যুক্তরাষ্ট্র শিক্ষা

মোহাম্মদপুর থেকে নাসা: মহাকাশে বাংলাদেশের পতাকা

শেয়ার করুন

আনিকা নূর। খুব হিসেব করলে মাত্র ৪ বছর আগে অভিবাসী হয়ে সপরিবারে পাড়ি জমিয়েছেন আমেরিকায়। এই ৪ বছরে একজন মানুষে কি করতে পারে, কতদূর যেতে পারে সেটা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক হতে পারে। বয়স এবং পরিবেশও হয়তো বিবেচনায় আসবে এই হিসেব করার ক্ষেত্রে। বিতর্ক হয়তো বহুদূর যাবে। কিন্তু এই ৪ বছরের মধ্যে আনিকা নূর পৌঁছে গেছেন ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে পৃথিবীর সেরা মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা পর্যন্ত। একটি রকেটে মহাকাশে পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের পতাকাও। কেমন ছিল সে পথ, খুব সহজ? আসুন, গল্পটা আমরা আনিকা নূরের কাছ থেকেই শুনি-

13518124_1073051419408318_61012911_o‘ঢাকার মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী থেকে এসএসসি শেষ করার পর ২০১২ সালে রাইফেলস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি দিয়ে জুলাইতে ইমিগ্রেশনে পুরো পরিবার চলে এসেছি আমেরিকায়। রেজাল্ট পাইনি তখনো। ক্যাম্পাসের স্টার স্টুডেন্ট ছিলাম। কিন্তু এইচএসসি’র রেজাল্ট খারাপ হলো। বন্ধুদের মধ্যে শুধু আমার একারই জিপিও-৫ নাই।

আমেরিকায় এসে সবকিছু নতুন ছিল। কথা বুঝতে পারতাম না। কখনো কাজ করিনি আগে-সেটার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়েছে। ৫ জনের পরিবার, বাসা ভাড়া থেকে খাবার পর্যন্ত সবকিছু আমাকেই উপার্জন করতে হয়েছে। কারণ, পরিবারের আর কারো চাকরি ছিল না। এগুলো আমাকে আরো শক্ত করেছে। দুই বছর বন্ধুদের সাথেও কথা বলিনি। এমনকি ফেসবুকেও ছিলাম না।

যখন আমেরিকায় এলাম তখন আমার বয়স ১৯। এসেই জবে ঢুকে গেছি। অড জব যাকে বলে। বাসার একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য ছিলাম আমি। একদিকে এইচএসসি’র রেজাল্ট খারাপ, অন্যদিকে ভার্সিটি এ্যাডমিশন নিচ্ছি না। ভয়ংকর ডিপ্রেশনে ছিলাম। জিদ চেপে গেলো মনে। ভার্সিটির এ্যাডমিশনও নিলাম, সাথে ফুল-টাইম জব। এখন বলতে যেমন মনে হচ্ছে, ব্যাপারটা তার চেয়ে অনেক কঠিন ছিল। হঠাৎ করেই বিয়ে ঠিক হলো, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যেতে হলো। নিউইয়র্ক থেকে ফ্লোরিডা। এর মধ্যে SAT দিতে হলো। স্কলারশিপ নেই, লোন নিলাম হাই ইন্টারেস্ট রেটে। কারণ, কমপক্ষে ১ বছর না হলে সরকার অর্থ সহযোগিতা করে না। এর মধ্যে আমার হাজব্যান্ড এর জব হলো অন্য স্টেটে। এবার ফ্লোরিডা থেকে কলোরাডো। আমিও তখন ভয়ংকর সমস্যায়, ফান্ড নেই কিন্তু অনেক টাকা লোন হয়ে গেছে। দেখলাম স্কলারশিপ ম্যানেজ করতে হবে, না হলে পড়াশোনা বন্ধ। কিন্তু আমার এখানকার কোন সার্টিফিকেট নেই।

