ডেনমার্ক থেকে সবুজ প্রযুক্তি যাবে বাংলাদেশে: রাষ্ট্রদূত

collage-2016-05-31.jpg
‘ডেনমার্ক আমাদের পরীক্ষিত এবং বিশ্বস্ত বন্ধু। কারণ আমাদের স্বাধীনতার সময়েও আমরা ডেনমার্কের জনগনের কাছ থেকে নৈতিক সমর্থন পেয়েছি এবং স্বাধীনতার পর প্রথম যে কয়েকটা দেশ আমাদেরকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, ডেনমার্ক তার মধ্যে একটা। ঢাকায় ১৯৭২ সালে ডেনমার্ক তাঁদের দূতাবাস স্থাপন করেছে, যেটা খুবই এ্যাকটিভ এবং বিশ্বমানের দূতাবাস। তারপরে গত ৪৩-৪৪ বছরে আমরা দেখেছি তাঁরা সব সময় আমাদের সহযোগী হয়েছে। নানান আন্তর্জাতিক সংকট যেমন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ডেনমার্ক সব সময় আমাদের পাশে ছিল। এখনও তাঁদের যে আগ্রহ দৃশ্যমান। বিশেষ করে কোপেনহেগেনে আমাদের দূতাবাস স্থাপন হওয়ার পর এটা আরো অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে এবং পাচ্ছে বলে আমরা দেখতে পাচ্ছি।’
কথাগুলো বলছিলেন, ডেনমার্কে নিযুক্ত বাংলাদেশর রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত। সৌর ও বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়াও বাসা-বাড়ি ও কলকারখানায় উন্নত জ্বালানী ব্যবস্থাপনা, অপচয় রোধসহ জ্বালানীর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ডেনমার্কের সবুজ প্রযুক্তি (গ্রীন টেকনোলজি) বাংলাদেশে নিয়ে যেতে কাজ শুরু করেছে, কোপেনহেগেনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দেশটির সাথে বাংলাদেশের বছরে ৮০০ মিলিয়ন ইউএস ডলারের দ্বিপাক্ষিক বানিজ্য থাকলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাসহ মূলত: ডেনিশ প্রযুক্তিতে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করাকেই প্রধান টার্গেট হিসেবে নিয়েছেন দায়িত্বরত রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত। এই প্রতিবেদকের সাথে রাষ্ট্রদূতের একান্ত আলাপচারিতায় উঠে আসে ডেনমার্ক-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন। বানিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়টিই উঠে এলো প্রথমে। রাষ্ট্রদূত বললেন, 
‘ডেনমার্কে বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানীর পরিমাণ প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং তার বিপরীতে ডেনমার্ক থেকে আমরা আমদানী করি প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের পন্য। বানিজ্যের পরিমাণটা খুব একটা বিশাল আমি বলবো না। এর কারণ হতে পারে, জনসংখ্যার দিক দিয়ে ডেনমার্ক ছোট একটা রাষ্ট্র যার জনসংখ্যা মাত্র ৫৫ লাখ। আমরা যে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের পন্য রপ্তানী করি, তার ৯০ শতাংশ হচ্ছে তৈরী পোশাক যেটা ডিউটি ফ্রি বা শুল্কমুক্ত সুবিধা এখানে পেয়ে থাকে।’
রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত বলছেন, তৈরি পোশাক ছাড়াও বিভিন্ন অপ্রচলিত পণ্য যেমন ঔষধ সামগ্রী, সিরামিক, পাটজাত পন্য- এগুলোর রপ্তানী বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা চলছে। ডেনমার্কে এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কয়েকটি সমুদ্রগামী জাহাজও রপ্তানী করা হয়েছে। বললেন, আরো উজ্বল সম্ভাবনা আছে সামনে। 
‘রপ্তানী বৃদ্ধির উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখি এখানে। কিন্তু ডেনমার্ক যেহেতু ছোট একটা দেশ এবং কম জনসংখ্যার কারণে হয়তো সেই সম্ভাবনাটা সীমাহীন নয়। সেজন্য এখানে আমাদের দূতাবাসের প্রধান টার্গেট হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী যে সবুজ ইস্যুগুলো রয়েছে, যেমন নবায়নযোগ্য জ্বালানী শক্তি, জ্বালানি সাশ্রয় ও দক্ষতা বৃদ্ধি, দক্ষ ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো। যে কোন সবুজ প্রযুক্তিতে ডেনমার্ক যেহেতু পৃথিবীর প্রথম সারির দেশের একটা, তাই বাংলাদেশের আজকের ও আগামীর প্রেক্ষাপট এবং প্রয়োজনে ডেনমার্ক আমাদের জন্য অমিত সম্ভাবনার দেশ হতে পারে।’
 জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের জনগনের স্বাস্থ্যের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তাতেও। বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা যেহেতু ক্রমাগতই হুমকির মধ্যে থাকবে, তাই ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে ডেনমার্কের যে সবুজ প্রযুক্তি আছে সেদিকেও আগ্রহ আছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের। ডেনিশ কোম্পানীগুলোরও আগ্রহ আছে বাংলাদেশের দিকে।  এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলছেন,
ইতিমধ্যে ৭০টি ডেনিশ কোম্পানী বাংলাদেশে রেজিস্টার্ড হয়েছে এবং তাদের বিপুল আগ্রহ আছে মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, আমাদের বিপুল চাহিদা আছে আর দ্বিতীয়ত, আমাদের এখন যে আর্থ-সামাজিক সক্ষমতা তাতে যে কোন ডেনিশ সহযোগিতা বা বিনিয়োগ, এমনকি সরকার টু সরকার সহযোগিতার ক্ষেত্রেও আমরা কিন্তু একটা ‘উইন-উইন’ ‍অবস্থা অফার করতে পারি তাদেরকে। একতরফার দিন শেষ। একটা সময় ছিল আমরা খুব বেশি বিদেশী সাহায্য-নির্ভর ছিলাম। তারপর আমরা বলতাম ‘নো এইড, ট্রেইড’। এখন আমরা জোরেশোরেই বলছি ‘নো এইড, ট্রেইড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট। সক্ষমতার জন্য বাংলাদেশ তাই হতে পারে অত্যন্ত আকর্ষনীয় একটি ইনভেস্টমেন্ট স্টেশন।’
এই বিনিয়োগ এবং ব্যবসার সম্ভাবনার বিপরীতে বাস্তব চিত্র কি? এ প্রশ্নও উঠে এলো আলাপচারিতায়। রাষ্ট্রদূত মুহিত জানালেন, বাংলাদেশ সরকার ১০০টি বিশেষ ইকোনমিক জোন বা অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরী করছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার বিদেশী বিনিয়োগ আশা করা হচ্ছে ডেনমার্কসহ সারা পৃথিবী থেকে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ৩৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ চলছে এবং ২০১৭ সালের মধ্যে ১০টি প্রস্তুত হয়ে যাবে। ডেনিশ বিনিয়োগকারীদের জন্য এটা খুব ভালো সুযোগ তৈরী করবে বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য।
কোপেনহেগেনে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার পর বেশ কয়েক দফায় মন্ত্রী পর্যায়ের সফর হয়েছে উভয় দেশেই। গত অক্টোবরে শিল্পমন্ত্রী এবং সাম্প্রতিক সময়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ডেনমার্ক সফর করেন। ডেনিশ সরকারের পক্ষ থেকে গত ১ বছরে ৩ বার মন্ত্রী পর্যায়ের সফর হয়েছে ঢাকায়। চলতি বছর দু’দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ফরেন অফিস কনসালটেন্সি (এফওসি) বৈঠক আয়োজনের কাজ চলছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত।এমনকি ডেনমার্কে বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগের প্রসঙ্গও উঠে এলো তার কথায়।
‘এটি হয়ে গেলে অদূর ভবিষ্যতে আরো হাই-প্রোফাইল ভিজিটের ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে। চেষ্টা করবো আমার দায়িত্ব পালনের সময়ে যেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডেনমার্কে সরকারী সফরে আসতে পারেন। দূতাবাস প্রতিষ্ঠার পর ডেনমার্কে বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরী হচ্ছে। বিষয়টি ক্রমাগত ফলোআপ করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যাওয়া এবং আলোচনায় বসা- যেটা আমরা ইতিমধ্যে শুরু করেছি। দূতাবাস না থাকার কারনে এতোদিন এটা সম্ভব হয়ে উঠেনি। বছরখানেকের মধ্যেই ভালো কিছু আমরা আশা করতে পারি। 
 । প্রতিবেদক: মাঈনুল ইসলাম নাসিম ।

২ Replies to “ডেনমার্ক থেকে সবুজ প্রযুক্তি যাবে বাংলাদেশে: রাষ্ট্রদূত”

  1. S Islam says:

    Nice report toward relation development ..

  2. nadim says:

    extreme factory pollution in bangladesh

    https://youtu.be/EhO2VLWN9zw?list=PLk6X-YiA3bqRP-HmqmFUpZ00XkGQWaZxQ
    we are living in dinajpur, this video is about factory resides our house which is running 24 hours, i am requesting to our community if they could do something about it.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.