বাংলাদেশ থেকে

ঢাকায় পানি ফোটাতে বছরে ৩৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার গ্যাস লাগে: টিআইবি

ঢাকার বাসাবাড়িতে খাবার পানি ফুটাতে বছরে পোড়াতে হয় ৩৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার গ্যাস। পানি বিশুদ্ধ করতে ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ ৩৭ হাজার ঘনমিটার গ্যাস পুড়ছে।

দুর্নীতি বিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। রোববার ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এসব জানিয়েছে টিআইবি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত বছরের এপ্রিল থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত সময়ে এই গবেষণা চালানো হয়। ঢাকা ওয়াসার ১০টি মডস জোনের আওতাধীন আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও বস্তি এলাকার পানি ও পয়ঃসংযোগ এ গবেষণার আওতায় ছিল।

গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ওয়াসার গ্রাহকদের ৫১ দশমিক পাঁচ শতাংশ বলছেন, পানি অপরিষ্কার, ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ গ্রাহক পানিতে দুর্গন্ধ থাকার কথা বলেছেন। আর ৩৪ দশমিক পাঁচ শতাংশ গ্রাহক বলছেন, সারা বছরই পানি অপরিষ্কার ও দুর্গন্ধযুক্ত থাকে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জমান বলেন,

“পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের টেকসই ব্যবস্থপনা ও প্রাপ্যতা ওয়াসা নিশ্চিত করতে পারেনি। বিশ্বের অনেক দেশেই ট্যাপ থেকে সরাসরি পানি পান করা যায়। এশিয়ারই অনেক দেশেই ট্যাপের পানি সরাসরি পান করা যায়। বাংলাদেশে আমরা ভাবতেও পারি না।”

ঢাকা ওয়াসার অনিয়মের প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাহকেদর মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ অনিয়ম, হয়রানি ও দুর্নীতির শিকার।

পানির সংযোগের জন্য ২০০ টাকা  থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। এছাড়া পয়ঃলাইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ৩০০-৪৫০০, গাড়িতে জরুরি পানি সরবরাহের জন্য ২০০-১৫০০, মিটার ক্রয়/পরিবর্তনের জন্য এক হাজার-১৫ হাজার, মিটার রিডিং ও বিল সংক্রান্ত কাজের জন্য ৫০-তিন হাজার এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে এক থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়।

প্রবাস কথা ডেস্ক 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.