এবার ভলান্টারি কাজ করা শুরু করলাম। আমেরিকায় যাদের বৈধভাবে বসবাসের কাগজপত্র নেই, তাদের অংক আর ইংরেজী শেখানো শুরু করলাম। তারা আমার কথা কিছু বুঝতো না। স্প্যানিশ ডিকশনারি নিয়ে বসা লাগতো। এই কাজ দেখিয়ে আমেরিকার ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন থেকে ১০ হাজার ডলার স্কলারশিপ পেলাম। ঐ সময় এটা অনেক বড় প্রাপ্তি ছিল। মনে হলো, আমাকে দিয়ে আরো ভালো কিছু হবে।

একদিন আমার ভার্সিটির নিউজ বোর্ডে নাসার একটা বিজ্ঞপ্তি দেখলাম। একটা প্রজেক্ট বানাতে হবে যেটা মহাকাশে যাবে। এই কাজটাতে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। একটা টিম গঠন করলাম। প্রোগ্রামিং শিখলাম, ইলেকট্রনিক্স শিখলাম নিজে নিজে। আমার ফিল্ড বায়োকেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। সে হিসেবে বায়োলজি রিলেটেড কিছু করা আমার জন্য তুলনামূলক সহজ ছিল। কিন্তু কঠিন কাজ করার সিদ্ধান্ত যেহেতু নিয়েছি, সেহেতু করতেই হবে। নাসার সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো দেখা শুরু করলাম। দেখলাম ওরা ফাঙ্গি (ফাঙ্গাস) পাঠিয়েছে মহাকাশে- যেটার ৬০% সারভাইভ করেছে। আমরা এর পরবর্তী ধাপ চিন্তা করলাম। ফাঙ্গি নিজের খাবার নিজে বানাতে পারে না। আমরা ভাবলাম, ফটোসিনথেসিস করে, এমন কিছু নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করি। নাসাতে এই প্রস্তাব দিলাম। তারা এটা গ্রহণ করে বড় একটা ফান্ড দিলো। কলেজ থেকে ল্যাবরেটরীতে কাজ করার অনুমতি মিললো, যেখানে প্রফেসররা ছাড়া আর কেউ যায় না। কিন্তু সেখানে আমরা ৪ জন গিয়ে কাজ করার অনুমতি পেলাম।

13595631_1075852015794925_1571148369_nততদিনে আবার ক্যাম্পাস স্টার হয়ে গেছি। কলেজেই ম্যাথ টিউটরিং এর একটা চাকরি নিলাম। প্রি-এ্যালজেবরা থেকে ক্যালকুলাস 3 পড়াই। সময়গুলো ক্লাস, গবেষণা আর চাকরির মধ্যে ভাগ হয়ে গেলো। অর্থাৎ সিভি ভারী করা চেষ্টা চলতে লাগলো। ৪ মাস সময়কালের একটা গবেষণা নাসাতে পাঠালাম। ‘হট এয়ার বেলনে’ সেটা ১ লাখ ফিট দূরত্বের মহাকাশে পাঠানো হলো। একটা সার্টিফিকেট পেলাম, পেলাম আরেকটা স্কলারশিপ। নাসার ওয়েবসাইটে আমাদের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হলো।

‘রকঅন’ খুবই প্রতিযোগিতামূলক একটা ওয়ার্কশপ। ভবিষ্যতে মহাকাশে কিছু করার জন্য হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এখানে। এবার পুরো আমেরিকা থেকে ৬৮ জনকে নিয়েছে ‘রকঅন’ ওয়ার্কশপে। সেখানে ফ্যাকাল্টি আছে, স্টুডেন্ট আছে, ইঞ্জিনিয়াররা আছে। তবে স্টুডেন্ট হিসেবে চান্স পাওয়া খুব কঠিন। আমার টিমের ৪ জন থেকে আমি একাই চান্স পেয়েছি। নাসার ফ্যাকাল্টিতে রেখেছে আমাদের। তাদের সব কাজ দেখিয়েছে। রেঞ্জ কন্ট্রোল থেকে মহাকাশ যান পাঠানো পর্যন্ত। সেখানে নাসার বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের প্রেজেন্টেশন ছিল।

