশের সরকারকে এসব বাংলাদেশীদের ফেরত নেয়ার ব্যপারে এবং যারা এদেশে সিজনাল ভিসায় আসবে তাদের কাজ শেষে দেশে ফেরত যাবার ব্যাপারে দায়ীত্ব নিতে বলেছিলেন কালো তালিকা থেকে বাতিলের জন্য কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এতে রাজি হয়নি কারন এ অযুহাতে যদি তারা অবৈধ বাংলাদেশীদেরও দেশে পাঠিয়ে দেয় তাহলে সেটি হবে দেশের জন্য বড় সমস্যা ৷

এম কে রহমান লিটন, প্রবাস কথা, ইতালী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.