ব্লগ স্পেন

জাফিরা ইয়ানির দিনগুলো বদলে যাচ্ছে

জাফিরা ইয়ানির দিনগুলো বদলে যাচ্ছে। ইদানিং খুব ভোরে তার মা তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে। ঘুম ঘুম চোখে তাকে দাঁত ব্রাশ করতে হয়, মুখ ধুতে হয়, সেরেয়াল এর দুধ খেতে হয় ( যদিও সব কিছু তার মা করিয়ে দেয় )। এসবের ফাঁকেই মা অন্য কাজে একটু ব্যস্ত হলেই ইয়ানি বাবার পাশে এসে একটু খানি শুয়ে পড়ে, বাবার গলা ধরে আশ্রয় চায়। শীত এসে যাচ্ছে, তার এত সকাল সকাল স্কুলে যেতে ভালো লাগে না।  এরপরেও মা এর ধমক খেয়ে তাকে প্রস্তুত হতেই হয়। স্কুলটা তার বাসার পেছনেই। তবুও অনেক সময় নিয়ে আস্তে আস্তে কখনো বাবা কখনো মা এর হাত ধরে হাঁটতে থাকে সে, হাঁটার সময় বার বার থামে, পথের পাশে ফুটে থাকা বুনো ফুলের কাছে ছুটে যায়। ভাঙা ভাঙা উচ্চারণে বলে ___’ফ্লোয়ার ফ্লোয়ার’। তাকে ফুলের কাছ থেকে টেনে আনলে সে খুব মন খারাপ করে। আবারো খুব অনিচ্ছায় অনেক আলসেমিতে হেলে দুলে হাঁটতে থাকে সে। ক্লাসে যখন তাকে পৌঁছে দেয়া হয়, সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে কিছু সময়। ‘আগুর’ বলে যখন তাকে বিদায় বলা হয়, খুব করুন আর অসহায় চোখে তাকিয়ে থাকে সে।
তবে বিকাল চারটায় যখন তার স্কুল ছুটি হয়, সে খুব আনন্দ নিয়ে বাসায় ফেরে। বাবা যদি সাথে থাকে, কিছু সময় পর পর সে জোরে লম্বা করে ডাক দেয় ___’বাআআআ বাআআ’। বাবার কলিজাটা কেউ যেন টেনে ধরে তখন।

একটা ডাকের কত শক্তি ! বাবা আনমনা হতে থাকে, ফিরে যায় তার শৈশবে। বাবার স্কুলটাও বাড়ির পাশেই ছিল। বাবাও খুব আলসেমিতে সবার শেষে ক্লাসে ঢুকতো। ক্লাস বড় ওয়ান বা টু এর কথাই হবে হয়তো- স্কুলে যাবার সময় বাবা ভাবতো ছোটদের কেন স্কুলে যেতে হয় ? কবে সে বড় হবে?

এখন জাফিরা ইয়ানির দিন। সেও হয়তো এমনি ভাববে। যদিও সে তার কথাগুলো বুঝিয়ে বলতে পারে না। কারণ, সে এখনো নিজের ভাষাতেই বেশি কথা বলে যা বাবা মা বোঝে না। বাংলা দুই একটা শব্দ বলে, দুই একটা স্প্যানিশ, দুই একটা ইউসকেরা, দুই একটা ইংলিশ। এত ভাষার ব্যবহার তার জন্য একটু ঝক্কির বিষয় তো অবশ্যই !!
জাফিরা ইয়ানির নতুন জীবন শুরু হয়েছে। বড়ো হবার জন্য প্রস্তুতি, পৃথিবীর সাথে পরিচয়ের প্রস্তুতি, অক্ষর, শব্দ মালার সাথে পরিচয়ের প্রস্তুতি ! সেও হয়তো একদিন ভাববে কবে সে বড়ো হবে! যেদিন ঠিক বড় হবে, যেদিন নিজের ছেলে-মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাবে ঠিক সেদিন হয়তো সেও ফিরে যেতে চাইবে তার আজকের এই জীবনে- ঠিক যেমনটি আজ তার বাবা চায় !!!

ইয়ানির জন্য বাবার শুভকামনা এই যে, সে যেন জীবনের প্রতিটি অনুভূতি র সাথে পরিচিত হতে পারে, সে যেন জীবনের অর্থ খুঁজে পায় !!!

Shah Imran

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.