13509403_1073051396074987_67498315_o‘রকঅন’ এর কর্মশালায় টিমের সদস্যদের কাউকে আমি আগে চিনতাম না। ৬ জনের টিমে আমি একমাত্র মেয়ে ছিলাম। ওরা এক মূহুর্তের জন্য আমাকে অসম্মান করেনি। আসার পথে বিমানবন্দরে ভিন্ন চোখে তাকিয়েছে মানুষ। যে নিরাপত্তা তল্লাশি অন্যদের জন্য একবার হয়, আমাকে সেটা ৩ বার করেছে। এমনকি আলাদা একটা ঘরে নিয়ে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষা করেছে ২ জন অফিসার। ওরলান্ডোর ঘটনার পর অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এগুলো। কিন্তু খুব অপমানজনক ছিল। শেষ পর্যন্ত ওদের শীর্ষ কর্মকর্তা এসে সরি বলে গেছে।

টিমে একজন আফ্রিকান ছিল, ইউক্রেনিয়ান ছিল একজন, ইন্ডিয়ান ছিল একজন আর আমি। এছাড়া বাকি সবাই আমেরিকান হোয়াইট। মেক্সিক্যান ২/৩ জন ছিল। কিন্তু তাদের জন্ম আমেরিকাতেই। সত্যি বলতে কি, এই কাজ করতে গিয়ে আমার যে অভিজ্ঞতা হলো তাতে মনে হচ্ছে, তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে গেলে আমাদের আরো ৩ গুণ বেশি চেষ্টা করতে হবে। কারণ, এমনিতেই অভিবাসীদের জন্য অনেক কিছু কঠিন। আর ধর্মপ্রাণ মুসলিম হলে আরো কঠিন। একটু ভুল করলেই বিশাল ড্রামা শুরু হয়।

আমাদের কাজ ছিল সাউন্ডিং রকেট এর জন্য কিছু যন্ত্রাংশ প্রস্তুত করা। এর জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু সরবরাহ করেছে নাসা। এটা ৭ দিনের একটা ওয়ার্কশপ ছিল। কিন্তু এটা অনেক কঠিন ছিল। কারণ, আমরা জানতাম না যে, কি করতে হবে। সবচেয়ে অবাক করা মূহুর্ত ছিল যখন তারা বললো যে, আমরা রকেট বানানো দেখবো এবং রকেটের বডিতে স্বাক্ষর করতে পারবো। আসলে খুবই মূল্যবান মূহুর্ত এটা। আরো চমক অপেক্ষায় ছিল। রকেটে ১১ গ্রাম ওজনের মধ্যে কোন স্মারক (স্যুভেনির) পাঠানোর অনুমতি দেয়া হলো আমাকে। বাংলাদেশের একটা ফ্ল্যাগ দিলাম, আমেরিকার একটা ফ্ল্যাগ দিলাম আর পরিবারের একটা ছবি।

২৪ জুন-সকাল ৬:০৫ টা।

আটলান্টিকের ঠিক পাশে রকেট উৎক্ষেপন করা হয়েছে। ১৫০০ ফুট দূর থেকে আমরা সেটা দাঁড়িয়ে দেখেছি। মহাকাশে প্রায় ৬ লাখ ফুট দূরত্বে পাঠানো হয়েছে রকেটটি। ঠিক সিনেমায় দেখা দৃশ্যের মতো। কিন্তু সেটা আমার সামনে হয়েছে। অসাধারণ টিম ছিল আমার। মাত্র ১০ সেকেন্ড আমরা দেখতে পেরেছি রকেটটা। এটা আমার জীবনের সেটা ১০ সেকেন্ড। নাসা এখন আমার কাছে ঘোরের মতো হয়ে গেছে। নাসার লোগোওয়ালা এত জিনিস এখন আমার কাছে যে, পরিচিতরা দুষ্টমি করে বলে- নাসার উচিত ওদের বিজ্ঞাপন করার জন্য আমাকে টাকা দেয়া। উৎক্ষেপন করা রকেট আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সেখানকার সব ডাটা কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের দেয়া হয়েছে। আনন্দের ব্যাপার হলো, আমরা গবেষণা করে যা যা তৈরি করেছিলাম মহাকাশে তার সবগুলোই কাজ করেছে। নাসার একমাত্র নোবেল বিজয়ী John C Mather আমাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

