Featured বাংলাদেশ থেকে

নারী কারাগারে চলছে ধোয়ামোছা

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় শুনতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদালতে যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এদিন সকাল ১১টার দিকে খালেদা জিয়া বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে উপস্থিত হবেন তিনি।

খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়-পরবর্তী সময়েকে কেন্দ্র করে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রস্তুতি রাখছে কারা প্রশাসন। রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হলে তাঁকে কোথায় রাখা হবে, সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কারা কর্মকর্তা প্রথম আলো সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া কারাগারে সর্বোচ্চ (ডিভিশন) সুবিধা পাবেন। এসব মাথায় রেখেই তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে বিষয়গুলো নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে।
কারাগারের আরেক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সাজা হলে খালেদা জিয়াকে গাজীপুরের কাশিমপুরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় নারী কারাগারে (কাশিমপুর-৩) রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। ওই কারাগারেই ভিআইপি নারী বন্দী রাখার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সেখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থাও বেশ ভালো। তবে সেখান থেকে ঢাকার আদালতে আনা-নেওয়ার পথ ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।

আবার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের নারী সেলের দোতলার ঘরগুলোতেও ধোয়ামোছার কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে চারটি বড় ঘর রয়েছে। এখানে আগে নারী বন্দীদের শিশুসন্তানেরা খেলাধুলা করত। এখন সেখানে সংস্কার চলছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার লোকজন নাজিমুদ্দিন রোডে কারা কর্তৃপক্ষের ওই প্রস্তুতি দেখে গেছেন। ভেতরে পুলিশ রয়েছে।

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের ‘রজনীগন্ধা-১’ এবং ‘রজনীগন্ধা-২’ নিয়ে হঠাৎ করেই ব্যস্ত সময় পার করছে কারা কর্তৃপক্ষ। ভিআইপি বন্দীদের জন্য দ্বিতলবিশিষ্ট এই ভবন দুটি নিয়েই এখন ব্যস্ত তারা। চুনকাম থেকে শুরু করে ভিআইপি এই সেলের সব ধরনের আসবাবপত্র ঠিকঠাক আছে কি না, এ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে কারা কর্তৃপক্ষের। নিশ্চিত করা হয়েছে নির্বিঘ্নে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের বিষয়টি।

খালেদা জিয়াকে এই কারাগারে রাখা হলে তাঁর তত্ত্বাবধানে দুজন ডেপুটি জেলার থাকবেন। একজন নারী ডেপুটি জেলার কারাগারের ভেতরে আরেক পুরুষ ডেপুটি জেলার বাইরে থাকবেন। সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসকও থাকবেন। ওই কারাগারের ভেতরে দায়িত্ব পালনের জন্য কয়েকজন দক্ষ ও পুরোনো কারারক্ষীকে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে বাছাই করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, পুরান ঢাকার বকশীবাজার নাজিমুদ্দিন সড়ক ঘিরে ৮ ফেব্রুয়ারি থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা। তবে কারাগারের কর্মকর্তাদের মতো পুলিশের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

পুলিশের লালবাগ বিভাগের একজন কর্মকর্তা গতকাল বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন বকশীবাজারের বিশেষ কারাগারের আশপাশে বিশেষ নিরাপত্তা থাকবে। এমনিতেই আদালত প্রাঙ্গণে কোনো নেতা-কর্মীকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। আর ওই দিন বকশীবাজার, পুরান ঢাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাইকোর্ট এলাকার আশপাশে কোনো নেতা-কর্মীকে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে রায়ের ওপর।

এদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রায় শুনতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বিশেষ আদালতে উপস্থিত হবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এদিন ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

১২০ কার্যদিবসের বিচারকার্য শেষ হয়েছে ২৩৬ দিনে। এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩২ জন। আত্মপক্ষ সমর্থনে গেছে ২৮ দিন। যুক্তি উপস্থাপন চলেছে ১৬ দিন। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন। গত ২৫ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য এদিন ধার্য করেন আদালত।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

 

  • প্রবাস কথা ডেস্ক

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.