ইতালী

বলোনিয়া শহরে যে সকল দর্শনীয় জায়গা আছে

বলোনিয়া শহর ঘুরে দেখার পর যদি আপনার হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকে তাহলে অবশ্যই নিম্ন উল্লেখিত জায়গায় যেতে ভুল করবেন না। প্রতিটি জায়গায় যেতে সময় লাগবে ২০/৩০ মিনিট।

পিয়াচ্ছা সান্তো স্তেফানো 
বলোনিয়ার একটি ঐতিহ্যবাহি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এটি বলোনিয়ার প্রাণ কেন্দ্রো পিয়াচ্ছা রিচ্ছোলির পাশেই অবস্থান। যদিও ছোট কিন্তু সবচেয়ে বেশী দর্শনার্থির সমাগম হয় পিয়াচ্ছা সান্তো স্তেফানোতে। বিকেল হলেই দর্শণার্থিরা জড় হওয়া শুরু করে থাকে সারা রাত। করা পাহারায় চলে কনসার্ট। গানে গানে মাতিয়ে রাখে দর্শনার্থিদের।

এখানে রয়েছে একটি গির্জা, ইতালির এবং ইউরোপ ইউনিয়নের সাবেক প্রেসিডেন্ট রোমানো প্রদির বাড়ি। মাঝে মাঝে ছুটির দিনে রোমানো প্রদি হাটতে বের হয় অতি সাধারণ বেশে। দুই পাশে বারান্দা সহ ফুটপাথ এবং রেস্টুরেন্ট, রাত যত বারে পিয়িচ্ছার সুন্দর্য্য ততো বারতে থাকে। তাই পর্যটকেরা বলোনিয়া আসলে একটুর জন্য হলেও পিয়াচ্ছা সান্তো স্তেফানোর সুন্দর্য্য উপভোগ করে যান।

সান লুকা
ইতালির বলোনিয়া (Bologna)শহরের খুব কাছেই সান লুকার অবস্থান। এটা মূলত বলোনিয়ায় পর্যটকদের সব চেয়ে দুঃসাহসিক ও পছন্দের স্থান। সান লুকা মূলত একটি ছোট পাহাড়। ১১২৩ সালে এই পাহাড়ের চূড়ায় তৈরি করা হয় একটি মনোমুগ্ধকর গির্জা। আর আশেপাশে তৈরি করা হয় আবাসিক ভবন। ১৪৩৩ সাল থেকে এই গির্জার সুনাম ছরিয়ে পরে চোতুর দিকে। দুর দুরান্ত থেকে ধর্মভীরূ এবং পর্যাটকদের আনাগুনা শুরু হয় তখন থেকে, কিন্তু সমস্যা হলো পাহাড়ে উঠা এবং নামা নিয়ে। তখন খুব কষ্ট করে গীর্জায় যেতে হতো মানুষের,

১৭২৩ সালে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এবং রোজগারের কথা ভেবে গির্জার প্রধান উদ্যোগ নেন গির্জায় উঠার জন্য সিড়িঁ তৈরি করার। বৃষ্টির চিন্তা মাথায় রেখে জিওজি মান্তির আকা নকশায় ছাদ যুক্ত বারান্দায় একশ ধাপে সিড়িঁর কাজ শুরু করে এবং দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ১৭৫৭ সালে শেষ হয় এর নির্মাণ কাজ। সিড়িঁ বেয়ে কোন দর্শণার্থী যেন ক্লান্ত না হয় সেজন্য পুরো বারান্দার এক পাশ জুড়ে তৈরি করা হয়েছে বসার ব্যাঞ্চ আকারে প্রাচীর। ইচ্ছে হলেই একটু বিশ্রাম নিতে পারে যে কেউ। আর একটু পরপরই আছে পাথরের মুর্তি। যা দেখে আপনি ভুলে যাবেন হাজারও সিড়িঁ বেয়ে উপরে উঠার ক্লান্তি। আর কষ্ট করে উপরে উঠতে পারলে উপভোগ করবেন পাহাড়ের সুন্দর্য। সান লুকা ঘুরতে কোন অনুমতির দরকার হয়না। পর্যটকদের জন্য ফ্রী।

যেভাবে যাবেনঃ যারা বলোনিয়া থাকেন তারা পিয়াচ্ছা মালপিগি থেকে ২০/৫৭ নাম্বার বাসে করে যেতে পারেন। বাসের টিকিট ১.৫০ (দের) ইউরো। বাস পাহাড়ের চুড়ায় উঠবেনা সেক্ষেত্রে আপনাকে সিড়িঁর গোড়ায় নামতে হবে। যাদের গাড়ি আছে তারা সরাসরি গাড়ি নিয়ে পাহাড়ের চুড়ায় উঠতে পাড়েন।

রিছ্ছলি পাহাড় ও হসপিটাল
ছোট একটা পাহাড় কিন্তু সুন্দর্য্যের কোন কমতি নেই। পুরো পাহাড়টা জুড়ে আছে একটা হসপিটাল আর তার চারপাশে পর্যটনদের জন্য গড়ে তুলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন প্রাচীর। প্রাচীরে বসে যে কেউ এক সাথে তিনটি সুন্দর্য্য উপভোগ করতে পারেন। হসপিটাল, পাহাড় এবং বলোনিয়া শহরের সৌন্দর্য আপনাকে নিয়ে যাবে কল্পনার রাজ্যে। যদিও রিছ্ছলি হসপিটাল নামেই পরিচিত।

যারা বলোনিয়া থাকেন তারা ভিয়াঃফারিনি থেকে ৩০ নম্বর বাসে করে যেতে পারেন। ৩০ নম্বর বাসের শেষ ফেরমাতায় (স্টোপিস) নামতে হবে।
চলবে…

•  মাহমুদ শাহিন, ইতালী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.