13553135_1073045752742218_1245161540_nমজার একটা কাজ করেছি। কয়েকজনকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত শুনিয়ে দিয়েছি। যথেষ্ট পাগলামি, যথেষ্ট মজা করেছি। বাংলাদেশের নামও শোনেনি এমন কিছু মানুষের কাছে একটা ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে পেরেছি, এটাই আমার জন্য বিশেষ ব্যাপার ছিল। যখন রকেট উৎক্ষেপন করা হচ্ছিল তখন কেমন যে লাগছিলো! ঐটাতে আমার সিগনেচার, আমার পতাকা, আমার পরিচয়-ভাষা প্রকাশ করতে পারবো না। আমি যে রকেটের গায়ে সাক্ষর করেছি, নাসা এটা সবসময় সংরক্ষণ করবে। এমনকি এটা তাপমাত্রা বা অন্য কোনভাবে নষ্ট হবে না। এটা আমার জন্য অনেক বড় কিছু।

13523959_1073044956075631_894343388_o

এরপর বেশ কিছু প্রজেক্ট থেকে আমাকে ডাকছে। কিন্তু কোনটার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। এগুলোর কোন একটাতে কাজ করবো। আর আমার নিজেরও কিছু পরিকল্পনা আছে। টিনএজারদের নিয়ে কাজ করতে চাই। ওদেরকে মহাকাশ সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলার জন্য। এমন প্রোজেক্টে টাকা দেয় নাসা। আগস্ট পর্যন্ত সময় আছে। আমি যতটুকু জানি তা দিয়ে- এখনই শুরু করতে পারি। কিন্তু তারপরও ভাবনার জন্য একটু সময় নিচ্ছি। এটা কমপক্ষে এক থেকে দেড় বছরের কাজ। ভার্সিটি, চাকরি, সংসার-সবমিলিয়ে কতটা সময় বের করতে পারবো তার উপর নির্ভর করবে সিদ্ধান্ত।’

  • আনিকা নূর, ডেনভার, কলোরাডো, যুক্তরাষ্ট্র।
শেয়ার করুন

৮১ Replies to “মোহাম্মদপুর থেকে নাসা: মহাকাশে বাংলাদেশের পতাকা

  1. আমি একজন বীর মুক্তি যোদ্ধা।
    আমি তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
    বাংলাদেশের নাম আরও ছড়িয়ে যাক তোমার নিত্যনতুন আবিষ্কারে।
    আল্লাহ তোমার সহায় হউন।
    আমার দোআ রইল।

  2. প্রিপারেটরি পরিবারের পক্ষ থেকে আমার দোয়া রইল তোমার জন্য…
    তুমি আমাদের অহংকার হয়ে উঠো। তোমার আলো প্রিপারেটরির সবাইকে উজ্জীবিত করুক।

  3. একজনের কাছে আপনার কথা অনেক শুনেছি, এবার দেখেও নিলাম। ভাল লাগলো আপনার সাফল্য দেখে। You did a great job. Well done. আপনার কষ্টগুলো বিফলে যায়নি। 🙂

  4. সাফল্য সবাই আনতে পারেনা , কেউ কেউ আনে। আর তা পুরো জাতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা দিয়ে উপভোগ করে। এ সাফল্যের গল্প পড়ে সত্যিই অভিভূত । অনেক শুভেচ্ছা ও দোয়া ।

  5. You brought respect for yourself ,your family and above all for our coutry. Salute you . Please keep going .

  6. আমি প্রিপারেটরি ইসকুলে ক্লাস সেভেনে পরি আপু আমি প্রাউড তোমার জন্য।

  7. we r really proud of u. apu u know well that in Bangladesh there are many people interested about Astronomy & NASA. but we dont have enough source, so as u r saying that u want to make people interested on it would u please start it from ur land Bangladesh ….. we will be too much lucky if we get u among us.

  8. Wow. Read ur post really it was amazing journey trust u will go long the grace of Allah. Best wishes.

    We expect ur contribution as u said to inspire our youth what you know with a project for which NASA even inpires.

