Featured বাংলাদেশ থেকে

সাকিব-মোস্তাফিজদের দারুণ বোলিংয়ে বিপর্যস্ত জিম্বাবুয়ে

শেয়ার করুন

প্রথম চারটা বল এদিক-ওদিক হলো। বাংলাদেশের ইনিংসের ১১ নম্বর ওভারে প্রথম আক্রমণে এসে মোস্তাফিজুর রহমান পঞ্চম বলটা যেভাবে করলেন বুঝেই উঠতে পারলেন না ব্রেন্ডন টেইলর। বল জমা হলো মুশফিকুর রহিমের গ্লাফসে। সেই শুরু, এরপর বল হাতে স্লোয়ার আর কাটারে জিম্বাবুয়ান ব্যাটসম্যানদের শুধু বোকাই বানিয়ে গেলেন মোস্তাফিজ। মাশরাফি বিন মর্তুজাকে দেখা গেল সম্প্রতি কয়েকটা সিরিজ ও গত বিপিএলের মতোই দুর্দান্ত। সাকিব আল হাসান বরাবরের মতোই দুর্বার। সানজামুল হক, রুবেল হোসেনরাও সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। এরপর জিম্বাবুয়ের কী হাল হওয়ার কথা, তা তো বোঝাই যায়!

‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’—ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে কথাটা বাংলাদেশের জন্য অন্তত সত্যি। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা টস জেতার পর জিম্বাবুয়ে ইনিংসের গতিপথ প্রথম ওভারেই ঠিক করে দেন সাকিব আল হাসান। রুবেল-মোস্তাফিজুররা মিলে সেরেছেন বাকি কাজটুকু। তাতে গ্রায়েম ক্রেমারের দলের জন্য দুই শ রান ‘দূরের বাতিঘর’ হয়েই রইল। প্রথম ম্যাচে ৪৯ ওভারেই গুটিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৭১ রান।

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দর্শকেরা থিতু হয়ে বসার আগেই জোড়া আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। জিম্বাবুয়ের ইনিংসে দ্বিতীয় বলেই সলোমন মায়ারকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন সাকিব। ওয়াইড ডেলিভারিটি খেলতে গিয়ে মায়ারের পেছনের পা উঠে গিয়েছিল। এ সুযোগে তাঁকে স্টাম্পিং করেন মুশফিকুর রহিম। এক বল পরই আরভিনকে মিড উইকেটে সাব্বির রহমানের ক্যাচে পরিণত করেন সাকিব। তাঁর ঘূর্ণিতে শুরুতেই পথ হারানো জিম্বাবুয়ে পরে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

অষ্টম ওভারে হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপর্যয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করেন অধিনায়ক মাশরাফি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামা ব্রেন্ডন টেলরকেও দ্রুত ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশি এ পেসারের কাটার-স্লোয়ারগুলো আজ উইকেটে বেশ ধরেছে। শেরেবাংলার মন্থর উইকেটে মোস্তাফিজের কাটার-স্লোয়ার বুঝতে বেশ সমস্যাই হয়েছে জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের।

আফ্রিকার দেশটি শেষ পর্যন্ত দেড়শও ছাড়িয়ে গেল সিকান্দার রাজা আর পিটার মুরের ব্যাটিংয়ে। প্রথম দিকে মোস্তাফিজের কাটারে বড্ড নাকাল দেখাচ্ছিল সিকান্দারকে। মাশরাফি, রুবেল হোসেনের বলে দুবার আকাশে বল ভাসিয়েও আউট হননি। পরে সুযোগটা কাজে লাগিয়েছেন অনিয়মিত বোলারদের উপর। ৯৯ বল খেলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৫২ রান করে সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে রান আউট হয়েছেন রাজা। মিরে ৫৮ বলে করেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩ রান।

শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ে তোলে ১৭০ রান। সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন সিকান্দার রাজা। বাংলাদেশের হয়ে সাকিব নেন তিন উইকেট। দুটি করে উইকেট নেন রুবেল ও মোস্তাফিজ। এর মধ্যে রুবেল দুই উইকেট নিয়ে নিজের একশ ওয়ানডে উইকেট পূরণ করেন। মাশরাফির পর দ্বিতীয় পেসার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন তিনি। সব মিলিয়ে ১০০-এর বেশি ওয়ানডে উইকেট নেয়া বোলারদের মধ্যে রুবেল পঞ্চম।

 

  • প্রবাস কথা ডেস্ক
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.