Featured বাংলাদেশ থেকে

‘বাস্তব জীবনের মোগলি’; আবর্জনার স্তূপ থেকে শিশু উদ্ধার

বাস্তব জীবনে ‘জাঙ্গল বুক’ এর ‘মোগলি’র সন্ধান মিললো মস্কোর একটি ফ্ল্যাট থেকে। উদ্ধারকারী দলের ভাষ্যমতে শিশুটি কথা বলতে পারে না, সেই সাথে তার পানি ভীতিও আছে। যখন শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়, তখন বাড়িতে কেউ ছিল না। সেই সাথে বিল পরিশোধ না করার কারণে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল। কন্যা শিশুটির মা বেশ কিছুদিন ধরে বাসায় ছিলো না। এতে শিশুটি পানিশূন্যতায় ভুগছিল ও বেশ  অসুস্থ হয়ে পড়ে।

শিশুটিকে যে ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেটিকে ফ্ল্যাট না বলে আবর্জনার স্তূপ বললেই বেশি মানানসই হবে। কেননা ফ্ল্যাটটি এতটাই দুষিত ছিল যে, পুলিশ সদস্যদের ’কেমিকেল প্রটেকশন স্যুট’ পড়ে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়েছিল।

আবর্জনার স্তূপ বা ঢিপির ভেতর একটি গর্তের মত জায়গা বানিয়ে তাতে বাস করতো এই ছোট্ট মোগলি। শুধু সে একা নয়, তার সঙ্গী ছিল অসংখ্য তেলাপোকা ও ক্ষুদ্র পোকামাকড়। যখন তাকে সেখান থেকে বের করা হয়, তার গলা ও গ্রীবা পর্যন্ত চারদিকে শুধু আবর্জনাই ছিল।

চিলড্রেন রাইটের এনা কুজনেতসোভার (Anna Kuznetsova) বলেন-

“আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ফল বা খাবার শিশুটিকে দেওয়া হলে সে প্রথমে গন্ধ নেওয়ার চেষ্টা করে এবং এরপর সেটি হাতে নেয়। এটি খুবই দৃষ্টিকটু। এছাড়া শিশুটি বিছনাতে ঘুমাতে পারে না। আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে তার ঘুমের অভ্যাস তৈরি করতে। এমনকি সে পানি দেখেও ভয় পায়।”

তদন্তে নিযুক্ত সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, এমন অস্বাস্থ্যকর ও দুষিত পরিবেশে বসবাসের কারণে শিশুটির ‘এনোরেক্সিয়া (anorexia) বা এক ধরণের খাদ্যাভ্যাসজনিত ভীতি বা বদ অভ্যাস তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশীরা বলছে, শিশুটির মা ৫ বছর আগে এই ফ্ল্যাটটি কিনেন। শিশুটির বাবা ইউক্রেনে থাকে। তাই শিশুটি তার মায়ের সাথেই এখানে বেশ কিছু বছর ধরে বাস করছিল। কিন্তু এরপর থেকে শিশুটিকে আর দেখা যায়নি। প্রতিবেশীদের জানানো হয় যে, শিশুটি তার নানাবাড়িতে থাকছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, শিশুটির জন্মের পর থেকে এখন পর্যন্ত বাইরের জগত দেখেনি। অর্থাৎ মানুষ কিংবা মানুষের বসবাসের পরিবেশ সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই। তবে শিশুটিকে উদ্ধারের পর তার মা ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশের পক্ষ থেকে শিশুটির মা এর বিরুদ্ধে ‘এটেম্পটেড টু মার্ডার’ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই পরিবেশে শিশুটি কিভাবে এতদিন বেঁচে ছিল, সেটিই এখন অনেকের কাছে বিস্ময়কর। সকল কিছুর ঊর্ধে গিয়ে শিশুটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই এখন চিলড্রেন রাইট ও পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.