  9. এক কথায় স্যালুট। এত বড় প্রজেক্ট এ কাজ করতে যে কি পরিমান কস্ট করতে হয়েছে, আর বাহিরে কিছু করতে গেলে কি কি পোহাতে হয়, যারা কাজ করছেন, তারাই জানেন,,বাংলাদেশের প্রমোটার হিসাবে কাজ করার জন্য আমরা সাড়া জীবন আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো। এগিয়ে চলো নতুন উদ্যোমে,,, আল্লাহ তোমার সহায় হোন।

  10. as a Bangladeshi I m so proud for u sister
    wishes to ur radiant future where u will b an ideal for others who wants to go NASA to proof their capacity as a scientist

  11. ধন্য ধন্য … আমরা আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো প্রিয় বোন অনিকা …

  12. মা আনিকা নূর আসসালাম আলাইকুম বা রহমাতুল্লাহ,

    শুভেচ্ছা এবং অনেক শ্রদ্ধা জানতে চাই তোমার চ্যালেঞ্জেস এর জন্য. Outstanding Achievement এর জন্য.
    আমি 34 বছর ধরে সৌদি প্রবাসী, যে-স্টেজে এসে আমি এখন দাঁড়িয়ে রয়েছি, এখানে আসতে আমার পুরো 25 বছর লেগেছে; অথচ দূরত্ব ছিল শুধু ক’খানা উন্নতির সিঁড়ি !
    সাথে পেয়েছি শুধু কিছু ভালো অর্থকড়ি- বিত্ত আর নিজের শক্ত একটা কেদারা I

    আর তুমি যে কাজ মাত্র চার বছরে সম্পন্ন করতে পেরেছো এর দূরত্ব ক’লাখ সিঁড়ি বছর – আমি বিশ্বাস করি এভাবেই.
    (ইটস 100s of 1000 years work my daughter !! ) – আমি এর নাম দিয়েছি “চার হাজার আলোক বর্ষ সাকসেস স্টোরি” II তুমি সত্যিই একজন বিরল স্টার; লাখো বছরে শুধু একবারই উদয় হয় এমন স্টার মহাবিশ্বে – এটা বলাই বাহুল্য !!
    তোমার প্রতিটি খবর, কথা, write-up মনোযোগ দিয়ে পড়েছি, যতই পড়েছি ততই অবাক বিস্ময়ে অভিভূত হয়েছি. 1971 সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের যোদ্ধা একজন আমি, মাত্র ন’টি মাসের bloody war-এ ত্রিশ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে (পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল) কত যে মা বোন সম্ভ্রম হারা হয়েছে, জীবন দিয়েছে !! তার হিসেব নাইবা দিলেম আজ.
    শুধু বলতে ইচ্ছে করে যুদ্ধ জয়ের মাত্র সাড়ে চার বছরের মাথায় কর্মযোগের (*addendum in national history )….. বিপরীতে (despite) আমরা জাতির পিতা হত্যা করে আর একটি বিরল কালো-ইতিহাস রচনা করেছি !
    অসাধারণ ভাবে গেরিলা যুদ্ধের ট্রেনিং প্রাপ্ত লাখো মুক্তি সেনানী আমরা পালিয়ে বেঁচেছি যেন I এর কিছু বছর পরে আমি নিজেও দেশ ছেড়ে পালিয়ে বেঁচেছি ! আমার সকল গেরিলা যুদ্ধের ট্রেনিং প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা (with due Respect)
    নিজেরা পালিয়ে আপন জীবন বাঁচিয়ে মহা আনন্দেই কাব্য রচনা করছি, অর্থ উপার্জন করছি; ভালোইতো আছি পালিয়ে !

    তুমি চার বছরের মধ্যে মাত্র বোধহয় দুটি বছর পেয়েছিলে নাসা’র সাথে যৌগিক কাজে হাত লাগাতে. তোমার Achievement- আবারো বলছি extraordinary / outstanding !!
    QUOTE ….
    * আমাদের কাজ ছিল সাউন্ডিং রকেট এর জন্য কিছু যন্ত্রাংশ প্রস্তুত করা। এর জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু সরবরাহ করেছে নাসা। এটা ৭ দিনের একটা ওয়ার্কশপ ছিল। কিন্তু এটা অনেক কঠিন ছিল। কারণ, আমরা জানতাম না যে, কি করতে হবে। সবচেয়ে অবাক করা মূহুর্ত ছিল যখন তারা বললো যে, আমরা রকেট বানানো দেখবো এবং রকেটের বডিতে স্বাক্ষর করতে পারবো। আসলে খুবই মূল্যবান মূহুর্ত এটা। আরো চমক অপেক্ষায় ছিল। রকেটে ১১ গ্রাম ওজনের মধ্যে কোন স্মারক (স্যুভেনির) পাঠানোর অনুমতি দেয়া হলো আমাকে। বাংলাদেশের একটা ফ্ল্যাগ দিলাম, আমেরিকার একটা ফ্ল্যাগ দিলাম আর পরিবারের একটা ছবি II
    ** আনন্দের ব্যাপার হলো, আমরা গবেষণা করে যা যা তৈরি করেছিলাম মহাকাশে তার সবগুলোই কাজ করেছে। নাসার একমাত্র নোবেল বিজয়ী John C Mather আমাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
    *** মজার একটা কাজ করেছি। কয়েকজনকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত শুনিয়ে দিয়েছি। যথেষ্ট পাগলামি, যথেষ্ট মজা করেছি। বাংলাদেশের নামও শোনেনি এমন কিছু মানুষের কাছে একটা ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে পেরেছি, এটাই আমার জন্য বিশেষ ব্যাপার ছিল।
    UNQUOTE ….

    SALUTE তোমাকে মা.

  13. অভিনন্দন। তুমি আমাদের অহংকার। তোমার সাফল্য আমাদেরকে আশান্বিত করে। তোমার উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করি। বিজয় নুকুট তোমার জন্য।

  14. Congratulation …..i am also interested about NASA….i also live in Mohammadpur Dhaka…Feeling proud about you…

  15. apu amner ai safollo ameder jonno ak inspiretion hisebe kaj korbe. as a muslim & as a bangladeshi we r all proud of u. apner jonno doa roilo jute apapni aro boro kono project a kaj kore amer aro proud korte paren

  16. আনিকা নুর আমার বাংলা- মায়ের অহংকার, তোমাকে সালাম,
    এগিয়ে যাও আপু আনিকা নূর, বাংলার মানুষের দোয়া সবসময় তোমার জন্য থাকবে,তুমি বাংলার মানুষের গর্বিত একজন

  17. আপনার মত হতে পারবো কিনা জানি না…..উজ্জ্বল হয়েছে আমাদের দেশ,আমাদের মুখ….:-)

  18. আমাদের অহংকার করার মতো অনেক কিছু আছে। আপনারা আছেন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। অভিনন্দন আপনাকে।

  19. Hi,I`m Porshia.I am 10 years old.I`m also Bangladeshi.But now I live in Sweden.I`m really interested to work with you.Can you help me to do this?

  20. মনে হচ্ছে কোন গল্প পডলাম। আমার মেয়ে পৃপারেটরি থেকে 2011 সালে HSC পাশ করেছে । জানিনা ওকে কলেজে পৌঁছানোর সময় কখন তোমাকে দেখেছি কিনা । গর্ব এ বুক ভরে গেল । তোমাদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ । তুমি হবে অনুপেরনা হাজারো তরুণ তরুণীর। অভিনন্দন ও দোওযা ।

  21. Dear Anika,
    Proud of you. Last few days I was upset with Gulshan killing.
    Now reading your writing, I am thinking among the bad guy’s we have one Anika who is equivalent to million of good guy’s. I have 2 kids. They are studying in State University at Albany in computer science. I tell them to follow you as example. Anyway God bless you for more achievements.

  22. সংবাদটা প‌ড়ে গ‌র্বে বুক ভ‌রে গেল। আরো ভা‌লো এবং বড় কিছু বি‌শেষ দে‌শের আরো সম্মান আস‌বে আপনার মাধ্য‌মে এ দোয় কর‌ছি।

  23. আর ও কিছু কর , আর ও বড় হও ‍।শুভ কামনা রইল তোমার প্রতি

  24. Proud of “Anika Noor”.You have done a lot of great quality. Which is a lot of pride for us. I pray to Allah, He helps you move forward. May Allah bless you.

  25. এক দুঃসাধ্য কাজ তুমি করেছো মামণি।এগিয়ে যাও তুমি, বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করো,গুলশান ট্রাজেডিতে বিনষ্ট ভাবমূর্তি তোমার সাফল্যে আবরও উদভাসিত হউক বাংলাদেশের ভাবমুর্তি পৃথিবী ব্যাপী।তোমার কঠোর পরিশ্রমে পৃথিবী ব্যাপী পরিচিতি পাক বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা—-আমাদের আন্তরিক আর্শীবাদ মা-মণি তোমার প্রতি।

  26. বয়সে জুনিয়র হলেও কেমন জানি বার বার সম্মান করতে ইচ্ছে করতেছে।
    যেখানে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি তার ধর্মীয় অনুভূতিতে একটু ছিড় ধরাতে পারলোনা।

  27. তুমি আমাদের সোনালী প্রত্যাশার অহংকার, তুমি আমাদের আদরেরর মেয়ে, তুমি এ দুর্ভাগা জাতিকে উর্ধাকাশে পরিচিত করেছ, জাতিকে এনে দিয়েছ রাজমুকুটের সন্মান, ২৪ বছর শিক্সকতায় কিচুই করতে পারিনি, ছাত্র বয়সে মাত্র চার বছরে আল্লাহর রহমতে তুমি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছ, তোমার জন্য মহা মহিমের নিকট শুধুই চাওয়া, তুমি হবে বাংলার পরিচয়, ড. ডালিয়া মুজাহিদকে পিছে ফেলে তুমি এগিয়ে যাবে, বিশ্বসেরা পর্দানশীন নারীদের তুমিই হবে অহংকার, আমার মেয়ে ভিকারুন্নিসা স্কুলে ক্লাস নাইনে পড়ে, তোমার কথা গুলো তাকে বিস্বয়াভিভূত করেছে, উৎসাহিত করেছে, আমরা দোয়া করি, তোমার মত লক্ষ – কোটী মেয়ে আমরা যেন জন্ম দিতে পারি, আল্লাহ সহায় হোন। আমীন।

  28. তুমি আমাদের অহংকার, তোমার জন্য দোয়া, ভালবাসা ও শুভ কামনা থাকলো।

  29. As ex-student of Rifles Public School (1977 to 1986, SSC Batch-1986), I am also proud and overwhelmed with your remarkable success. May Almighty Allah grant you strenghth, passions and wisdom to bring more laurals for Bangladesh. Best wishes to you and your family, Mosayed

  30. আপু, আপনি এগিয়ে যান, আমরা আপনাকে অনুসরন করব, ইন শা আল্লাহ।
    জাহীন, নবম শ্রেনি, ভিকারুননিসা স্কুল, ঢাকা

  31. We all proud of you , keep doing this great thing , never give up . I like to invite you in Boston to say something for Bangladeshi American youth.
    Thank you
    Allah bless you

  32. অনেক অনেক শুভেচছা থাকলো তোমার জন্য। তুমি আমাদের অহংকার।

  33. Tomay hazaro salam ! lokkho ovinondon ! Keep it up and go ahead ! You will go far far ahead ! May Allah take care of you !

    One day Bangladesh will feel proud about you ! Ami she diner opekkhay roilam ! Valo theko !

  34. my batchmate. loving friend.
    we as the ripublican family are feel of you.
    go ahead.
    god bless you friend.

  35. my batchmate. loving friend.
    we as the ripublican family are feel proud of you.
    go ahead.
    god bless you friend.

  36. তুমি আমাদের অহংকার, তোমার জন্য ভালবাসা ও শুভ কামনা থাকলো।

  37. আমার দেখা ছোট্ট ফুটফুটে শিশুটি আজ সত্যি সৌরভ ছরাতে সুরু করেছে। তার জীবনের পথটুকু যেন হয় কণ্টকমুক্ত সেই কামনায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.